ঢাকা ২৮শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৮:৩১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০২৬
জুবায়ের আহমদ, জকিগঞ্জ
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় দোকান নির্মাণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলেছে একটি ভুক্তভোগী পরিবার।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাত ৮টায় জকিগঞ্জে কর্মরত সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ভুক্তভোগী ময়নুল হকের পক্ষে তাঁর ছেলে সাদিকুর রহমান লিখিত বক্তব্য পাঠ করে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। এ সময় তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
ভুক্তভোগী ময়নুল হক (পিতা: হাজী আব্দুন নূর, মাতা: আয়নুল বেগম), গ্রাম: কামালপুর, ৩নং কাজলসার ইউনিয়ন, থানা: জকিগঞ্জ, জেলা: সিলেট। তিনি তাঁর মায়ের নামীয় ও উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত জমিতে বৈধভাবে একটি ছোট দোকানঘর নির্মাণ করে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করলে একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্র এতে বাধা দেয় বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
বক্তব্যে জানানো হয়, গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে অভিযুক্তরা নিয়মিতভাবে চাঁদা দাবি করে আসছিল। ভয়ভীতি ও হুমকির মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে মোট প্রায় ৫০ হাজার টাকা আদায় করা হয়, যা কোনো স্বেচ্ছা লেনদেন নয় বরং প্রকাশ্য চাঁদাবাজি। এসব টাকার কোনো হিসাব বা ফেরত দেওয়া হয়নি।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অভিযুক্তদের পরিচয় উল্লেখ করে বলা হয়, এই চক্রের প্রধান অভিযুক্তরা হলেন আব্দুল করিম, আব্দুল জব্বার, আতিকুর রহমান ও আব্দুস শুক্কুর। সকলের পিতা মৃত মহরম আলী (তেরা)। গ্রাম চরিগ্রাম (দক্ষিণ মরইতল), ৩নং কাজলসার ইউনিয়ন, থানা জকিগঞ্জ, জেলা সিলেট। এছাড়াও তাদের সঙ্গে আরও কয়েকজন অজ্ঞাত সহযোগী জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ২০২৩ সালে আতিকুর রহমান একটি রাজনৈতিক সংগঠনের পদে নির্বাচিত হওয়ার পর অভিযুক্ত চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ২০২৪ সালের ২৪ জুলাইয়ের আন্দোলনের পর তারা কিছুটা নিরব থাকলেও সম্প্রতি আবার সক্রিয় হয়ে উঠে।
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ময়নুল হকের ওপর প্রকাশ্যে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়। এ সময় নগদ ৩০ হাজার টাকা এবং দোকান নির্মাণকাজে ব্যবহৃত একটি ড্রিল মেশিন ছিনিয়ে নেওয়া হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭৫ হাজার টাকা। একই সঙ্গে জোরপূর্বক দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আটগ্রাম স্টেশন বাজার কমিটির হস্তক্ষেপে দোকানটি সাময়িকভাবে খুলে দেওয়া হলেও পরিবারটি এখনও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় ময়নুল হক জকিগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং ৩, তারিখ ১৪ জানুয়ারি ২০২৬)। মামলার পর অভিযুক্ত আব্দুল করিম গ্রেপ্তার হলেও পরদিনই জামিনে মুক্ত হয়ে আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, বর্তমানে অভিযুক্তরা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও হুমকি দিচ্ছে। ধর্মীয় মাহফিল ও সামাজিক অনুষ্ঠানেও পরিবারটি নিরাপদ নয়। মামলা তুলে নিতে পরিবারটিকে মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করে বলা হয়, অভিযুক্তদের নাম, ঠিকানা ও মামলার তথ্য প্রশাসনের কাছে থাকা সত্ত্বেও যদি দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয় এবং কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটে, তবে এর দায় এড়ানো যাবে না।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়Ñ অবিলম্বে সকল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার, তাদের জামিন সুবিধা কঠোরভাবে পর্যালোচনা, ময়নুল হক ও তাঁর পরিবারের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ভবিষ্যতে যেন আর কোনো ধরনের চাঁদাবাজি ও হয়রানির শিকার না হতে হয় সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য দাবী জানানো হয়।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host