ঢাকা |
প্রকাশিত: 10:09 PM, August 13, 2026
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের জীবনপুর সরিন্দ্র চন্দ্র নাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই, বেলা ৩টা ১৫ মিনিটে স্কুল ছুটি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, বিষয়টি ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত শিক্ষকরা এক অভিভাবকের বাড়িতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করা মন্তব্য পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছেন বলেও জানা গেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আজ বেলা ৩টা ১৫ মিনিটে বিদ্যালয়টি ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। ছুটির পরপরই ৩টা ২০ মিনিটে স্কুলের পাশের রাস্তায় এক অভিভাবক শিক্ষার্থীদের ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিওতে শিক্ষার্থীদের কাছে ছুটির সময় জানতে চাইলে তারা স্পষ্টভাবে জানায় যে, ৩টা ১৫ মিনিটে স্কুল ছুটি হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে এক প্রতিবেদক ফেসবুকে পোস্ট করলে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। ওই পোস্টে এক অভিভাবক মন্তব্য করেন যে, তার ছোট ভাই স্কুল থেকে আগে আসার কারণ জানতে চাইলে সে ৩টা ১৫ মিনিটে ছুটির কথা জানিয়েছে। কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো, এর প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর ওই অভিভাবক তার মন্তব্যটি সম্পাদনা (এডিট) করে লেখেন, ‘স্কুল ৩টা ৩০ মিনিটে ছুটি হয়েছে এবং স্কুলে ফ্যান নষ্ট হওয়ার কারণে ছুটি দেওয়া হয়েছে।’ তবে ওই অভিভাবকের আগের মন্তব্যের স্ক্রিনশট প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত থাকায় আসল সত্যটি ঢাকা পড়েনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আজ বিকেল ৫টা ৪৬ মিনিটে বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত শিক্ষক ও যুবলীগ নেতা সৈলেন চন্দ্র নাথ এবং অপর শিক্ষক হযরত আলী ওই অভিভাবকের বাসায় যান। অভিযোগ রয়েছে, তাদের চাপের মুখেই ওই অভিভাবক ফেসবুকে নিজের মন্তব্য পরিবর্তন করতে বাধ্য হন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, এই বিদ্যালয়ে প্রায়ই এমন নির্ধারিত সময়ের আগে ছুটি দেওয়ার ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে শিক্ষক সৈলেন চন্দ্র নাথের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি প্রায়ই স্কুল ফাঁকি দিয়ে নিজের দোকানে সময় দেন এবং ‘অফিসের কাজ’ বলে উপজেলা শিক্ষা অফিসে যাতায়াত করেন।
এ বিষয়ে জানতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রেহেনা বেগমের মুঠোফোনে কল করা হলে, প্রতিবেদকের পরিচয় পাওয়ার পরপরই তিনি ফোন কেটে দেন।
পরবর্তীতে বিষয়টি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসার জনাব টিটু কুমার দে এবং সহকারী শিক্ষা অফিসারকে তাৎক্ষণিকভাবে অবগত করা হয়। প্রতিবেদককে টিটু কুমার দে জানান, স্কুল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে ‘সিলিং ফ্যান পড়ে যাওয়ার কারণে’ তারা আগে স্কুল ছুটি দিয়েছিল। তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, এ ধরনের অজুহাতে আগে স্কুল ছুটি দেওয়ার কোনো আইনি সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host