শাল্লা মডেল মসজিদ নির্মাণে অনিয়মের মহোৎসব: পানির মধ্যে রড ছাড়াই চলছে রিটেইনিং ওয়ালের কাজ!

প্রকাশিত: ৮:২৫ অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০২৬

শাল্লা মডেল মসজিদ নির্মাণে অনিয়মের মহোৎসব: পানির মধ্যে রড ছাড়াই চলছে রিটেইনিং ওয়ালের কাজ!

তৌফিকুর রহমান তাহের, বিশেষ প্রতিনিধি (সুনামগঞ্জ)::
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ যেন থামছেই না।
এবার মসজিদের সুরক্ষায় নির্মাণাধীন রিটেইনিং ওয়ালের কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। শুকনো মৌসুমের দীর্ঘ সময় অলস বসে থেকে, এখন ভরা বর্ষার পানির মধ্যে তড়িঘড়ি করে অত্যন্ত নিম্নমানের কাজ চলায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
এর আগে গত ৮ জুন দেশের বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে শাল্লা মডেল মসজিদের নির্মাণকাজে নানা অনিয়মের খবর প্রকাশিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান বা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
বর্ষার পানিতে রড ছাড়াই কাজ, শুভঙ্করের ফাঁকি
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুকনো মৌসুমে কাজ না করে বর্তমানে ভরা বর্ষায় পানির মধ্যেই তড়িঘড়ি করে রিটেইনিং ওয়ালের কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। দেওয়ালে মূল নকশার (ডিজাইন) কোনো তোয়াক্কাই করা হচ্ছে না। প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম রড ব্যবহার করা হচ্ছে এবং রডগুলোও অত্যন্ত ফাঁকা ফাঁকা করে বসানো হচ্ছে। কোথাও কোথাও পানির নিচে রড ছাড়াই ঢালাই দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা।
সাইটে নেই প্রকৌশলী, শ্রমিকদের খেয়ালখুশিতেই কোটি টাকার প্রকল্প
সরেজমিনে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি প্রকল্পের নির্মাণস্থলে কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী বা তদারকি কর্মকর্তা উপস্থিত থাকেন না। শ্রমিকরা সম্পূর্ণ নিজেদের খেয়ালখুশিমতো কাজ পরিচালনা করছেন।
সাইটে কর্মরত কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে কথা বললে তারা স্বীকার করেন যে, ঈদুল আজহার ছুটির পর থেকে কোনো প্রকৌশলী সাইটে আসেননি। তারা নিজেদের মতো করেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। রডের দূরত্ব অস্বাভাবিক বেশি হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সাইটে থাকা এক দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি দায়সারা জবাব দিয়ে বলেন,কিছু জায়গায় রড একটু ফাঁকা হয়েছে, পরে ঠিক করে দেওয়া হবে।
প্রশাসনের কঠোর হুঁশিয়ারি
এ বিষয়ে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “মডেল মসজিদের কাজে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।”
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সাইটে উপস্থিত ফোরম্যানকে ডেকে পাঠান এবং নির্মাণকাজ যথাযথ নিয়ম ও মান বজায় রেখে সম্পন্ন করার কঠোর নির্দেশ দেন। অন্যথায় কাজ বন্ধসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
হস্তক্ষেপ চায় সচেতন মহল
এদিকে, রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধ এবং ধর্মীয় এই প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী সুরক্ষার স্বার্থে প্রকল্পটিতে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর