হাড়কাঁপানো শীত উপেক্ষা করে বোরো আবাদে ব্যস্ত কৃষকগণ

প্রকাশিত: ৬:৪৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১, ২০২৬

হাড়কাঁপানো শীত উপেক্ষা করে বোরো আবাদে ব্যস্ত কৃষকগণ

হাফিজুর রহমান, শাল্লা
পৌষের কনকনে ঠান্ডা আর ঘন কুয়াশাÑপ্রকৃতির এই রুক্ষতাকে জয় করে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার হাওড়গুলোতে এখন বোরো আবাদের উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। হাড়কাঁপানো শীত উপেক্ষা করে কাকডাকা ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ধান চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকরা। জীবন-জীবিকার তাগিদে বৈরী আবহাওয়া তাদের কাছে যেন আজ হার মেনেছে।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সরেজমিনে শাল্লার বিভিন্ন হাওড় ঘুরে দেখা যায়, হাড়কাঁপানো শীতের মধ্যেও কৃষকরা কাদা-জলে নেমে জমি তৈরি করছেন। কেউ বীজতলা থেকে ধানের চারা তুলছেন, কেউবা সেই চারা আঁটি বেঁধে কাঁধে করে নিয়ে যাচ্ছেন প্রধান জমিতে। ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলারের শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে মাঠের পর মাঠ। কৃষকদের চোখে-মুখে ফুটে উঠেছে আগামীর সোনালী স্বপ্নের ঝিলিক।

শীত নিয়ে ইউনিয়নের শান্তিপুর গ্রামের কৃষক মোঃ দুলাল মিয়া, আইনুল হক, মোঃ হারিছ মিয়া, কান্দখলা গ্রামের রাখাল এবং সুখলাইন গ্রামের বিপ্লব চন্দ্র দাসের সঙ্গে উপজেলা সদরে অবস্থিত ঘুঙ্গিয়ার গাঁও বাজারে কথা হলে তারা বলেন, ‘শীত অনেক বেশি, হাত-পা জমে যায়। কিন্তু ঘরে বসে থাকলে তো আর পেট চলবে না। হাওড়ের একমাত্র ফসল এই বোরো ধান। সঠিক সময়ে চারা রোপণ করতে না পারলে ফলন ভালো হবে না, তাই কষ্ট হলেও আমরা মাঠে নেমেছি।’

একই সুর শোনা গেল ঘুঙ্গিয়ারগাঁও মুসলিম পাড়ার প্রবীণ ব্যক্তিত্ব মোঃ রফিক মিয়া এবং স্থানীয় লেপ-তোশক ব্যবসায়ী আব্দুল কালাম পন্ডিতের কণ্ঠে। তারা জানান, শৈত্যপ্রবাহ চললেও কৃষকদের দমিয়ে রাখা যাচ্ছে না। কারণ বোরো ফসলই এই অঞ্চলের মানুষের প্রধান প্রাণশক্তি। স্থানীয় সাংবাদিক হাবিবুর রহমান হাবিব, দিলুয়ার হোসেন ও তাপস চন্দ্র দাস জানান, এবার এলাকায় অস্বাভাবিক শীত পড়েছে, যা জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

এ বিষয়ে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাসের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘তীব্র শীতের প্রকোপ থেকে রক্ষায় আমরা ইতোমধ্যে কিছু কম্বল বিতরণ করেছি এবং দু-একদিনের মধ্যে আরও কম্বল বিতরণ করা হবে।’
এলাকায় শীতের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় গরিব ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে সমাজের ধনাঢ্য ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, শাল্লার কৃষকদের প্রধান সম্পদই হচ্ছে বোরো ফসল। বছরের এই একটি মাত্র ফসলের ওপর নির্ভর করে তাদের সারা বছরের খোরাকি ও সন্তানের পড়াশোনাসহ যাবতীয় খরচ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং সময়মতো বৃষ্টিপাত ও পোকার উপদ্রব না হলে এবার বাম্পার ফলনের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর