চার দফা দাবিতে সিলেটের ২৩ চা-বাগানে চা শ্রমিকদের কর্মবিরতি

প্রকাশিত: 4:40 PM, August 27, 2026

চার দফা দাবিতে সিলেটের ২৩ চা-বাগানে চা শ্রমিকদের কর্মবিরতি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ, অবিলম্বে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন, ২০২৩ সালের গেজেট বাতিল এবং ভূমি অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে সিলেটের ২৩টি চা-বাগানে দুই ঘণ্টা করে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন চা শ্রমিকরা।

বুধবার থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়। বৃহস্পতিবারও তা অব্যাহত ছিল। শ্রমিকরা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন তারা।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সিলেট ভ্যালির মালনীছড়া, লাক্কাতুরা, বুরজান, খাদিমসহ ২৩টি চা-বাগানের শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন।

চা শ্রমিকদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ, ২০২৩ সালে প্রণীত গেজেট বাতিল, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন এবং চা শ্রমিকদের ভূমি অধিকার নিশ্চিত করা।

প্রায় এক মাস ধরে এসব দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন চা শ্রমিকরা। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৯ আগস্ট চার দফা দাবিতে সিলেটে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন তারা। পরে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। সেদিন দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসনকে ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেন শ্রমিকরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে সরকার উদ্যোগ না নেওয়ায় বুধবার থেকে দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু করেন তারা।

মালনীছড়া চা-বাগানের শ্রমিক ও চা শ্রমিক ঐক্য কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অজিত রায় বাড়াইক বলেন, বর্তমানে একজন চা শ্রমিকের দৈনিক মজুরি মাত্র ১৮৭ টাকা। বর্তমান সময়ে এই মজুরি দিয়ে একটি পরিবারের দু’বেলা দু’মুঠো খাবার জোগানো কঠিন। এ কারণে দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরিসহ চার দফা দাবি আদায়ে তারা আন্দোলনে নেমেছেন। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

বুরজান চা-বাগানের শ্রমিক সাইদুল রহমান সোহেল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন না হওয়ায় অনেক বাগানে ভারপ্রাপ্তদের দিয়ে কমিটি পরিচালিত হচ্ছে। এতে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তাই দ্রুত শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

লাক্কাতুরা চা-বাগানের শ্রমিক রঘু দাস বলেন, বর্তমানে তারা প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করছেন। দাবি আদায় না হলে পর্যায়ক্রমে টানা কর্মবিরতির মতো কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার ঘোষণা রয়েছে।

এ বিষয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, শ্রমিকদের দেওয়া স্মারকলিপি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তাদের চার দফা দাবির মধ্যে চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি। নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া চলছে। এ জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় শিগগিরই নির্বাচন আয়োজন করবে।

এদিকে, গত ১৪ আগস্ট চা শ্রমিকদের দাবি নিয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন চা শ্রমিক ইউনিয়নের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। এ সময় তারা শ্রমিকদের অধিকার, ভূমি ও জীবনমান উন্নয়ন সংক্রান্ত আট দফা দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি মন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।

সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী আরিফুল হক জানান, চা-বাগানগুলোর বাস্তবতা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে শ্রম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ তদন্ত টিম গঠন করা হবে। ওই টিমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সরকার সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর