ঢাকা ২রা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৭:৩২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা ঊপজেলার মোগলাবাজার থানা এলাকার জাহানপুরে খান বাহাদুর বজলুর রহমান ডিএসপির নাম অনুসারে ব্রিটিশ আমলের ঐতিহ্যবাহী ডিএসপি বাড়ির সম্মুখে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে জাহানপুর ইসলামিক কালচারাল সেন্টার ও মসজিদ আবু হুরাইরাহ। তাঁর পিতা মরহুম মৌলভী নছর উল্লাহকে উৎসর্গ করে গত সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেল ৫টায় এ ধর্মীয় এ উপসানালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বিশিষ্ট রাজনীতি জিল্লুর রহমান জিল্লু বলেন, সরকার দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে। তারেক রহমানের সরকার প্রবাসীদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিত্তশালীরা দেশমুখী হলে দেশের তৃণমূলের অসহায় মানুষ সহায়তা পাবে, গড়ে উঠবে প্রতিষ্ঠান, হবে মানুষের কর্মসংস্থান। প্রবাসীদের চাবিকাঠির কারণেই দেশে পরিবর্তন এসেছে। সরকার প্রবাসীদের নিরাপত্তায় বিভিন্ন রকমের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। যা বাস্তবায়িত হওয়ার পথে এতে প্রবাসীদের দেশের প্রতি আরো টান ও মায়া বাড়বে।
তিনি বলেন, আজকে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বিধায় জাহানপুরে আমরা আমেরিকা প্রবাসী এলাকার সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান খান বাহাদুর ডিএসপি বজলুর রহমানের কনিষ্টপুত্র জুবেরকে পাচ্ছি। তার পরিবারের সদস্য শিল্পপতি আলহাজ্ব আতিকুর রহমান আতিক-সহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর লোকজন দেশ এবং বিদেশে মানব সেবায় কাজ করছেন।
রহমান ফাউন্ডেশন এলাকায় শিক্ষা, মানবিকতা ও ইসলামের আলো দিয়ে মানব সমাজে পরিবর্তন আনতে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশেষ করে অসহায়দের সহায়তা, এতিম মেয়েদের বিয়ে, গরিব অসহায় শিক্ষার্থীদের বিনা বেতন ও টিউশন ফি ছাড়া শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে বেশ সুনামের সাথে এখানে রহমান ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জুবেদুর রহমান জুবের এর মাতার নামে প্রতিষ্ঠিত সৈয়দা হাছিনা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয় এলাকায় গৌরবের স্বাক্ষর রেখে চলছে। বিদ্যালয়ের পরিচালক ও শিক্ষক রাহাদ উজ্জামান নামে ব্যক্তির বিশেষ পরিশ্রম রয়েছে এ কাজে রয়েছে ভূমিদাতাদের পরিবারের বিশাল শ্রম ও মেধা।
শুধু এখানেই শেষ নয় তারা শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও স্বনির্ভর করে তুলতে দিচ্ছে বিভিন্ন রকমের প্রশিক্ষণ। তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধি না হয়েও এলাকার মানুষের জন্য কাজ করা যায় এমন উদাহরণ সৃষ্টি করেছে সিলেটের জানপুর এলাকায় মানব সেবার মাধ্যমে রহমান ফাউন্ডেশন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও ব্যবসায়ী সৈয়দ এহছান ও মন্জুর আহমদ চৌধুরী।
অসুস্থ শরীর নিয়ে অনুষ্ঠান স্থলে আসতে না পারায় নিজ ঘর থেকেই ভিত্তি প্রস্তরের ভার্চুয়াললি জাহানপগর ইসলামিক সেন্টার ও মসজিদ আবু হুরাইরাহ এর শুভ সূচনা করেন ডিএসপি বাড়ির প্রবীণ মুরব্বি ডাক্তার মতিউর রহমান আপ্তাব।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডি এসপি বাড়ি সন্তান শামিমুর রহমান নুরুল, মুহিতুর রহমান আবুল, সিরাজুর রহমান সিরাজ, মিজানুর রহমান আকমল, ভাগনা রুহেল আহমদ।
শুরুতে স্বাগত বক্তব্য খান বাহাদুর বজলুর রহমান ডিএসপির কনিষ্ঠ পুত্রবধূ তাহমিন রহমান বলেন, আমরা মানব সেবা করতে পছন্দ করি, গ্রামীন পরিবেশ পছন্দ করি, গ্রামের মানুষ পছন্দ করি, তৃণমূলের মানুষের সহায়তা করতে পছন্দ করি, ইনশাল্লাহ আমরা এখানে একটি এতিমখানাও করবো। এটা আমার খুব ইচ্ছা। আমাদের পরিবারের লোকজন ও সন্তানরা এই কাজগুলোর সাথে একমত। এ কাজে আমার স্বামীর বোনরাও আমেরিকা থেকে সহায়তা করছেন। এসব বাস্তবায়নে সকলের দোয়া ও আল্লাহর সন্তুষ্টি আমাদের লক্ষ্য।
শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন তানিম রহমান ও মিসেস তানিম রহমান(আমেরিকা প্রবাসী)।
রহমান ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জুবেদুর রহমান জুবের বলেন, আল্লাহ আমাদেরকে ও আমাদের পরিবারকে যদি মানব সেবায় কবুল করেন এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় চাওয়া আল্লাহর দরবারে। সকলের কাছে দোয়া চাই আমাদের ও আমাদের মরহুম- মরহুমাদের জন্য । আমাদের কর্ম যেন খোদাকে খুশি রাজি করার উদ্দেশ্যে হয় , তার জন্য সকলের কাছে দোয়া চাই। সর্বোপরি রহমান ফাউন্ডেশনের ইসলামিক কালচারাল সেন্টার ও মসজিদ আবু হুরাইরাহ এর নির্মাণ কাজ বাস্তবায়নে চাই সকলের সহযোগিতা ও দোয়া।
ও সৈয়দা হাছিনা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালক ও শিক্ষক রাহাদ ঊজ্জামান রাহাত এর সঞ্চালনায়
আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট জালালাবাদ গ্যাস ফিল্ড এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার জিল্লুর রহমান সুহেল বলেন, আশপাশ, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিবর্তনের জন্য যুগে যুগে কিছু মানুষ সৃষ্টি হয় তাদেরই একজন রহমান ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জুবেদুর রহমান জুবের ও তার পরিবারের লোকজন। আল্লাহ যেন তাদের মনের ভাষনা পূর্ণ করেন।
ডিএসপি বাড়ির সন্তান, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান ডা. সুয়েব আহমদ বলেন, ডিএসপি বাড়ির একটা নিয়ম নীতি আছে কেউ কোন উদ্যোগ নিলে বাস্তবায়ন করি আমরা সকলে মিলে। আমরা যে যে জায়গায় থাকি না কেন অবস্থান তাকে এক মনে কোন কাজ সম্পাদনের ক্ষেত্রে। ইনশাআল্লাহ মসজিদ আবু হুরাইরাহ ও জাহানপুর ইসলামিক সেন্টার বাস্তবায়নের মাধ্যমে তা প্রমাণিত হবে।
ডিএসপি বাড়ির সন্তান , মরহুম সুবেদার মজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র সৈয়দা হাছিনা খাতুন উচ্চ বিদ্যালয় এর ভুমিদাতাও সিলেট বিভাগীয় অনলাইন প্রেস ক্লাবের সহ-সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া আল্লাহ মানুষের মন দেখে, ধন দেখে না উদাহরণ দিয়ে বলেন, আমাদের নানার বাড়িতে নানার জায়গায় একটি ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে যার নাম গৌড়করণ নুরুল ইসলাম দাখিল মাদ্রাসা। আর বাবার বাড়িতে আমাদের চাচাতো ভাই আলহাজ্ব আতিকুর রহমান আতিক স্কুল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মাধ্যমিক। আমরা জায়গা দিয়ে দিয়েছি অনায়াসে। প্রতিষ্ঠান কারো একা হয় না এর সুফল সবাই পায় কাজ হতো কেউ না কেউ করতে হয়। আল্লাহ তৌফিক দিলে মানুষের জন্য ডিএসপি বাড়ির লোকজন সারা জীবন সেবা দিয়ে যাবেন। সত্য বিষয়ে উচ্চ কন্ঠে কথা বলবেন। অসহায় ও নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়াবেন। এটা আমাদের পূর্বপুরুষ থেকে পাওয়া।আল্লাহ চাইলে ভালো কাজে কেউ বাধা দিয়ে লাভ হবে না। সৈয়দা হাছিনা মাধ্যমিক বিদ্যালয় অনেক সংগ্রামের ফসল । আজও কোন কোন বিষয়ে সংগ্রাম করতে হচ্ছে, কিন্তু প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে
মানুষ তার সুফল পাচ্ছে। রহমান ফাউন্ডেশনের মসজিদ আবু হুরাইরাহ ও ইসলামী সেন্টার বাস্তবায়ন হলে মানুষ উপকৃত হবে। এলাকায় ইসলামের আলো ছড়াবে। আমাদের মোর্দেগানরা অন্ধকার কবর থেকে এর মাধ্যমে দোয়া পাবে বলে আমরা আশাবাদী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শাহ ইমাদ উদ্দিন নাসিরী। তিনি বলেন, দ্বিনি প্রতিষ্ঠান সদ্গায়ে জারিয়া হিসাবে আজীবন থাকবে। যুগের পর যুগ মানুষজন তা উপভোগ করবে। থাকবে শুধু উদাহরণ। আমাদের সকলের কিয়ামতের কথা চিন্তা করে পথ চলা উচিত। আমরা মসজিদ আবু হুরাইরাহ ও জাহানপুর ইসলামিক সেন্টারের সফলতা কামনা করছি।
এলাকার পক্ষ থেকে মহতি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, সিলেট জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ময়নুল ইসলাম মন্জু, মোগলা বাজার ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি আফতাব উদ্দিন, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল আহাদ ফাবলু, সাধারণ সম্পাদক ছালেহ আহমদ জেলা শ্রমিক দল সহ-সভাপতি শাহ মুকিত প্রমুখ।
অনুষ্ঠান শেষে সৈয়দা হাছিনা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অসহায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে
সহায়তার অর্থ তোলে দেন অতিথিবৃন্দ। এ সময় শিক্ষক, শিক্ষার্থী অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, রহমান ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন থেকে এলাকার অসহায় ও এতিম মেয়েদের বিবাহ, শিক্ষা ও চিকিৎসা সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। সৈয়দা হাছিনা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি ও টিউশন ফ্রি ব্যবস্থাপনা রাখা হয়েছে রহমান ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে। আগামীতে রহমান ফাউন্ডেশন স্থানীয়ভাবে এতিমখানা নির্মাণের ও আলোচনা চলছে। করোনা ও বন্যা সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুঃসময়ে রহমান ফাউন্ডেশন কাজ করে যাচ্ছে মানুষের কল্যাণে। বিজ্ঞপ্তি
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host