নজরুলের অসাম্প্রদায়িক চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান
সিলেটে নজরুল স্মরণে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের আয়োজন

প্রকাশিত: 9:32 PM, August 27, 2026

<span style='color:#077D05;font-size:19px;'>নজরুলের অসাম্প্রদায়িক চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান</span> <br/> সিলেটে নজরুল স্মরণে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের আয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সময়ের কবি, বিদ্রোহের কবি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার কবি। তাঁর সৃষ্টিকর্ম ভারত ও বাংলাদেশসহ বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছে সমানভাবে সমাদৃত। সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের যে চেতনা তিনি সাহিত্য ও সংগীতে ধারণ করেছেন, তা আজও মানুষকে অনুপ্রাণিত করে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় সিলেটে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ঐতিহাসিক সফরের শতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন আয়োজিত সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যে নজরুল শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এসব কথা বলেন।

সিসিক প্রশাসক বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে সিলেটের সম্পর্ক আমাদের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ১৯২৪ সালে প্রথমবার সিলেটে এসে তিনি সিংহবাড়িতে অবস্থান করেন। পরবর্তীতে ১৯২৬ সালেও তিনি সিলেট সফর করেন। তাঁর সিলেট আগমন শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়; এর সঙ্গে সিলেটের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনারও গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

তিনি বলেন, নজরুলের সিলেট আগমনের শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন সিলেটবাসীর জন্য গৌরবের বিষয়। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এ ঐতিহাসিক ঘটনাকে যথাযথভাবে স্মরণ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে সিলেটের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাহিত্যিক, শিল্পী, গবেষক ও নজরুলপ্রেমীদের নিয়ে একটি উদযাপন কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির মাধ্যমে কবির সিলেট আগমনের শতবর্ষকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী আরও বলেন, কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি ও সৃষ্টিকর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সিলেটের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে নজরুলের স্মৃতিকে আরও গভীরভাবে যুক্ত করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা সংরক্ষণ ও তুলে ধরতে সিটি কর্পোরেশন কাজ করবে।

তিনি বলেন, নজরুলের জীবন ও দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সম্প্রীতি ও মানবতা। ধর্ম-বর্ণের বিভেদ ভুলে মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সাম্যের যে বার্তা তিনি দিয়েছেন, বর্তমান সময়েও সেই চেতনার চর্চা অত্যন্ত জরুরি।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য সিলেটে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে সিসিক প্রশাসক বলেন, নজরুলের সাহিত্য ও সংগীত দুই বাংলার মানুষের সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করেছে। তাঁর স্মৃতিকে ধারণ করে এ ধরনের আয়োজন দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও সমৃদ্ধ করবে।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন, পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক, বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী হিমাংশু বিশ্বাস, লেখক নিরঞ্জন দে ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মাসুদ রানা।

কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অতিথিদের উত্তরীয় পরিয়ে বরণ এবং স্বাগত বক্তব্য দেন সিলেটে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাশ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাচিক শিল্পী জান্নাতুল নাজনীন আশা।

শুভেচ্ছা বক্তব্যের পর শুরু হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। বুলবুল ললিতকলা একাডেমির শিল্পীরা বিপ্রদাস ভট্টাচার্যের পরিচালনায় সংগীত পরিবেশন করেন। নীলাঞ্জনা জুঁইয়ের পরিচালনায় নৃত্য পরিবেশন করেন নৃত্যশৈলীর শিল্পীরা। এ ছাড়া বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করেন।

অনুষ্ঠানে শিল্পী, সাহিত্যিক, গণমাধ্যমকর্মী, সংস্কৃতিকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর