ঢাকা ২রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১:২১ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৪
বিজয়ের কণ্ঠ ডেস্ক
সিলেটে লন্ডন প্রবাসী সোমা মাহমুদের সিলেট সদরস্থ বাড়ীতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করেছে এলাকার বিক্ষুব্ধ ধর্মপ্রাণ তৌহীদি জনতা এবং মসজিদের ইমাম, খতীব, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় নেতারা মিলে। এতে সোমা মাহমুদের বাব-মা মারাত্মকভাবে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী সোমা মাহমুদ সিলেট সদরের শিবগঞ্জ এলাকার মাহমুদুর রহমান ও জমিরুন নেসার দ্বিতীয় সন্তান। সোমা মাহমুদ উচ্চ শিক্ষা লাভের উদ্দেশ্যে গত ২০২১ সালে লন্ডনে পাড়ি জমান এবং লন্ডনে একজন বাঙ্গালী ছেলের সাথে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এই বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কারণে তিনি গর্ভবতী হয়েছিলেন এবং সম্প্রতি একটি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। এই খবর এলাকায় প্রচারিত হলে স্থানীয় কাউন্সিল, ধর্মপ্রাণ তৌহীদি জনতা ,মসজিদের ইমাম, খতীব, মুয়াজ্জিন এবং হেফাজতে ইসলামের সমর্থকরা প্রচন্ড রকমে ক্ষুব্ধ হয়ে সোমা মাহমুদের সিলেট সদরের বাড়িতে হামলা চালায়।
সোমা মাহমুদের এক প্রতিবেশী আবুল মিয়া জানান যে, সোমা লন্ডনে গিয়ে একজন বাঙ্গালী ছেলের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং তারা বিবাহ বহির্ভূত ভাবে বসবাস করতে থাকেন।এমনকি সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে সোমার পরিবারের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেয়া হয় যে তাকে পরিবারে ও এলাকায় কোনো আশ্রয় দেওয়া হবে না ।পরবর্তীতে সোমার পিতা-মাতা মেয়েকে ত্যাজ্য করেন এবং মেয়ের সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করেন। পরে অবশ্য সোমার আত্মীয় স্বজন অবগত হলে সোমাকে পারিবারিক ও ইসলামিক অনুশাসন অমান্য করার জন্য চরমভাবে শাসায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আত্মীয় বলেন, সোমার ঘনিষ্ট আত্মীয়রা সোমা ও তার নবজাতকে বাংলাদেশে এনে হত্যা করার গোপন পরিকল্পনা করেছে এবং অন্যান্য আত্মীয়রা সেই জন্য সোমাকে দেশে আসতে বারণ করেছে। গত কয়েক দিন আগে সোমার বাচ্চা জন্ম দেওয়ার খবর এবং দেশে যাওয়ার খবর প্রকাশিত হলে তা ক্রমশ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে স্থানীয় কাউন্সিল ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গ এবং ধর্মীয় নেতারা ক্ষুব্ধ হয়ে এলাকার তৌহীদি জনতাকে একত্র করে গত ২৪শে সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৮টার সময় সোমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা প্রথমে বাড়ির আসবাব পত্র ভাংচুর করে ও সোমার বাবা মাকে মারাত্মক ভাবে লাঞ্ছিত করে। ফলে সোমার পিতা মাতা আহত হন এবং আত্মীয় স্বজনরা তাদের কে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করলে সেখানে তাদের চিকিৎসা হয়।
স্থানীয় কাউন্সিল,এর কাছে এই হামলা সম্পর্কে জানতে চাইলে, তিনি বলেন সোমা মাহমুদের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ও অবৈধ সন্তান প্রসব আমাদের মুসলিম সমাজে মারাত্মক নেগেটিভ প্রভাব ফেলবে এবং এটা শরীয়াহ আইনের চরম লঙ্গন যা ক্ষমার অযোগ্য। এই সংবাদের স্থানীয় ক্ষুব্ধ হয়ে সোমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে।
এলাকার একজন জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সোমা ও তার সন্তান কোন অবস্থায় দেশে আসলে তাদেরকে হয় পরিবারের লোকেরা না হয় সমাজের ধর্মপ্রাণ তৌহীদি জনতা এবং ধর্মীয় নেতারা তাদেরকে হত্যা করে ফেলবে। অনেকে ঘোষণা দিয়েছে যে সোমা ও তার নবজাতক কে জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে অন্যান্য যুবসমাজের কাছে একটা দৃষ্টান্ত রাখতে হবে।
এ ব্যাপারে সিলেট সদর থানার কর্তব্যরত পুলিশ পরিদর্শকের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এ ব্যাপারে থানায় কোন মামলা রুজু করা হয়নি।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host