ঢাকা |
প্রকাশিত: 9:07 AM, August 25, 2026
মো আব্দুল শহীদ সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার -সাচনা,ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ ও দোয়ারাবাজার মহাসড়ক এলাকায় প্রায় পাঁচ হাজার গাছ কাটার কাজ শুরু হয়েছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধীনে থাকা এই সড়কে গাছ কাটছে বন বিভাগ। তবে সওজ বলছে, সড়কটি প্রশস্ত করার কোনো প্রকল্প নেওয়া হয়নি। গাছ কাটার কারণও তাদের জানা নেই। বন বিভাগ থেকে শুধু গাছ কাটার দরপত্রের একটি কপি তাদের দেওয়া হয়েছে।
এদিকে গাছ কাটার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবেশকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। রবিবার সুনামগঞ্জ জেলা হাওর ও নদীরক্ষা আন্দোলনের উদ্যোগে সড়কের ইচ্ছারচর এলাকায় মানববন্ধন করা হয়। সেখানে বক্তারা অবিলম্বে গাছ কাটা বন্ধ করার দাবি জানান। অন্যথায় বন অফিস ঘেরাও করার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিদেশি প্রজাতির গাছ কাটার কথা বলা হলেও সড়কের পাশে থাকা দেশীয় ফলদ ও ছায়াবৃক্ষও কেটে ফেলা হচ্ছে।
ইচ্ছারচর গ্রামের বাসিন্দা শাহিনুর মিয়া তার বাড়ির সামনে কেটে ফেলা একটি জামগাছ দেখিয়ে বলেন, ‘জায়গাটুকু সরকারি, কিন্তু জামগাছটি আমি লাগিয়েছি। এলাকার শিক্ষার্থী ও পথচারীরা এই গাছের ছায়া পেতেন। জাম পাকার মৌসুমে সবাই গাছ থেকে জাম নিয়ে খেতেন। গাছটি কাটার সময় আশপাশের সবাই মিলে বাধা দিয়েছি। তবু তারা দুটি গাছ কেটে ফেলেছে।’
একই গ্রামের কালাম মিয়া বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই সড়কের পাশের শত শত গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। আকাশমণি, রেইনট্রিসহ বিদেশি গাছ কাটার দরপত্র হয়েছে বলে শুনেছেন তিনি। কিন্তু দেশীয় গাছও কাটা হচ্ছে। বাধা দিলেও গাছ কাটার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা তা মানছেন না।
হাওর ও নদীরক্ষা আন্দোলনের নেতারা বলেন, সড়কের পাশে থাকা ছায়াবৃক্ষের মূল্য শুধু টাকার অঙ্কে নির্ধারণ করা যায় না। পথচারী ও স্থানীয় মানুষের জন্য এসব গাছ গুরুত্বপূর্ণ। তাদের দাবি, সাচনা ও ছাতক-দোয়ারাবাজার এলাকায় প্রায় পাঁচ হাজার গাছ বিক্রি করা হয়েছে। অথচ এসব গাছের কাঠের বাজারমূল্য ১০ কোটি টাকা হতে পারে। এভাবে সরকারও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
সংগঠনের সভাপতি রাজু আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাছ কাটা বন্ধ না হলে বন অফিস ঘেরাও করা হবে।
এর আগে ২০২৪ সালে বন বিভাগ ওই সড়কের প্রায় ৩ হাজার গাছ কাটার জন্য দরপত্র আহ্বান করেছিল। স্থানীয় লোকজনের প্রতিবাদের মুখে তখন গাছগুলো কাটা হয়নি।
পরিবেশ কর্মীরা বলেন, ২০২৫ সালে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) করা একটি রিটের পর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ সামাজিক বনায়ন বিধিমালা, ২০০৪-এর আওতায় রোপণ করা গাছ না কেটে গাছের বাজারমূল্য নির্ধারণ করে নির্বাচিত উপকারভোগীদের অর্থ দেওয়ার বিধান যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। একই রায়ে সামাজিক বনায়নের গাছ কাটার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের কমিটির অনুমোদনের বিষয়টিও এসেছিল বলে তিনি জানান।
সুনামগঞ্জ জেলা বন কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন শনিবার বলেন, গাছ কাটার অনুমোদন জেলা কমিটিতে হয়েছিল।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান বলেন, সুনামগঞ্জ-সাচনা সড়ক প্রশস্ত করার কোনো প্রকল্প নেওয়া হয়নি। গাছ কাটার বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কিছু জানা নেই। বন বিভাগ থেকে গাছ কাটার একটি দরপত্রের কপি শুধু তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
বন বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, সড়কের পাশে আকাশমণিসহ বিভিন্ন বিদেশি প্রজাতির গাছ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বন সংরক্ষণ আইন, ২০২৬ অনুযায়ী এসব গাছের পরিবর্তে নতুন করে দেশীয় প্রজাতির গাছ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তবে সড়কের পাশে থাকা দেশীয় প্রজাতির গাছও কাটা হচ্ছে- এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, দেশীয় প্রজাতির গাছ কাটা হবে না।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host