নিজপাট ইউপি ঘটনায় চেয়ারম্যান ইন্তিয়াজের বক্তব্য

প্রকাশিত: 9:23 PM, October 4, 2026

নিজপাট ইউপি ঘটনায় চেয়ারম্যান ইন্তিয়াজের বক্তব্য

জৈন্তাপুর প্রতিনিধিঃ

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ১নং নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদে নাগরিকত্ব সনদ ও প্রত্যয়নপত্রের ফি পরিশোধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বাগবিতণ্ডা এবং পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন বক্তব্য নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন ১নং নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইন্তিয়াজ আলী।

চেয়ারম্যান পক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ, বৃহস্পতিবার বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে কবির আহমদ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নাগরিকত্ব সনদপত্র ও একটি প্রত্যয়নপত্র নিতে আসেন। ওই দুটি সনদের নির্ধারিত ফি বাবদ মোট ১০০ টাকা পরিশোধের সময় তিনি ১,০০০ টাকার একটি নোট দেন।

এ সময় ইউনিয়ন পরিষদ সচিব ও দায়িত্বপ্রাপ্ত মহিলা সহকারী তাঁকে ১০০ টাকা খুচরা বা ভাঙতি দেওয়ার অনুরোধ করেন। চেয়ারম্যান পক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এ বিষয়কে কেন্দ্র করে কবির আহমদের সঙ্গে পরিষদের কর্মরতদের কথা-কাটাকাটি ও বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।

পাশের কক্ষে অবস্থানরত চেয়ারম্যান ইন্তিয়াজ আলী উচ্চস্বরে কথাবার্তা শুনে সচিবের কক্ষে যান এবং বিষয়টি জানতে চান। তিনি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন এবং খুচরা টাকা দেওয়ার বিষয়টি কবির আহমদকে বুঝিয়ে বলেন বলে চেয়ারম্যান পক্ষ জানিয়েছে।

চেয়ারম্যান পক্ষের দাবি, এ সময় কবির আহমদ চেয়ারম্যানের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং একপর্যায়ে উচ্চস্বরে কথা বলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চেয়ারম্যান তাঁকে সতর্ক করেন। পরে পরিষদ কার্যালয়ের বাইরে গিয়ে চেয়ারম্যানকে হুমকিসূচক কথা বলা হয়েছে বলেও চেয়ারম্যান পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।

বিষয়টি জানার পর চেয়ারম্যান কবির আহমদকে পরিষদে ডেকে নেন। চেয়ারম্যান পক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, একই এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় অভিভাবকসুলভ অবস্থান থেকে ইন্তিয়াজ আলী চেয়ারম্যান তাঁকে শাসন ও সতর্ক করেন। চেয়ারম্যান পক্ষের দাবি, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করা বা কোনো ধরনের বিরোধ সৃষ্টি করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না; বরং বিষয়টি সেখানেই শেষ করার উদ্দেশ্যে তাঁকে সতর্ক করা হয়েছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট নিয়ে চেয়ারম্যান পক্ষের বক্তব্য

চেয়ারম্যান পক্ষের অভিযোগ, ওই ঘটনার পর রাতে কবির আহমদের নিজ নামে পরিচালিত ফেসবুক আইডি থেকে ইন্তিয়াজ আলী চেয়ারম্যানকে নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ও বক্তব্য প্রকাশ করা হয়। চেয়ারম্যান পক্ষের দাবি, প্রকাশিত বক্তব্যের কিছু অংশ প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এর মাধ্যমে চেয়ারম্যানের পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

চেয়ারম্যান পক্ষ আরও দাবি করেছে, অতীতেও কবির আহমদের নামে পরিচালিত ফেসবুক আইডি থেকে ইন্তিয়াজ আলী চেয়ারম্যান, যিনি উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন বলে চেয়ারম্যান পক্ষ জানিয়েছে, তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ও বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কবির আহমদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের সময় পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।

এ বিষয়ে ইন্তিয়াজ আলী চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে-সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত কোনো একতরফা বক্তব্য, পোস্ট বা অভিযোগের ভিত্তিতে যেন কেউ তড়িঘড়ি করে কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছান। ঘটনার প্রকৃত তথ্য যাচাই করে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য বিবেচনা করেই মতামত দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

চেয়ারম্যান পক্ষের ভাষ্য, ১নং নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদ জনগণের সেবা প্রদানের একটি প্রতিষ্ঠান। তাই ব্যক্তিগত ভুল বোঝাবুঝি বা কোনো সাময়িক ঘটনার কারণে যেন সাধারণ মানুষের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ ও জনপ্রতিনিধি সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ও সংযত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

চেয়ারম্যান পক্ষের বক্তব্যের সারকথা ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি নয়, বরং প্রকৃত তথ্য যাচাই করে বিষয়টি দেখার অনুরোধ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর