ধর্মপাশা কোর্টের সামন থেকে বিএনপি নেতা কর্তৃক ইজারাদারকে ধরে নিয়ে মারধর করে ভুল স্বীকারোক্তি

প্রকাশিত: 12:21 AM, August 19, 2026

ধর্মপাশা কোর্টের সামন থেকে বিএনপি নেতা কর্তৃক ইজারাদারকে ধরে নিয়ে মারধর করে ভুল স্বীকারোক্তি

মো আব্দুল শহীদ সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের
ধর্মপাশা উপজেলা নিবার্হী কোর্টের সামন থেকে জয়ধনা মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির ইজারাদার সহ তাদের লোকজন হাজিরা দিয়ে কোর্টের সামনে বসে থাকা অবস্থায় বিএনপির কিছু সংখ্যক নেতা কর্মী কর্তৃক”ডুবাইল বিল গ্রুপ” জলমহালের ইজারাদার মালেক সিকদারকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে বিএনপি অফিসে এলোপাতাড়ি মারধর করে ভিডিও রেকর্ডের মাধ্যমে ভুল স্বীকারোক্তির অভিযোগ উঠেছে।

গুরুত্বর আহত মালেক সিকদার (৬০) কে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সে উপজেলার সরিষাকান্দা গ্রামের মরহুম খলিল সিকদারের ছেলে।

জানা যায়, সোমবার (১৭ আগষ্ট) বেলা সাড়ে ৩ টায় ইউএনও অফিস প্রাঙ্গনে ঘটনাটি ঘটে।

গুরুত্বর আহত মালেক সিকদার বলেন, আমি জয়ধনা মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি, বর্তমান সদস্য ও ডুবাইল বিল গ্রুপ জলমহালের ইজারাদার।
বিএনপি নেতাকর্মী কর্তৃক আমার বিল জবরদখলের চেষ্টা, নৌকা ভাংচুর,মাছ লুট ও পাহাড়াদারকে হুমকির ঘটনায় গত ১৯ জুলাই বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে সুনামগঞ্জে সংবাদ সম্মেলন করি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আমার বিলের পাহাড়াদারদের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতা কর্মীরা একটি হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করলে ইউএনও অফিসের নোটিশ পেয়ে আজ সকালে আমার বিলের পাহাড়াদারদের নিয়ে হাজিরা দেওয়ার সময় কোর্ট প্রাঙ্গনে কামাল মিয়া আমাকে শাসিয়ে ধর্মপাশা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ নূরুল ইসলাম (বিএসসি) সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির বর্তমান সভাপতি সালাউদ্দিন মাহতাব,আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাহবুব আলম হাদিস,
বিএনপি নেতা আবুল কাশেম মেম্বার,আশিক খান,কামরুল হাসান চৌধুরী,পলাশ মিয়া, রয়েল মিয়া, রিপন মিয়া,শাহ আলম প্রিন্স,আরিফ মিয়া সহ আরো বেশ কয়েকজন মিলে আমাকে শার্টের কলার ধরে টেনে হেঁচড়ে বিএনপি অফিসে নিয়ে আমাকে মারধর করে ভিডিও রেকর্ডের মাধ্যমে তাদের পক্ষে স্বীকারোক্তি নেয়। বর্তমানে আমি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে জানমালের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেন, অভিযোগকারী মালেক সিকদার আমাকে চেনেন কি না সেটা জানার জন্য তাকে আমাদের অফিসে ডেকে আনা হয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে যা কিছু করেছে অন্যজনের পরোচনায় সে ভুল স্বীকার করেছেন।

আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাহবুব আলম হাদিস বলেন, আত্মীয়তার সূত্রে মালেক সিকদারকে আমাদের অফিসে ডেকে আনা হয়েছে। পরে তাকে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঠান্ডা খাইয়ে সম্মানজনক ভাবে বিদায় দেওয়া হয়েছে।

ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইমাম হোসেন জানান, হাইকমান্ড থেকে ঘটনার খবর পেয়ে মালেক সিকদারকে উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ধর্মপাশা উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা জনি রায় বলেন, ডুবাইল বিল গ্রুপ জলমহালের পাহাড়াদারদের বিরুদ্ধে থানায় একটি জিডি এন্ট্রির প্রসিকিউশনের বিষয়ে আজকে তারা হাজিরা দিয়েছেন। তবে তাদের উপর হামলার ঘটনাটি কেউ আমাকে জানায়নি। খোঁজ-খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর