জকিগঞ্জে শাইখ আব্দুল্লাহ রহ. ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের কুরআন প্রতিযোগিতা

প্রকাশিত: ৭:২৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১১, ২০২৬

জকিগঞ্জে শাইখ আব্দুল্লাহ রহ. ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের কুরআন প্রতিযোগিতা

জকিগঞ্জ প্রতিনিধি
পবিত্র কুরআনের হাফেজ তৈরিতে আগ্রহ বৃদ্ধি এবং কুরআন শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের আরও উদ্বুদ্ধ করতে জকিগঞ্জে হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শাইখ আব্দুল্লাহ রহ. ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের উদ্যোগে শনিবার (৩ জানুয়ারি) বারঠাকুরী ইউনিয়নের আর-রাহমান কমিউনিটি সেন্টারে দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়।

প্রতিযোগিতায় জকিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন মাদরাসা ও স্কুল থেকে আগত ক্ষুদে ও কিশোর হাফেজরা অংশগ্রহণ করে। অংশগ্রহণকারীদের জন্য হিফজ সম্পূর্ণ (৩০ পারা), ১৫ পারা এবং স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য নাযারাহ—এই তিনটি বিভাগে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতার মান ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে অভিজ্ঞ ও দক্ষ হাফেজদের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, হিফজুল কুরআন কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়; এটি কুরআনের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তোলার এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মাঝে কুরআনের প্রতি ভালোবাসা বাড়ায় এবং ভবিষ্যতে দ্বীনের খাদেম হিসেবে গড়ে উঠতে অনুপ্রেরণা যোগায়।

ট্রাস্টের চেয়ারম্যান খালিদ তাপাদার বলেন, বর্তমান সময়ের নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও যারা কুরআনের হিফজে নিজেদের নিয়োজিত রেখেছে এবং কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখছে, তারা সত্যিকার অর্থেই সৌভাগ্যবান। সমাজ ও রাষ্ট্রের উচিত এ ধরনের শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো।

প্রতিযোগিতায় ৩০ পারা গ্রুপে মানিকপুর হোসাইনিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী মোহা. সোফায়ের আহমদ, ১৫ পারা গ্রুপে একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী মো. মাশরাফি আহমদ এবং স্কুলভিত্তিক নাযারাহ প্রতিযোগিতায় ছবড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিফতাহুল জান্নাত ফাইজা প্রথম স্থান অধিকার করে।

উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি বাবুরবাজার জামেয়া মকদ্দসিয়া মাদরাসায় প্রতিযোগিতার প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। ওই পর্বে তিনটি গ্রুপে মোট ২৫৭ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। সেখান থেকে বাছাই করে তিন গ্রুপে মোট ৫০ জন শিক্ষার্থীকে চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।

ট্রাস্টের ব্যবস্থাপক মাওলানা কবির আহমদ বলেন, এবছর আমরা ভিন্ন আঙ্গিকে প্রতিযোগিতার সূচনা করেছি। সাধারণত কুরআন প্রতিযোগিতায় শুধু মাদরাসা শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হয়, কিন্তু আমরা স্কুল শিক্ষার্থীদেরও যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছি। এতে তারা কুরআন শরীফ সহিহ ও শুদ্ধভাবে পড়তে আরও আগ্রহী হবে ইনশাআল্লাহ।

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীসহ বাছাইপর্বের সকল প্রতিযোগীর হাতে পুরস্কার ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে দেশ, জাতি ও সমগ্র উম্মাহর কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর