সাত বিষয়ে নির্বাচনি পরীক্ষায় ফেল
শিক্ষকের কক্ষে বিএনপি নেতার ছেলের তালা, নেয়া হয়নি ব্যবস্থা

প্রকাশিত: ৬:৪৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৭, ২০২৬

<span style='color:#077D05;font-size:19px;'>সাত বিষয়ে নির্বাচনি পরীক্ষায় ফেল</span> <br/> শিক্ষকের কক্ষে বিএনপি নেতার ছেলের তালা, নেয়া হয়নি ব্যবস্থা

বিজয়ের কণ্ঠ ডেস্ক
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় এসএসসির নির্বাচনি পরীক্ষায় সাত বিষয়ে ফেল করায় মূল পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ না পেয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) উপজেলার লিয়াকতগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজে এ ঘটনা ঘটে। তালা দেয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় উঠে। তবে বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এমনকি স্কুলের অনেক শিক্ষক ভয়ে স্কুলে আসেননি।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মো. আরিফ ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। সে লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের বিএনপি নেতা ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি আব্দুল আজিজের ছেলে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এসএসসি পরীক্ষার আগে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি পরীক্ষায় আরিফ সাত বিষয়ে অকৃতকার্য হয়। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চারটির বেশি বিষয়ে ফেল করলে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের দাবিতে মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) সকালে আরিফ স্কুলে এসে শিক্ষকদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে।

এক পর্যায়ে সে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হাসিনা মমতাজের সঙ্গে অসদাচরণ করে এবং প্রধান শিক্ষকের কক্ষসহ একটি কক্ষে তালা লাগিয়ে দেয়। এ সময় স্কুল বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারিও দেয় সে। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার ভিডিও ধারণ করায় এক শিক্ষককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজও করে আরিফ।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হাসিনা মমতাজ বলেন, ‘নির্বাচনি পরীক্ষায় চারটির বেশি বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের মূল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছে। আরিফ সাত বিষয়ে ফেল করায় তাকে সুযোগ দেওয়া হয়নি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সে শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ করে এবং কক্ষে তালা দেয়।’

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আরিফ দাবি করে বলে, ‘সব বিষয়ে পাস করা ১৬ জন ছাড়া কাউকে পরীক্ষা দিতে দিলে আমাদেরও সুযোগ দিতে হবে। আমরা বারবার দাবি জানিয়েছি, কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে তালা দিয়েছি।’

এদিকে শিক্ষার্থীর বাবা আব্দুল আজিজ বলেন, ‘আমি এ ঘটনার বিষয়ে অবগত নই। আমার ছেলে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয়।’

এ বিষয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে জানান, বিষয়টি নজরে আসার সাথে সাথে আমরা তদন্ত করে দেখতেছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুনেছি সে বিএনপি নেতার ছেলে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর