ঢাকা |
প্রকাশিত: 9:36 PM, August 27, 2026
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ওয়েজখালী এলাকায় বহুল আলোচিত ওয়ারিশ আলী হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। মামলার ১১ আসামির মধ্যে দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং নয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আকবর হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—ওয়েজখালী এলাকার সুনাফর আলীর ছেলে খেলু মিয়া ওরফে ফেলু মিয়া এবং গমীর বক্সের ছেলে বাদশা মিয়া।
রায়ে চার আসামিকে সাত বছর করে এবং পাঁচ আসামিকে দুই বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই রায়ে ১১ আসামির প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—নুরুজ্জামান, খোরশেদ আলম, নুরুল মিয়া ও রামিজ আলী। দুই বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—তাহের মিয়া, নুর উদ্দিন, জগলু মিয়া, রাজা মিয়া ও সহিনুর মিয়া।
অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় জাকারিয়া, আব্দুল জহুর, সাজ্জাত আলী, রেনু মিয়া, জুয়েল মিয়া, মো. শফিকুল ইসলাম, খলিল, সুমন, রিপন ও শাহাবুদ্দিনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া মামলার দুই আসামি শাহের আলী ও পারভেজ মিয়া মারা যাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে চলমান মামলা অবসান করে দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
রায়ে পলাতক আসামি খোরশেদ আলম ও নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা আগে যে সময় হাজতে ছিলেন, আইন অনুযায়ী সেই সময় তাদের সাজা থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের এডিশনাল পিপি অ্যাডভোকেট শেরেনুর আলী। আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট সালেহ আহমদ।
মামলার রায়ের বিবরণে জানা যায়, স্থানীয় পৌরসভার কাউন্সিলর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাদী ও আসামিপক্ষের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার আগের দিন ২০১৪ সালের ২৮ জুলাই জুয়েল মিয়ার সঙ্গে সাক্ষী ফয়জুর রহমানের কথা-কাটাকাটি হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
এর পরদিন ২৯ জুলাই, ঈদের দিন সকালে ওয়েজখালী পয়েন্টের একটি মসজিদে ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ওয়ারিশ আলীসহ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত ওয়ারিশ আলীকে প্রথমে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ৪ আগস্ট ওয়ারিশ আলী মারা যান। তার মৃত্যুর পর ওই ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ মামলার তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। দীর্ঘ শুনানি শেষে প্রায় এক যুগ পর বৃহস্পতিবার মামলাটির রায় ঘোষণা করেন আদালত।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host