সরকার দাম কমালেও প্রভাব পড়েনি বাজারে

প্রকাশিত: 12:10 AM, September 7, 2026

সরকার দাম কমালেও প্রভাব পড়েনি বাজারে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

নিত্যপণ্যের মূল্য কমার নজির খুবই কম। এরমধ্যেও সরকার জরুরি কোন পণ্যের দাম কমানোর উদোগ নিলে সাধারণ মানুষকে এর সুফল ভোগ করতে দেয় না মধ্যস্বত্বভোগীরা। সর্বশেষ গেল বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সরকার সাধারণ মানুষের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় জ¦ালানি এলপিজি গ্যাসের দাম কমিয়েছে। কিন্তু সুনামগঞ্জের কোথাও এর দাম কমেছে এমন উদাহরণ খুঁজে পাওয়া যায় নি। রবিবার সুনামগঞ্জ শহর এবং বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার কিছু এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ঠিক আগের মতোই বিক্রয় হচ্ছে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার। অথচ সরকার প্রতি কেজি এলপিজির দাম এক টাকা তিন পয়সা কমিয়ে নয়া মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে।

 

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গেল বুধবার সন্ধ্যা থেকে প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১৩২ টাকা ১২ পয়সা অর্থাৎ প্রতি কেজিতে ১ টাকা ৩ পয়সা কমানো হয়েছে। এতে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক হাজার ৫৯৮ টাকা থেকে এক হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। নতুন দামে আগস্টের তুলনায় ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমেছে। গেল মাসে এর দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার ৫৯৮ টাকা।

সুনামগঞ্জের বাজারে এর সুফল মিলছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভোক্তারা। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে ১২ কেজির এলপি গ্যাস বিক্রি করছেন অনেক খুচরা ব্যবসায়ীরা। এক হাজার ৬৫০ থেকে এক হাজার ৭০০ টাকা দামে বা তার চেয়েও বেশি দামে গ্যাস বিক্রয় হচ্ছে। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি অর্থ গুনতে গিয়ে ত্যাক্ত বিরক্ত ভোক্তারা।

ডিলারের কাছ থেকে গ্যাস কেনার পর পরিবহন, দোকান খরচসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে কেউ কেউ নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশি নিচ্ছেন। গ্রামাঞ্চলের কোনো কোনো এলাকায় ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে।

 

সুনামগঞ্জ শহরের মধ্যবাজারের এক খুচরা গ্যাস বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বললেন, তাদের কাছে আগের থাকা কিছু গ্যাস সিলিন্ডার এবং বেশি দামে কেনা, তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
নবীনগরের বাসিন্দা সবুজ বর্মন মধ্যবাজার থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা দিয়ে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনেছেন। এই প্রতিবেদককে তিনি বললেন, ‘সরকার গ্যাসের দাম কমিয়েছে। কিন্তু বাজারে এক দোকানের সঙ্গে আরেক দোকানের দামেরও মিল নেই। দুই—তিনটি দোকান ঘুরে শেষ পর্যন্ত এক হাজার ৭০০ টাকা দিয়ে গ্যাস কিনতে হয়েছে।

 

তিনি বললেন, ‘সরকারের নির্ধারিত দাম যদি এক হাজার ৫৮৫ টাকা হয়, তাহলে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কারণ কী—এটি সংশ্লিষ্টদের দেখা উচিত।’
জামতলার বাসিন্দা সজীব আহমেদ বলেন, গ্যাসের দাম কমলেও দোকান থেকে এক হাজার ৬৫০ টাকার নিচে গ্যাস কেনা যাচ্ছে না। দাম বেশি নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে দোকানদাররা বলছেন, এগুলো পুরোনো সিলিন্ডার এবং বেশি দামে কেনা। এই গ্রাহকের মন্তব্য সরকার দাম কমালেও বিক্রেতা সিন্ডিকেট আমাদেরকে সেই ফল ভোগ করতে দেয় না।
মধ্যবাজারের খুচরা গ্যাস ব্যবসায়ী তোফাজ্জল ইসলাম বললেন, একেক সময় একেক দামে গ্যাস বিক্রয় করতে হয়। ডিলারের কাছ থেকে গ্যাস কিনে ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেশি দামে বিক্রয় করেন তিনি। বর্তমানে ১২ কেজির সিলিন্ডার এক হাজার ৬০০ থেকে এক হাজার ৬৫০ টাকায় বিক্রি করছেন।ইতিহাসের বই পড়ুন

গ্যাস সিলিন্ডার কেনা বেছার মেমো দেন কী— না জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিছুদিন আগে ডিলারের কাছ থেকে বেশি দামে গ্যাস কেনার পর মেমো চাইলে তাকে মেমো দেওয়া হয় নি। উল্টো বলা হয়েছিল, মেমো দেওয়া যাবে না—গ্যাস নিলে নেন, না নিলে নাই। তবে অনেক সময় ক্রেতারাও মেমো চান না বলে

এদিকে মধ্যবাজারে থাকা এলপি গ্যাসের ডিলার মেসার্স ফারজানা মেশিনারীজ’এর ম্যানেজার স্বাধীন বললেন, সরকার নির্ধারিত দামে এক হাজার ৫৮৫ টাকায় গ্যাস বিক্রি করছি। বেশি দামে বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই মাসের আগে ১২ কেজির গ্যাস এক হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। এখন সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রয় হচ্ছে।
এলপিজি গ্যাস বিক্রির পর ক্রেতাদের মেমো না দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, এটি মিথ্যা কথা। আমরা সবাইকে মেমো দেই। মেমো দিলে ব্যবসার প্রচার ও বিশ্বাসযোগ্যতার দিক থেকেও ভালো হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।স্থানীয় ট্যুর খুঁজুন

 

জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাজারেও একই চিত্র দেখা গেছে। খুচরা বিক্রেতারা এক হাজার ৬৫০ থেকে এক হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত ১২ কেজি সিলিন্ডারের গ্যাস বিক্রি করছেন ।
উপজেলার নতুনপাড়া এলাকার ব্রয়লার এন্ড মুদি স্টোরে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে মেঘনা গ্রুপের ১২ কেজি ওজনের ‘ফ্রেশ’ এলপিজি সিলিন্ডার এক হাজার ৭০০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।
সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রির কারণ জানতে চাইলে দোকানের মালিক লিটন আহমেদ দাবি করেন, তিনি প্রতি সিলিন্ডার এক হাজার ৬০০ টাকা দরে পাইকারি কিনছেন। অবশ্য ক্রয়ের কোনো ভাউচার বা চালান তিনি দেখাতে পারেন নি।

লিটন আহমেদের কাছে গ্যাস বিক্রি করা সুনামগঞ্জ শহরতলির রাধানগর পয়েন্ট এলাকার মেসার্স তাওসিফ গ্যাস হাউস নামের ডিলারের কাছে গিয়ে এই বিষয়ে জানতে চাইলে, সেখানে থাকা মুকসুদ আলী নামে একজন বলেন, ১২ কেজির প্রতি সিলিন্ডার লিটন আহমেদের কাছে এক হাজার ৫৬০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে।

এই উপজেলার পলাশ বাজারের রফিক স্টোরে গিয়ে দেখা যায়, একই কোম্পানির ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডার এক হাজার ৬৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন দোকানের মালিক রফিকুল ইসলাম।
রফিকুল ইসলাম বলেন, তারা ডিলারের কাছ থেকে প্রতি সিলিন্ডার এক হাজার ৫৭০ টাকা দরে কিনেছেন। এ সময় রফিক স্টোরে থাকা বিশ্বম্ভরপুরের গ্যাস ডিলার ভাই ভাই গ্যাসের মো. সুমন মিয়ার উত্তর কোম্পানি যে দরে তাদের কাছে গ্যাস সরবরাহ করছে, সেই অনুযায়ী তারা এক হাজার ৫৭০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।

খুচরা দোকানদাররা তাহলে কত দামে গ্যাস বিক্রি করবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে সুমন মিয়া বললেন, তারা এক হাজার ৬৫০ টাকা দরে বিক্রি করবেন।
নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রির বিষয়ে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অফিসের সহকারী পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম মাসুদ বললেন, এলপিজি গ্যাস বিক্রয় করতে চাইলে সরকারের নির্ধারিত দামেই বিক্রয় করতে হবে। তিনি বলেন, ভাউচারসহ বেশি বিক্রয়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে অভিযান পরিচালনা হবে বলেও জানান তিনি।ডিজিটাল ম্যাপ দেখুন

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর