২৫০ শয্যার হাসপাতালে খাবার পান ৫০৮ রোগী, হিমশিম খাচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান

প্রকাশিত: ৭:১৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৪, ২০২৬

২৫০ শয্যার হাসপাতালে খাবার পান ৫০৮ রোগী, হিমশিম খাচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান

আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ
২৫০ শয্যার সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৫০৮ জন রোগীর মধ্যে বিশুদ্ধ খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। প্রতি সপ্তাহেই নিত্য প্রয়োজনীয় মালামালের দাম লাগামহীনভাবে বেড়েই চলেছে। পাশাপাশি বেড়েছে কাঁচামাল ও মাছ মাংসের দাম।
জানা যায়, পূর্বের খাদ্য সিডিউল মোতাবেক চলছে ২৫০ শয্যার স্থলে প্রতিদিন ৪৯৫ থেকে ৫০৮ জনের খাবার পরিবেশন। একজন রোগীর প্রতিদিনের তিন বেলার খাবারের দাম ধরা হয়েছে ১৭৫ টাকা। তার মধ্যে ব্যাট, টেক্স ১৫%। রোগীর তিন বেলার খাবারের মূল্য ঠিকাদার পাচ্ছেন মাত্র ১৪৮ টাকা। একজন রোগীর সাথে ২/৩ জন স্বজন খায়। একজন রোগীর এক বেলার খাবারের মূল্য আসে ১৮০ টাকা। অথচ প্রতিদিন সকালে রোগীদের খাবার দেওয়া হচ্ছে পাউয়ারুটি, ডিম, কলা, চিনি, খিচুড়ি।পাউয়ারুটি, ডিম, কলা, চিনির দাম রিডাবল হওয়ার কারণে রোগীদের তিন বেলা খাবার পরিবেশন করে হিমশিম খাচ্ছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এদিকে আবার স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, ইদুল ফিতর, ইদুল আজহা, ঈদে মিলাদুনবী এই দিনগুলোতে রোগীদের মধ্যে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করতে হয়।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশ ইউনিয়নের পাখিজান গ্রামের সাজারী বিভাগে ভর্তিকৃত রোগী মিলন মিয়া বলেন, আজ তিনদিন যাবৎ চতুর্থ ও পঞ্চম তলার সাজারী বিভাগে আমরা ৬ জন রোগী ভতি আছি। প্রতিদিন সকালে ডিম, কলা, পাউয়ারুটি এবং দুপুর ও রাতে আতব চালের ভাত, মাছ, মাংস, ডাল, সবজি পাচ্ছি। নিজের বাড়ি থেকে আর কোন খাবার আনতে হয়নি। আজ থেকে প্রায় ১০ বছর আগে আমি ও আমার স্ত্রী হাসপাতালে ৪ দিন ভর্তি ছিলাম। তখন জানি না খাবার কে দিত। রাতের বাঁশি ভাত দুপুরের গরম ভাতের সাথে মিশিয়ে পরিবেশন করত। মরা পঁচা মাছ ভেঝে তরকারি তৈরি করে পরিবেশন করত। ঔষধ খেয়ে সুস্থ হতাম আর খাবার খেয়ে অসুস্থ হতাম। পরে বাড়ি থেকে রান্না করে এনে হাসপাতালে খাবার খেয়েছি। কিন্তু বর্তমানে হাসপাতালে যে খাবার পরিবেশন হচ্ছে নিজের ঘরে তৈরি খাবারের মত।
দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের বুজনা গ্রামের হুসনা বেগম বলেন, আমি আজ দুইদিন যাবৎ মেডিসিন বিভাগে ভর্তি আছি। আমার সাথে স্বামী ও সন্তান রাত এবং দুপুরের খাবার দিয়ে তিনজন মিলে খাচ্ছি। খাবারের মান খুবই ভালো।
এ বিষয়ে সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (উপ-পরিচালক) ডাঃ মাহবুবুর রহমান জানান, পূর্বে একজন রোগীর তিনবেলা খাবারের মূল্য ছিল ১শত ২৫ টাকা। বতমানে ১৭৫ টাকা। অতিরিক্ত রোগীর খাবারের মূল্য পাচ্ছেন না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে আমি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে
অতিরিক্ত রোগীর খাবারের বিষয়ে ঢাকায় গেলে আলোচনা করে আসবো।
সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডাঃ জসিম উদ্দিন বলেন, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তিকৃত অতিরিক্ত রোগীর খাবারের মূল্য দেওয়া হয়। কিন্তু আমার জানা মতে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মহোদয় অতিরিক্ত রোগীর খাবারের বিষয়ে তিনি উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। আশা করছি হয়ে যাবে।

সর্বশেষ ২৪ খবর