ঢাকা ৯ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৬:১৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৬, ২০২৬
তৌফিকুর রহমান তাহের, সুনামগঞ্জ
শাল্লায় এখন পর্যন্ত ১২৪টি পিআইসির কাজ শুরুই হয়নি। এমন তথ্যই জানিয়েছেন খোদ পিআইসি কমিটির লোকজন। গত ১৫ ডিসেম্বর লোক দেখানো ১টি পিআইসি ও ৪ জানুয়ারি বরাম হাওর উপ প্রকল্পের ৪০নং পিআইসির উদ্বোধন ছাড়া অন্য ১২৪টি প্রকল্পের আর কোনও অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি। এমনকি বেশ কয়েকটি প্রকল্পে এখন পর্যন্ত পিআইসি কমিটি গঠন প্রক্রিয়া পর্যন্ত থমকে আছে। এনিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাল্লা শাখা কর্মকর্তা ওবাইদুল রহমান জানান পিআইসির কাজ শুরু হয়েছে ১০টি প্রকল্পে। এরমধ্যে বেশ কয়েকটি পিআইসি কমিটি গঠনও বাকি আছে। তবে বরাম হাওরের পাঠাখাউরি প্রকল্প থেকে সব প্রকল্পে কাজ শুরু হয়েছে বলে দাবি করেন পাউবো’র ওই শাখা কর্মকর্তা। অথচ বরাম হাওরের পাঠাখাউরি (ক্লোজার) প্রকল্পে ৪ জানুয়ারি রোববার থেকে মাত্র উদ্বোধন করা হয়েছে বলে জানান ওই ৪০নং প্রকল্পের সভাপতি শৈলেন দাস। তিনি বলেন আমার প্রকল্পে (৪ জানুয়ারি) থেকে বাঁধে মাটি কাটার কাজের উদ্বোধন হয়েছে। আমার প্রকল্প ছাড়া বরাম হাওরে আর কোনও প্রকল্পে কাজ শুরু হয়নি বলে জানান শৈলেন দাস। প্রকল্পের সদস্য সচিব লোকেশ দাসও একই কথা জানান। লোকেশ দাস বলেন আমাদের বারাম হাওরে ৪০নং পিআইসির ৬০মিটার বাঁধে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৩৮লাখেরও বেশি টাকা। তিনি আরও বলেন একই মেশিনে ১২৪ নং পিআইসির কাজও করবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কৃষকর জানান বরাম হাওরে ১০টা পিআইসির মাধ্যে একটা পিআইসির বাঁধেও কাজ শুরু হয় নাই। এসও মিথ্যাচার করছেন বলে অভিযোগ তাদের।
অন্যদিকে গত ১৫ডিসেম্বর উদ্বোধন হওয়া ২৭নং পিআইসির কাজও অসমাপ্ত রেখে অপারগতা প্রকাশ করেছেন স্বয়ং পিআইসির সভাপতি। এবিষয়ে ভান্ডাবিল হাওর উপ প্রকল্পের ২৭নং পিআইসির সভাপতি কালাবাসী দাস বলেন আমাকে শুরুতে যতটুকু বাঁধের জায়গায় মাটি কাটার কথা বলা হয়েছে এখন তার চেয়েও কয়েকশো মিটার বেশি কাজ করার কথা বলা হয়েছে। ওই বাড়তি অংশে কাজ করলে আর্থিক ক্ষতিরমুখে পড়বেন বলে জানান তিনি। তবে শাখা কর্মকর্তা এসও ওবাইদুল রহমান বলেন ২৭ নং পিআইসি জানিয়েছেন তারা মাটি কাটার সমস্যায় পড়েছেন। তারা যতটুকু কাজ করবেন ততটুকুই বিল পাবেন। এমন পরিস্থিতিতে বাঁধের বাকি অংশের কাজ কারা করবেন এটি ঠিক করবে উপজেলা কমিটি। অন্যদিকে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ মেরামতের কাজে পিআইসি এবং দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মধ্যে শুরুতেই এসব টানাপোড়েনের ঘটনা নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে তৈরি হয়েছে শঙ্কা। হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ সংস্কার কাজের ধীর দেখে সচেতন সমাজও উদ্বেগ জানিয়েছেন।
এব্যাপারে উপজেলা কাবিটা স্কীম প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সভাপতি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সব প্রকল্পের কাজ শুরু করব আমরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করতে পারবেন বলে জানান তিনি।
জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ সংস্কার কাজে উপজেলার ৬টি হাওরে ৮৬ কিলোমিটার বাঁধের ভাঙাবন্ধকরণ ও মেরামত কাজের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২৯কোটি টাকারও বেশি। বিপরীতে পিআইসি কমিটি গঠন করা হয়েছে ১২৬টি।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host