ঢাকা ২৮শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৬:০২ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৮, ২০২৬
আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ
মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকীন নূর ও ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনি রায় স্বাগত বক্তব্যে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ না করায় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জামালগঞ্জ মিনি স্টেডিয়ামে ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ধর্মপাশা জনতা উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে
বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন দুই উপজেলায় ইউএনও বৃন্দ। এ সময় তারা স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের স্মরণ করলেও স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ করেননি। বিষয়টি উপস্থিতদের নজরে এলে দুই উপজেলায় দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক ছাত্রদল সভাপতি জুলফিকার চৌধুরী রানাসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী। ধর্মপাশা উপজেলায় বিএনপির নেতাকর্মী ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপি নেতা জুলফিকার চৌধুরী রানা বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতা থাকার পরেও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদানকে অস্বীকার করে উদ্দেশ্যেমূলকভাবে জামালগঞ্জ উপজেলার ইউএনও স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামটি একবারের জন্য উচ্চারণ করার প্রয়োজন মনে করেননি ইউএনও মুশফিকীন নুর । বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখ জনক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের আমল জামালগঞ্জে আসা এই উপজেলা আওয়ামী দোসর মুক্ত উপজেলা প্রশাসন চাই।
উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব শফিকুর রহমান, সাবেক সাধারন সম্পাদক শাহ্ মো: শাহজাহান, কৃষকদল সভাপতি মোবারক হোসেন-সহ বেশ কয়েকজন তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এদিকে, সেলবরষ ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক মোহাম্মদ আলী বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় নির্দিষ্ট একটি দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে স্বাগত বক্তব্যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম স্মরণ করেননি। আমরা মনে করছি প্রশাসন অত্যন্ত নির্লজ্জভাবে একটি পক্ষের হয়ে কাজ করছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদানকে অস্বীকার করার জন্য উদ্দেশ্যেমূলকভাবে উপজেলা প্রশাসন এমন একটি দিনে জিয়াউর রহমানের নামটি এড়িয়ে গেছে। তা সত্যি অত্যন্ত দুঃখজনক।
ধর্মপাশা উপজেলার বিএনপি আহবায়ক কমিটির সদস্য মজিবুর রহমান মজুমদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের মতো একটি জাতীয় ও সংবেদনশীল দিনে একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্যে এমন বিতর্ক তৈরি হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। এর চেয়েও বেশি উদ্বেগজনক বিষয় হলো- তিনি স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ প্রেসিডেন্ট মেজর জিয়াউর রহমানের নাম পর্যন্ত উল্লেখ করেননি। এটি কেবল ইতিহাসের প্রতি অবিচার নয়, বরং দেশের একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর অনুভূতিকে আঘাত করেছে।
উপজেলা বিএনপি যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল হক ও এস এম রহমত বলেন, স্বাধীনতা দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে দেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় উপেক্ষা করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। নেতা-কর্মীরা এ নিয়ে অভিযোগ তুললে বিষয়টি ইউএনও সাহেবকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুসফিকীন নুর কোন সদোত্তর দিতে পারেননি।
ধর্মপাশা উপজেলার ইউএনও জনি রায় বলেন, ‘আমি আমার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর নাম উল্লেখ করেছি। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম কেন আপনার বক্তব্যে উল্লেখ করেননি? এ বিষয়ে ইউএনও কোন সদুত্তর না দিয়ে তিনি প্রশ্নটি এড়িয়ে যান।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host