ঢাকা ২১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৭:২৩ অপরাহ্ণ, মে ২১, ২০২৬
জকিগঞ্জ প্রতিনিধি
সিলেটের জকিগঞ্জে স্ত্রীকে নিয়ে পরকীয়ার অভিযোগ তুলে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও শিশু সন্তান নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন এক প্রবাসপ্রত্যাশী যুবক। একই সঙ্গে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও মামলা রেকর্ড না করার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি।
বুধবার জকিগঞ্জ পৌরসভার গন্ধদত্ত এলাকার বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন। তিনি মৃত আব্দুস শুক্কুরের ছেলে।
লিখিত বক্তব্যে মাহবুবুর রহমান বলেন, প্রায় চার বছর আগে পারিবারিকভাবে ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক তান্নী আক্তার মিলির সঙ্গে তার বিবাহ হয়। তাদের সংসারে মাহদী হাসান নামে আড়াই বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। পরিবারের উন্নত ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তিনি বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ জন্য কষ্টার্জিত টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও প্রয়োজনীয় মালামাল ঘরে সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ মে সকালে পাসপোর্টের কাজে সিলেটে যাওয়ার সুযোগে ইমন আহমদ নামে এক ব্যক্তি ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজন তাদের বাড়িতে আসে। পরে তার স্ত্রী ঘরে থাকা নগদ ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার, রুপার গহনা, মোবাইল ফোন, কাপড়চোপড়সহ প্রায় ৮ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে চলে যান। একই সঙ্গে শিশু সন্তান মাহদী হাসানকেও নিয়ে যাওয়া হয়।
মাহবুবুর রহমান আরও বলেন, তার মা রেহানা বেগম ও স্থানীয় লোকজন বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও অভিযুক্তরা দ্রুত গাড়িযোগে চলে যায়। পরে বাড়িতে ফিরে পুরো ঘটনা জানতে পেরে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, গত মঙ্গলবার রাতে জকিগঞ্জ থানা পুলিশ তার স্ত্রী তান্নী আক্তার মিলি ও অভিযুক্ত ইমন আহমদকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। তবে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও এখন পর্যন্ত মামলা রেকর্ড করা হয়নি। একটি প্রভাবশালী মহল বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, তার স্ত্রীর বাবার বাড়ি জকিগঞ্জ উপজেলার কসকনকপুর ইউনিয়নের লক্ষীরয়েরচক গ্রামে। স্থানীয়ভাবে তারা প্রভাবশালী হওয়ায় তিনি ও তার পরিবার ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে মাহবুবুর রহমান প্রশাসন, মানবাধিকার সংগঠন ও গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অভিযোগটি দ্রুত মামলা হিসেবে গ্রহণ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তার শিশু সন্তানসহ পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
এ বিষয়ে জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, স্বামীর জিডির ভিত্তিতে তান্নী আক্তার মিলিকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ইমন আহমদ নামে এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। অভিযোগ দায়ের করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host