ঢাকা ১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১২:৩৮ অপরাহ্ণ, জুন ১৮, ২০২৬
মো আব্দুল শহীদ সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে সাবেক ইজারাদারের কিছু সংখ্যক দুষ্কৃতিকারী যন্ত্র ব্যবহার করে বালু উত্তোলনে বাঁধা সৃষ্টি করে ইজারাদারকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে টেলে দেওয়ার পায়তারা করছে। এদিকে সাবেক ইজারাদারের সময়ে নদীর দুই তীরে পাড়কাটার পুড়াতন ছবি ফেইসবুকে পোস্ট করে সরকারের নিয়োগকৃত বর্তমান ইজারাদারের ব্যবসার ক্ষতি সহ স্থানীয় জনগনকে খেপিয়ে তুলছেন। স্থানীয় প্রশাসন সার্বক্ষণিক নদীতে পাড়কাটার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট সহ বিজিবি,নৌ-পুলিশ,বাদাঘাট তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ সদস্যরা রাত জেগে পাহাড়া দিচ্ছেন।
সুনামগঞ্জের বালু মহাল যাদুকাটা নদীতে যন্ত্র ব্যবহারে স্থানীয় চারটি উপজেলার লাখো বারকি শ্রমিকের কর্মসংস্থান বন্ধের জন্য একটি দুষ্কৃতিকারী চক্র গত ১৯/৮/২০২৫ ইং তারিখে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন যার আপিল নং-৩৯৭৮-২০২৫ইং দায়ের করলে আদালত সেটি স্থগিত রেখে নদীতে গভীর পানি থাকায় সনাতন পদ্ধতিতে বালু উত্তোলন করতে না পারায় শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সেইভ এবং ড্রেজার মেশিন ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন আপিল বিভাগের বিচারক ফারা মাহবুব এর আদালত। রিট-পিটিশন নং-৯৯১৭/২০২৪।
এদিকে যাদুকাটা নদীর ইজারাদার নাসির মিয়া বলেন,চারটি উপজেলার প্রায় লাখো বারকি শ্রমিকের কর্মসংস্থান বন্ধের লক্ষ্যে একটি স্বর্থানেসী মহল যাদুকাটা বালু মহাল স্থগিত করার জন্য রিট পিটিশন দায়ের করলে বিজ্ঞ আপিল ব্যাঞ্চের বিচারক তা স্থগিত রেখে নদীতে গভীর পানি থাকার কারণে শ্রমিকরা সনাতন পদ্ধতিতে বালু উত্তোলন করতে না পারায় বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর আলোকে সেইভ মেশিন ব্যবহারেরর অনুমতি দিয়েছেন। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার আমলে এই দুটি বালু মহাল ৩৩ কোটি টাকায় লীজ নিয়েছিল সাবেক দুই ফ্যাসিস্ট ইজারাদার রতন মিয়া ও সেলিম আহমেদ গং। কিন্তু এবছর আমরা লীজ নিয়েছি ১০৭ কোটি টাকায়। পাশাপাশি পাড় কাটা রক্ষায় লাউড়েরগড় চরে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্বাপনের দাবি জানালে আমাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ পুলিশ ক্যাম্পের অনুমতি দেন। নদীতে প্রতিনিয়ত জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় সার্বক্ষণিক তিনজন ম্যাজিস্ট্রট,বিজিবি,নৌ-পুলিশ টহল দিয়ে থাকে। তারপরও ঐ
দুষ্কৃতিকারী খোরশেদ আলমের লোকজন লাউড়েরগড় চরের সরকারি বালু লুটপাট করে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে আদালতে পাড় কাটা সহ নদী বন্ধের জন্য রিট পিটিশন দায়ের করে। আদালতের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস যাবৎ নদী বন্ধ থাকায় আমরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। তাই গেল ছয় মাসের রাজস্ব লেছ দেওয়ার জন্য প্রশাসন সহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আকুল আবেদন জানাই।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ি জানান, সাবেক ইজারাদার যুবলীগ নেতা রতন মিয়া ও দুষ্কৃতিকারী খোরশেদ আলমের লোকজন বাঁধা প্রদান করায় সীমানা নির্ধারণেও বার বার স্থানীয় প্রশাসন ব্যাপক হয়রানির শিকার হয়েছেন। তারা আরো বলেন সাবেক দুই ইজারাদার কর্তৃক উচ্চ আদালতে রিট করে দীর্ঘ প্রায় ৫/৬ মাস যাদুকাটা নদী বন্ধ রাখে। এতে তিনটি উপজেলার প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক নৌ-শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি খুবই কষ্টে জীবন যাপন করেছেন। অনেক
জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে উচ্চ আদালতের রায় আজ কার্যকর হয়েছে। নদীতে বেশি পানি থাকায় আমাদের শ্রমিকরা সনাতন পদ্ধতিতে বালু উত্তোলন করতে পারছেন না। তাই সেইভ মেশিনেই আমাদের একমাত্র ভরসা।
শ্রমিক সংঘটনের সাধারণ সম্পাদক সর্দার বলেন,আওয়ামীলীগ সরকার আমলে দেখেছি সাবেক দুই ইজারাদার লাউড়েরগড় চর কেটে বিজিবি ক্যাম্পের নিকটে চলে গিয়েছিল। কিন্তু এখন দেখরাম স্থানীয় প্রশাসন
বর্তমান ইজারাদারকে
চর থেকে প্রায় সাড়ে সাতশত ফুট গভীর পানির মধ্যে নিমানা নির্ধারন করে দিয়েছেন। সেখানে সেইভ মেশিন ছাড়া কোন ভাবেই ডুবিয়ে বালু উত্তোলন করা সম্ভব হবে না। কিছু সংখ্যক দুষ্কৃতিকারী লোকদের কারণে দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস যাবৎ শ্রমিকরা নদীতে বালু উত্তোলনের কাজ করতে পারেননি। এতে ব্যবসায়ি,শ্রমিক এবং ইজারাদার ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। আমরা সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাই আদালতের নিষেধাজ্ঞায় ইজারাদারের গেল ছয় মাসের ক্ষয়ক্ষতি আগামীতে পুশিয়ে দেওয়ার জন্য।
তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো আমিনুল ইসলাম বলেন,পাড়কাটার ব্যাপারে ইউএনও এবং এসিল্যান্ড স্যার নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে জেল জরিমানা করছেন। পাশাপাশি আমার পুলিশ সদস্যরা সার্বক্ষণিক নদীতে টহল দিচ্ছেন।
তাহিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাহারুখ আলম শান্তুনু বলেন,পাড়কাটার বিষয়ে প্রতিনিয়ত আমরা নদীতে অভিযান পরিচালনা করছি। নদীর পাড়ে যদি একটি পিপঁড়েও থাকে তার আইন গত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তাহিরপুর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক বলেন, পাড়কাটার বিষয়ে নদীতে জিরো টলারেন্স। যে বা যারাই হোক তাদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host