ফায়ার সার্ভিসের সেবার মান বিশ্বমানে উন্নীত করার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর

প্রকাশিত: 6:04 PM, October 27, 2026

ফায়ার সার্ভিসের সেবার মান বিশ্বমানে উন্নীত করার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর
নিজস্ব প্রতিবেদকঃফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সেবার মান উন্নত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি এ প্রতিষ্ঠানের সেবার মানকে বিশ্বমানে পরিণত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে সিলেট নগরের তালতলায় সিলেট সদর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের নির্মাণকাজ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ফায়ার সার্ভিসের সেবাপ্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি হিসেবে তিনি সেবার মান উন্নয়ন ও প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে কাজ করছেন।

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নাগরিকসেবা ও সুযোগ-সুবিধার মান উন্নত করতে হবে। সিলেটের বিপুলসংখ্যক মানুষ দেশে-বিদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পৃক্ত। এ কারণে নগরবাসীর জন্য আধুনিক ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা জরুরি।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ আর তিন বছর পর স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণ করবে। এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নাগরিকসেবা ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়াতে হবে। সিলেটে জনসংখ্যা ও বসতির ঘনত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক নাগরিকসেবার প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে।

তিনি বলেন, সিলেট ও এ অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ দেশের বাইরে বসবাস করেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকসেবা সম্পর্কে তাঁদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে। এমন একটি শহরে নাগরিকসেবা কাঙ্ক্ষিত মানে না থাকলে তা গ্রহণযোগ্য নয়। তাই আধুনিক ও নিরাপদ নগর গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে।

সিলেট সদর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি ১৫ মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনোভাবেই এ সময়সীমা ব্যাহত করা যাবে না। কারণ, এই প্রকল্পের সঙ্গে পুরো জনপদের নিরাপত্তা জড়িত।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যদের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তাঁরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় কাজ করেন। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সময় তাঁদের প্রাণও দিতে হয়। তাঁদের শ্রম, নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্যোগে ঝুঁকি নিয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

তিনি বলেন, ১৯৩৯-৪০ সালের দিকে ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রমের সূচনা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পরবর্তী সময়ে ১৯৮১ সালে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সিভিল ডিফেন্স যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে এর কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়।

সিসিক প্রশাসক বলেন, বাণিজ্যিক ভবন, কলকারখানা ও আবাসিক স্থাপনাসহ নগরজীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই ফায়ার সার্ভিসের গুরুত্ব অপরিসীম। সিলেটে এ বাহিনীর কার্যক্রম আরও গতিশীল করা প্রয়োজন। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন নতুন স্টেশন চালু হলে নগরবাসীর জরুরি নিরাপত্তাসেবা আরও শক্তিশালী হবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি ও অন্য অতিথিরা ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে স্টেশনটির নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন। পরে মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার এবং গণপূর্ত অধিদপ্তর সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী ওয়াসিফ আহমদ।

এ সময় সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর