ঢাকা ২রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৪:৫৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ২, ২০২১
মাহফিল থেকে ফিরে মো. মঈন উদ্দিন মিলন
বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর তীরে অবস্থিত চরমোনাই ইউনিয়ন। দেশ বিদেশে যার ব্যাপক পরিচিতি চরমোনাই নামে। বুধবার বাদ যোহর সেখানে বাৎসরিক মাহফিলের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। শেষ হয় গত শবিবার হেদায়তী বয়ান ও আখেরী মুনাযাতের মাধ্যমে। উদ্বোধনী বয়ানে মুফতি আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতী সৈয়দ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই (দা.বা.) বলেন, হাদিসে আছে, রাসূল সা. বলেছেন ইন্নামাল আ’মালু বিন্নীয়্যাত অর্থাৎ সকল কাজের ফলাফল তার নিয়্যতের উপর নির্ভরশীল। অতএব, আমাদের সকলের নিয়ত সহিহ থাকতে হবে। ভালো কাজের আগে নিয়ত সহিহ থাকলে তা পূরণ হবেই। এই যেমন, আজ যারা এখানে জমায়েত হয়েছেন, তারা কিন্তু সব এই এলাকার বা একই এলাকার না। অনেক দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছেন শুধুমাত্র নিয়্যত সহিহ থাকার কারণেই।
এক এক করে ৫টি মাঠের ময়দান লক্ষ্য লক্ষ্য মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত আমার বাবাজীরা ভাইয়েরা, এত কষ্ট করে চরমোনাই ময়দানে আসছেন। অনেকে অনেক নিয়্যতে আসছেন, কেউ আসছেন দেখার জন্য, কেউ আসছেন বুঝার জন্য। যে যেভাবেই আসেন না কেন আল্লাহতা’লা যেহেতু নিয়াই আসছেন, সেহেতু দিলটাকে খালেস করে তিন সাড়ে তিনদিন সময়টুকু লাগাইয়া চরমোনাই ময়দানে কি হয় বা না হয় অন্তত ইতিহাসটুকু জানা দরকার।’
তিনি বলেন, ‘চরমোনাই একটি ইউনিয়নের নাম চতুর্দিকে নদীবেষ্টিত এরই মধ্যে হযরত মাওলানা আহসান উল্ল্যা রহ. মক্তব আকারে কোরআন শিক্ষার যাত্রা শুরু।পরবর্তীতে আমার দাদাজান রহ. হযরত মাওলানা ইসহাক রহ. আল্লাহভোলা মানুষদের আল্লাহর সাথে সম্পর্ক জুড়াইয়া দেবার জন্য এই মেহনতের শুরু।’ তিনি আরো বলেন, ‘চরমোনাইতে কোন উরস হয়না উরস অর্থ আনন্দ। আর চরমোনাই হলো কান্নাকাটি করিয়া আল্লাহভোলা মানুষদের আল্লাহকে সঠিকভাবে জানা ও চেনা।’
দ্বিতীয় অধিবেশনে পীর সাহেব চরমোনাই দা. বা. শরীয়ত ও তরীকত সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ নসীহত পেশ করেন। শরীয়ত বাহ্যিক তরীকত অন্তর্নিহিত। সেইজন্য পরিপূর্ণ ঈমানদার মুসলমান হতে হলে শরীয়ত তরীকতের গুরুত্ব অপরিসীম বলে তিনি অবহিত করেন।
দ্বিতিয় দিনে নসীহত পেশ করেন নায়েেেব আমীর মুফতী ফয়জুল করীম শায়েখে চরমোনাই। তিনি বলেন, ‘হেফাজতের সাথে আমাদের নিবিড় সম্পর্ক, ঈমানী জজবায় আমরা সবাই হেফাজত আর রাজনীতির ময়দানে আমরা সবাই হাতপাখা।’
তাছাড়া বার্ষিক মাহফিলের দ্বিতীয় দিন দেশের শীর্ষস্থানীয় উলামা মশায়েখ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের শীর্ষ উলামায়ে কেরামদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা নুরুল ইসলাম জিহাদী (দা. বা.), হুফফাজুল কোরআনের প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা আবদুল হক্ব সাহেব (দা.বা.) উজানী পীর সাহেব আল্লামা মাহবুবে এলাহী (দা.বা.), হাফেজ্জী হুজুর রহ. এর জামাতা ও খলিফা মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ (দা.বা.) ড. আ.ফ.ম খালেদ হুসাইন (দা.বা.) চট্টগ্রাম, হযরত মাওলানা হাফীজুর রহমান ছিদ্দীক (দা. বা.) কুয়াকাটা, আল্লামা মুফতি আজিজুর রহমান মাওলানা গোলামুর রহমান (দা.বা.), মুহতামিম, ইমদাদুল উলুম, খুলনা, শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফি রহ. এর খলিফা মুফতি ওমর ফারুক সন্ধীপী (দা. বা.)।
শেষ অধিবেশনে পীর সাহেব চরমোনাই সবক প্রদান, বায়াত গ্রহণ, দেশবাসীসহ বিশ্বের মুসলমানদের জন্য কায়মনোবাক্যে মুনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্তি হয়।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host