সিলেটে ওএমএস পণ্যের জন্য নারী-পুরুষের দীর্ঘ সারি

প্রকাশিত: ১০:৪৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২১, ২০২৪

সিলেটে ওএমএস পণ্যের জন্য নারী-পুরুষের দীর্ঘ সারি

নিজস্ব প্রতিবেদক
সকাল ৬টা বেজে ১৫ মিনিট, আকাশে সূর্য ভালো করে উঠেনি। বৃহস্পতিবার সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের উত্তর দিকে সারি ধরে দাঁড়িয়ে বা মাটির উপর বসে রয়েছেন একদল নারী। তাদের অপেক্ষার কারণ একটাই, সকাল নয়টার খোলাবাজারের (ওএমএস) ট্রাকের। নারীদের সারির উত্তর পাশে পুরুষের সারি যা ছিল সম্পূর্ণ ফাঁকা। তবে কাছে গিয়ে দেখা যায় মাটিতে দাগ আঁকা। সেই সময় পাশের চায়ের স্টলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পুরুষেরা মাটিতে দাগ দিয়ে সিরিয়াল দিয়ে নিজেদের কাজকর্ম করছেন।

 

দোকানের পাশে মুহিবুল ইসলাম নামে একজন দাঁড়িয়ে ছিলেন, তার সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি ৬ নাম্বার সিরিয়াল নিয়েছেন। তার ভাষ্যমতে এক নম্বরে থাকা ব্যক্তি নাকি রাত সাড়ে তিনটায় এসেছেন বলে শুনেছেন। মুহিবুর রহমান বলেন, আলিয়া মাঠসংলগ্ন বাসাবাড়ির লোকজন ও পাশের মাইক্রোবাসস্ট্যান্ডের চালকেরা সকাল সকাল এসে সারিতে দাগ এঁকে চলে যান। এ জন্য নগরের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা লোকজন সারির পেছনে পড়ে যান। চাল ও আটা নিয়ে সকাল নয়টার দিকে ট্রাক আসে। এরপর বিক্রি শুরু হয়। ভোরে এলেও দুই থেকে তিন ঘণ্টা সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।জন্য দাগ এঁকে আশপাশে একটু হাঁটাহাটি করেন অনেকে।

 

নারীদের সারির প্রথম দিকে দাঁড়িয়ে থাকা নগরের মজুমদারি এলাকার সাবিনা বেগম (২৭) বলেন, সপ্তাহে দুবার তিনি ওএমএসের চাল ও আটা কিনতে আসেন। পাঁচ সদস্যের সংসার স্বামীর দিনমজুরি ও তাঁর টেইলার্সের কাজের আয় দিয়ে চলে। বাজারে চাল-আটার দাম বেশি থাকায় এখান থেকে কেনেন। তিনি বলেন, গত সপ্তাহে দুবার সকাল ১০টায় এসে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করেও খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। এ জন্য ফজরের আজানের পরপরই মাকে নিয়ে চলে আসেন। মাঠে এসে নারীদের সারিতে কাউকে পাননি। তবে পুরুষের সারিতে তিন থেকে চারজনকে পেয়েছেন।

 

সকাল ১০টার দিকে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে গিয়ে দেখা গেল, ওএমএসের ট্রাকের পেছনে পুরুষ ও নারীদের সারি দীর্ঘ হয়েছে। পুরুষের তুলনায় নারীদের সংখ্যা বেশি।সকাল ১০টায় ৫৫ জনকে চাল ও আটা দেওয়া হয়েছিল।

 

সারিতে দাঁড়ানো ব্যক্তিরা বলেন, যে পরিমাণ আটা ও চাল দেওয়া হয়, তা চাহিদার তুলনায় কম। ট্রাকে বিক্রির তিন-চার ঘণ্টার মধ্যে শেষ হয়ে যায়। এ জন্য সারিতে কয়েক ঘণ্টা দাঁড়িয়েও অনেককে খালি হাতে ফিরতে হয়। ক্রেতারা ওএমএসের মালামাল বাড়ানোর দাবি জানান।

 

জেলা খাদ্য কার্যালয়ের উপপরিদর্শক (তদারকির দায়িত্বে)সুমন গোপের সাথে কথা বলে জানা যায়,বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সারি বাড়তে থাকে। একজন ডিলারের এক টন চাল ও এক টন আটা বরাদ্দ থাকে।সল্পতার কারণেই সবাইকে দেওয়া সম্ভব হয় না, এ জন্য অনেককে খালি হাতে ফিরে যেতে হয়।

 

সিলেট জেলা খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহে পাঁচ দিন করে সিটি করপোরেশনের ২১টি পয়েন্টে ওএমএসের পণ্য বিক্রি করা হয়। বর্তমানে প্রত্যেক ডিলারকে এক টন করে চাল ও আটা দেওয়া হয়। একজন ক্রেতা ২৪ টাকা কেজি দরে পাঁচ কেজি আটা ও ৩০ টাকা দরে পাঁচ কেজি চাল কিনতে পারেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর