ঢাকা |
প্রকাশিত: 11:30 AM, September 8, 2026
সুলেমান সিদ্দিকী, গোয়াইনঘাট (সিলেট)ঃ
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনের দায়িত্বের বাইরে গিয়ে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সিলেটের গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক। রক্তের অভাবে সংকটাপন্ন এক প্রসূতি মায়ের জীবন যখন ঝুঁকির মুখে, তখন নিজের শরীরের রক্ত দিয়ে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সিলেটের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষিকা এবং গোয়াইনঘাট উপজেলার লেঙ্গুড়া এলাকার বাসিন্দা আবদুল হামিদের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী জুলফা বেগমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় গোয়াইনঘাট কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, প্রসূতি ও গর্ভস্থ সন্তানের জীবন রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে রক্তের প্রয়োজন।
কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে রক্তদাতা না পাওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়ে যান রোগীর স্বজনরা। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জুলফা বেগমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। একপর্যায়ে বিষয়টি গোয়াইনঘাট থানার ওসি ওমর ফারুকের কাছে পৌঁছায়।
খবর পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান ওসি ওমর ফারুক। চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, রোগীর প্রয়োজনীয় রক্তের গ্রুপের সঙ্গে তার নিজের রক্তের গ্রুপ মিলে গেছে। এরপর কোনো দ্বিধা না করে তিনি নিজেই রক্তদানের সিদ্ধান্ত নেন।
হাসপাতালে নিজের শরীর থেকে এক ব্যাগ রক্ত দিয়ে সংকটাপন্ন প্রসূতির জীবন রক্ষায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন ওসি ওমর ফারুক। সময়মতো রক্ত পাওয়ার পর জুলফা বেগমের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয় বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
জুলফা বেগমের মামা জুবায়ের আহমদ বলেন, “যখন চারদিকে অন্ধকার দেখছিলাম এবং কোনোভাবেই রক্তের ব্যবস্থা করতে পারছিলাম না, তখন ওসি স্যারের মতো একজন মানুষ এগিয়ে এসে জুলফার জীবন বাঁচাতে সহযোগিতা করেছেন। তার এই মানবিকতার কথা আমরা কোনোদিন ভুলব না।”
গোয়াইনঘাট কেয়ার হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শায়লা ইসলাম স্বর্ণা জানান, সঠিক সময়ে রক্ত পাওয়ায় রোগীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। দ্রুত রক্তের ব্যবস্থা হওয়ায় বড় ধরনের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
এদিকে ওসি ওমর ফারুকের এই মানবিক উদ্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন স্থানীয়রা। অনেকেই বলছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে পুলিশের মানবিক রূপও তুলে ধরেছেন তিনি।
ওসি ওমর ফারুক বলেন, “পুলিশের মূল কাজই হলো মানুষের সেবা করা এবং বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন গর্ভবতী নারী রক্তের অভাবে সংকটাপন্ন—এমন খবর পাওয়ার পর তার জীবন বাঁচানোকেই আমি সবচেয়ে বড় দায়িত্ব মনে করেছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক কর্তব্য। একজন মা ও তার অনাগত সন্তানের জীবন রক্ষায় সামান্য সহযোগিতা করতে পেরে আমি আত্মতৃপ্তি পেয়েছি। পুলিশ জনগণের সেবক—আমরা সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে আছি এবং থাকব
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host