ঢাকা |
প্রকাশিত: 11:38 AM, August 26, 2026
লুৎফুর রহমান শাওনঃ
বছর ঘুরে আবারও আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে পবিত্র ১২ রবিউল আউয়াল বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের স্মৃতিবিজড়িত তাৎপর্যপূর্ণ দিন। মহানবী (সা.) ছিলেন সমগ্র মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। তাঁর জীবন, কর্ম, চরিত্র ও মানবিক মূল্যবোধ আজও পৃথিবীর মানুষের জন্য শান্তি, ন্যায়, কল্যাণ ও মুক্তির পথনির্দেশ করে।
মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে রাসুলুল্লাহ (সা.) এর জীবনকে মানবজাতির জন্য উত্তম আদর্শ হিসেবে তুলে ধরেছেন। মহানবী (সা.) নিজেকে একজন শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায় শৈশব থেকে পরিণত বয়স, ব্যক্তিজীবন থেকে পারিবারিক ও সামাজিক জীবন, রাষ্ট্র পরিচালনা থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক মানবতার জন্য অনুকরণীয় শিক্ষা বহন করে।
১২ রবিউল আউয়াল তাই শুধু একটি স্মরণীয় দিন নয় এটি মহানবী (সা.) এর জীবন ও আদর্শকে নতুন করে উপলব্ধি এবং নিজেদের জীবনে বাস্তবায়নের অনুপ্রেরণার দিন। মহানবীর আবির্ভাবের পূর্বে আরব সমাজে যে অজ্ঞতা, কুসংস্কার, হিংসা, বৈষম্য ও নৈতিক অবক্ষয় বিরাজ করছিল, তাঁর আদর্শ ও শিক্ষার মাধ্যমে সেই সমাজে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। মানুষ ফিরে পায় মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও শান্তির পথ।
রাসুলুল্লাহ (সা.) মানুষের মধ্যে সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, ন্যায়পরায়ণতা, সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ক্ষমাশীলতা ও মানবিকতার শিক্ষা প্রতিষ্ঠা করেছেন। অসহায় ও নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, প্রতিবেশীর অধিকার রক্ষা, পরিবার ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল থাকা এবং অন্যায়-অবিচার থেকে বিরত থাকার শিক্ষা তাঁর জীবনাদর্শের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আজকের সমাজেও নানা ধরনের অস্থিরতা, বিভেদ, হিংসা, অন্যায়, দুর্নীতি ও নৈতিক অবক্ষয় পরিলক্ষিত হচ্ছে। এসব সংকট থেকে উত্তরণের জন্য মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ থেকে শিক্ষা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে নবীপ্রেম প্রকাশ নয়, বরং তাঁর চরিত্র, ন্যায়নীতি, মানবিকতা ও উত্তম আচরণ নিজেদের ব্যক্তিজীবন, পরিবার ও সমাজে প্রতিষ্ঠা করাই হওয়া উচিত ১২ রবিউল আউয়ালের অন্যতম শিক্ষা।
মহানবী (সা.) কোরআন ও সুন্নাহর অনুসরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর শিক্ষা অনুসরণ করে একজন মানুষ নিজের চরিত্রকে পরিশুদ্ধ করতে পারে এবং পরিবার ও সমাজে শান্তি, সৌহার্দ্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারে। তাই ইসলাম ও নবীজীবনের শিক্ষা খণ্ডিতভাবে নয়, বরং সামগ্রিকভাবে উপলব্ধি ও অনুসরণের প্রয়োজন রয়েছে।
বর্তমান সময়ের নানা সংকট ও অস্থিরতার মধ্যে ১২ রবিউল আউয়াল আমাদের সামনে আত্মসমালোচনা ও আত্মশুদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ এনে দেয়। মহানবী (সা.)-এর সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ন্যায়পরায়ণতা, দয়া, ক্ষমা, সহনশীলতা ও মানবিকতার শিক্ষা ব্যক্তি থেকে সমাজের প্রতিটি স্তরে বাস্তবায়নের অঙ্গীকারই হতে পারে এই পবিত্র দিনের সবচেয়ে সুন্দর বার্তা।
তাই পবিত্র ১২ রবিউল আউয়ালে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশের পাশাপাশি তাঁর আদর্শ অনুসরণে নিজেদের জীবন গড়ার প্রত্যয় গ্রহণ করা আমাদের সবার দায়িত্ব। তাঁর দেখানো শান্তি, ন্যায়, মানবিকতা ও কল্যাণের পথে চলার মধ্য দিয়েই ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host