শুধু কঠিন শাস্তি দিলেই হবে না, অসুস্থ মানসিকতাটাও বদলাতে হবে: পিয়া জান্নাতুল

প্রকাশিত: ৭:৪১ অপরাহ্ণ, মে ২১, ২০২৬

শুধু কঠিন শাস্তি দিলেই হবে না, অসুস্থ মানসিকতাটাও বদলাতে হবে: পিয়া জান্নাতুল

আনন্দকণ্ঠ ডেস্ক
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে সারাদেশের মানুষ। এমন অবস্থায় সোচ্চার সাধারণ মানুষের পাশাপাশি তারকারাও। অভিনেত্রী মডেল ও পিয়া জান্নাতুল এখন আইনিজীবিও। রামিসার মৃত্যুতে দ্রুত বিচার দাবি জানিয়ে ফেসবুক লাইভে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেছেন। ক্যাপশনে লিখেছেন, প্রতিদিন নারী ধর্ষণ, তারপর হত্যা। শুধু কঠিন শাস্তি দিলেই হবে না, আমাদের সেই অসুস্থ মাইন্ডসেটও (মানসিকতা) বদলাতে হবে যেখান থেকে নারীর প্রতি সহিংসতা জন্ম নেয়। পাঠকের জন্য তা হুবহু তুলে ধরা হল-

আমরা এখন সোশ্যাল মিডিয়া বা নিউজপেপার বা টিভি যেটাই খুলি না কেন, সবার আগে যেটা চোখে পড়ে যে, আজ এই ভয়ঙ্কর নিউজগুলো চোখে পড়ে। তার মধ্যে একটা হচ্ছে নারী বা শিশু, মেয়ে শিশুকে ধর্ষণ, তারপর হত্যা। এবং তার থেকে ভয়ঙ্কর যে জিনিসটা হচ্ছে আমরা ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছি যে এসব নিউজে।

কারণ আলটিমেটলি একটার পর একটা এমন একটা একটা ঘটনা ঘটে চলেছে এবং সেখান থেকে আমরা প্রতিবাদ করি কিছুদিন, প্রতিবাদ করার পর আমরা ভুলে যাই। ভুলে না যেয়ে একচুয়ালি কোনো উপায়ও নাই, বিকজ তার থেকে আরেকটা খারাপ ঘটনা ঘটে। তো আমরা কয়টা নিয়ে কথা বলবো? তো আমার মনে হয় যে, শুধুমাত্র শুধুমাত্র আইন দিয়ে কিন্তু আমরা এই অপরাধগুলো একেবারে কমানো সম্ভব না। আইনের সাথে সাথে অবশ্যই আমরা দ্রুত বিচার চাই, বাট আইনের সাথে সাথে কেন এই একটার পর একটা এরকম ঘটনা ঘটছে এবং বেড়েই চলেছেÑকেন কমার তো কোন লক্ষণই নাই, বেড়ে চলেছেÑসেটা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে।

তো সেটা নিয়ে যদি প্রথমেই ভাবতে যাই, প্রথমেই আমাদের আসবে যে আমাদের সমাজের কিছু দিক নিয়ে আমাদের চিন্তা করতে হবে যে কোথায় সমস্যাটা হচ্ছে। বিশেষ করে পারিবারিক শিক্ষা যেটা। আমরা আপনি যদি খুব রুরাল এরিয়ার দিকে যান, সেখানে আপনি দেখবেন যে আমাদের কি বলা হয়? মেয়েরা কিভাবে কাপড়-চোপড় পড়বে, না পড়বে; মেয়েরা আস্তে আস্তে হাঁটবেÑএবং অনেক কিছু মেয়েদেরকে নিয়ে, শুধু মেয়েদেরকে নিয়ে, মেয়েদেরকে নিয়ে।

বাট তার পাশাপাশি যে একটা বাচ্চা ছেলেকে শেখানো উচিতÑমেয়েদেরকে সম্মানটা কিভাবে করবে। একচুয়ালি মেয়েদের সম্মানটা বাচ্চা ছেলেকে শেখানোর সবার আগে আসে পরিবার থেকে। আমার বাবা মাকে কিভাবে সম্মান করছে, ওইটা দেখলেই কিন্তু একটা ছেলে বুঝবে তার মেয়েদের প্রতি কতখানি সম্মান থাকা উচিত। এবং মেয়েদের যে ‘কনসেন্ট’ বলে একটা ব্যাপার আছে।

আর এই যে আনকন্ট্রোলড অ্যাঙ্গার, নারীদের ওপরে যে সহিংসতা, যে হেইট্রেড, যে ফ্রাস্ট্রেশনÑএইটা একটা বাচ্চার মধ্যে, ছেলেদের প্রতি কেন, কিভাবে আসে? তো আমার মনে হয় এটার জন্য খুব এই বিষয়গুলো ইম্পর্টেন্টÑসেটা হচ্ছে ভায়োলেন্ট পর্নোগ্রাফি, টক্সিক ম্যাসকুলিনিটি। আমি কিছু পয়েন্ট আউট করেছিÑযে আনকন্ট্রোলড অ্যাঙ্গার, ড্রাগ অ্যাবিউজ, চাইল্ডহুড ট্রমাÑএগুলো একটা ছেলের মধ্যে যখন থাকে, আসতে থাকে বিভিন্ন জায়গা থেকে, পারিবারিকভাবে যখন বা বিভিন্ন চারিপাশের যে পরিবেশের মাধ্যমে তখন যখন বড় হয়, তখন বেড়ে ওঠেÑএইটাই কিন্তু বহিঃপ্রকাশ ঘটে একটা মেয়ে বা একটা বাচ্চা মেয়ের প্রতি যেই অবস্থাগুলো আমরা দেখতে পাচ্ছি।

তো আমাদের চিন্তা করতে হবে, আমরা কি কখনো আমাদের ছেলেদেরকে শিখাই যে তাদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে, তাদের ইমোশনকে কন্ট্রোল করা নিয়ে? কিছু হলে বলি না, “একটা ছেলে, এটা তো একটু করবেই।” ছেলে এটা তো একটু করবেইÑএখান থেকেই কিন্তু এই ছোট ছোট অপরাধ করতে করতে এত বড় অপরাধে হয়েছে যে সেটা কিন্তু চিন্তার বাইরে, আমরা দেখতে পাচ্ছি আজকে।

সো, শুধু আইন না; কিছু পারিবারিক শিক্ষা, কিছু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দরকার এবং রেস্পেক্ট এডুকেশন স্কুলে যেন শেখানো হয়, কনসেন্ট এডুকেশন যেন স্কুলে শেখানো হয়Ñএগুলোর ওপর নজর দিতে হবে। শুধু আইন দিয়ে এই অপরাধগুলোকে একচুয়ালি শুধু আমরা বাদ দিতে পারবো না। তার জন্য প্রয়োজন আমাদের ছেলে-মেয়েকেÑমেয়েকে তো শিক্ষা আমরা দিয়ে থাকি, ছেলেদেরকে আমার মনে হয় একটু কম দেয়া হয়ে যায়, সে কারণেই ঘটনাগুলো আসলে বেশি ঘটতে থাকেÑসো, তাদেরকেও যেন আমরা বুঝাই যে একটা মেয়েকে কিভাবে সম্মান করতে হবে।

বিকজ একটা মেয়ে বা একটা বাচ্চা মেয়েকে যখন ধর্ষণ করা হচ্ছে, এটা শুধুমাত্র কিন্তু অসম্মান বা শারীরিক নির্যাতন না। শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি একটা মেয়ে এবং তার পরিবারের আজীবনের জন্য সম্মানহানি হওয়া, মানসিক ট্রমাÑসব দিক দিয়ে কিন্তু বিকারগ্রস্ত হয়ে যাচ্ছে। সো, কি বলবো যে, আমাদের চিন্তা-চেতনা, মন-মানসিকতার উন্নতি হোক। দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হোক যারা এরকম অপরাধ করছে। ভালো থাকবেন সবাই।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর