ঢাকা ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৯:০৪ অপরাহ্ণ, জুন ৪, ২০২৬
আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ
উচ্চ আদালতের নির্দেশে প্রশাসন কর্তৃক সুনামগঞ্জের সীমান্ত নদী যাদুকাটা-১ বালু মহালের সীমানা লাল নিশানা দ্বারা সমপূর্ণভাবে নির্ধারণ করে সরেজমিন ইজারাদারকে দখল সমজিয়ে দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৩ জুন ) বিকেলে যাদুকাটা-১ এর সীমানা বুঝিয়ে দেবার জন্য তাহিরপুর উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তার সার্বিক সহযোগিতায় সহকারী কমিশনার ভূমি মো. সাহারুখ আলম শান্তুনু সরেজমিন এলাকায় এসে সার্ভেয়ার এবং তফসীলদারের মাধ্যমে প্রতিবাদকারীদের সমন্বয়ে সীমানা বুঝিয়ে দেওয়া হয় ইজারাদারকে।
সীমানা নির্ধারণের সময় আরো উপস্থিত ছিলেন,তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো আমিনুল ইসলাম, টুকের বাজার নৌ-পুলিশের ইনচার্জ দিলীপ বড়ুয়া,বাদাঘাট পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ নাজমুল ইসলাম,লাউড়েরগড় বিজিবি ক্যাম্পের ক্যাম্প কামান্ডার সহ দুই ডজন বিজিবি সদস্য,লাউড়েরগড় বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো রইছ মিয়া,লোকমান মিয়া,ইউপি সদস্য মোস্তফা মিয়া,হারুন অর রশিদ,এসআই জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ি জানান,গত (২৫ মে ) যাদুকাটা-১ এর ইজারাকৃত বালুমহাল স্থানীয় প্রশাসন সরেজমিন এলাকায় গিয়ে ইজারাদারকে বুঝিয়ে দেওয়ার সময় সাবেক ইজারাদার শ্রমিকলাগ নেতা সেলিম আহমেদ,যুবলীগ নেতা ইজারাদার রতন মিয়া ও দুষ্কৃতিকারী খোরশেদ আলমের লোকজন বাঁধা প্রদান করায় সীমানা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তাই বুধবার (৩ জুন ) উপজেলা প্রশাসন প্রতিবাদকারীদের সমন্বয়ে লাল নিশানার মাধ্যমে ইজারাদারকে সমজিয়ে দেওয়া হয়। তারা আরো বলেন সাবেক দুই ইজারাদার কর্তৃক উচ্চ আদালতে রিট করে দীর্ঘ প্রায় পাঁচ মাস যাদুকাটা নদী বন্ধ রাখে। এতে তিনটি উপজেলার প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক নৌ-শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি খুবই কষ্টে জীবন যাপন করেছেন। অনেক জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে উচ্চ আদালতের রায় আজ কার্যকর হয়েছে।
তাহিরপুর শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো আলী হায়দার বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশে ইজারাকৃত যাদুকাটা ১ বালু মহালের সীমানা প্রতিবাকারীদের সমন্বয়ে উপজেলা প্রশাসন আজ সমপূর্ণভাবে ইজারাদারকে সমজিয়ে দিয়েছেন। এতে করে নৌ-শ্রমিকদের মনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। আমি ব্যক্তিগত ভাবে শ্রমিকদের বলে দেব সরকার নিধারিত সীমানার ভেতর থেকে সনাতন পদ্ধতিতে বালু উত্তোলন করতে। যে বা যারাই এই সাীমানা লংঘন করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে অনুরোধ করবো।
শ্রমিক সংঘটনের সাধারণ সম্পাদক হাকিকুল ইসলাম সর্দার বলেন,স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই যে, প্রতিবাদকারীদের সমন্বয়ে যাদুকাটা-১ এর সীমানা পূণ নির্ধারণ করে দেওয়ার জন্য। আমাদের বারকি শ্রমিকদেরকে জানিয়ে দেব সরকার নিধারিত সীমানার ভেতর থেকে সনাতন পদ্ধতিতে বালু উত্তোলন করার জন্য। কিছু সংখ্যক দুষ্কৃতিকারী লোকদের কারণে দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস যাবৎ শ্রমিকরা নদীতে বালু উত্তোলনের কাজ করতে পারেননি। এতে ব্যবসায়ি,শ্রমিক এবং ইজারাদার ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। আমরা সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাই আদালতের নিষেধাজ্ঞায় ইজারাদারের গেল ছয় মাসের রাজস্ব লেছ দেওয়ার জন্য।
যাদুকাটা বালু মহালের ইজারাদার নাছির উদ্দীন বলেন,বুধবার (৩ জুন) বিকেলে জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে উপজেলা প্রশাসন আন্দোলনকারীদের সমন্বয়ে লাল নিশানা দিয়ে সম্পূর্ণ ভাবে আমাদেরকে সমজিয়ে দেন।
তাহিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাহারুখ আলম শান্তুনু বলেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বুধবার (৩ জুন)আমরা যাদুকাটা ১ এর সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছি।
তাহিরপুর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক বলেন,উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বুধবার (৩ জুন) আমরা লাউড়েরগড় শাহিদাবাদ গ্রামবাসীর সমন্বয়ে সম্পূর্ণ ভাবে যাদুকাটা-১ এর সীমানা লাল নিশানা দ্বারা নির্ধারণ করে দিয়েছি। সীমানার ভেতর থেকে ইজারাদার সনাতন পদ্ধতিতে বালু উত্তোলনে আর কোন বাঁধা নেই।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান জানান,উচ্চ আদালতের নির্দেশে যাদুকাটা ১ বালু মহালের সীমানা সম্পূর্ণ রুপে ইজারাদারকে সমজিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host