জৈন্তাপুরে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযানে পুলিশের ধারাবাহিক সাফল্য

প্রকাশিত: 12:08 AM, October 2, 2026

জৈন্তাপুরে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযানে পুলিশের ধারাবাহিক সাফল্য

বিজয়ের কন্ঠ ডেস্কঃ

সিলেটের জৈন্তাপুর সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ। অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান মোল্লা জৈন্তাপুর মডেল থানায় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মাদক, চোরাচালান ও অপরাধ দমনের পাশাপাশি উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছেন।

সেপ্টেম্বর মাসের হিসাব অনুযায়ী, জৈন্তাপুর থানা পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ৫টি মামলা হয়েছে এবং ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব অভিযানে ২ হাজার ২৪৭ পিস ইয়াবা ও ১০ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি পৃথক মাদকবিরোধী কার্যক্রমে আরও ১৫০ পিস ইয়াবা, ১ কেজি গাঁজা ও ২৭ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এসব অভিযানে ২ হাজার ৩৯৭ পিস ইয়াবা এবং ৩৭ বোতল মদ উদ্ধার করা হয়েছে।

চোরাচালানবিরোধী অভিযানের চিত্রও উল্লেখযোগ্য। সেপ্টেম্বর মাসে জৈন্তাপুর থানা পুলিশ ৪টি চোরাচালান মামলায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এসব অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ১৫০টি ভারতীয় কম্বল, ৫৫ প্যাকেট ওরিও বিস্কুট, ৪ হাজার ৩৪১টি ভারতীয় শাড়ি, একটি বড় ট্রাক, ৫০ ঘনফুট বালু, একটি ভারতীয় ইয়ামাহা মোটরসাইকেল এবং তিনটি ষাঁড়ের বাছুর।

থানা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযানে উদ্ধারকৃত বিভিন্ন মাদক ও চোরাচালানি পণ্যের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি ৩৯ লাখ ১৭ হাজার ৮০০ টাকা।

ওসি মাহবুবুর রহমান মোল্লা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জৈন্তাপুরের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে চোরাচালান, মাদক ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করার কথা জানিয়েছে থানা পুলিশ। একই সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

চলতি বছরের বিভিন্ন সময়েও জৈন্তাপুরে ভারতীয় চা-পাতা, কম্বল, জিরা, শাড়ি, মাদকসহ বিভিন্ন চোরাচালানি পণ্য উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় মামলা ও গ্রেপ্তারের তথ্যও বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে।

সম্প্রতি জৈন্তাপুর সীমান্তে চোরাচালান নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এলেও পুলিশের নথিভুক্ত অভিযান, মামলা, গ্রেপ্তার ও উদ্ধার কার্যক্রমের তথ্য থেকে সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের তৎপরতার একটি চিত্র পাওয়া যায়।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, ওসি মাহবুবুর রহমান মোল্লা দায়িত্ব নেওয়ার পর সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ ও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তাদের মতে, বিপদে সাধারণ মানুষের পাশে থাকা এবং উপজেলার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করায় তিনি অনেকের কাছে একজন আপনজন ও ছায়াসঙ্গী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তবে পুলিশের বিরুদ্ধে উত্থাপিত যেকোনো অভিযোগের সত্যতা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়াও জরুরি বলে মনে করেন তারা।

জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক, চোরাচালান ও অপরাধ দমনে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ও উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা আরও জোরদার করা হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর