ব্যাখ্যা দিলেন ওসমানীনগরের ইউএনও আশা
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি বিক্রি করায় জরিমানা

প্রকাশিত: ৯:০৬ অপরাহ্ণ, জুন ৪, ২০২৬

<span style='color:#077D05;font-size:19px;'>ব্যাখ্যা দিলেন ওসমানীনগরের ইউএনও আশা</span> <br/> আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি বিক্রি করায় জরিমানা

আব্দুর রকিব আনু, ওসমানীনগর
সিলেটের ওসমানীনগরে ক্রেতাসেজে উপজেলার তাজপুর বাজারে অবস্থিত বনফুল অ্যান্ড কোম্পানিতে বাসি মিষ্টি বিক্রির অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে জরিমানা আদায় করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুনমুন নাহার আশা। আর এই বিষয়টিকে ভিন্নখ্যাতে গনমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার ব্যখ্যা দিয়ে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুনমুন নাহার আশা বলেন, তাজপুর বাজারে অবস্থিত বনফুল অ্যান্ড কোম্পানিতে বাসি মিষ্টি বিক্রির অভিযোগ বেশ কয়েকদিন থেকেই আসছিল। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের ও সতর্ক করা হয়েছে। ঈদের পরদিন ঘটনার সময় ভ্রাম্যমান আদালতের টিম বাইরে রেখে আমি ক্রেতার বেশে বনফুল অ্যান্ড কোম্পানিতে যাই। সেখানে ক্রেতা সেজে তাদের জানাই মিষ্টি কিনবো। এসব মিষ্টি ভালো কিনা জানতে চাইলে তারা বলেন, না এগুলা অনেক আগের। কত দিন আগের জিজ্ঞেস করলে কেউ বলছেন ঈদের তিন দিন আগের, কেউবা বলছেন, ঈদের আগের দিনের। তখন তদের কাছে মিষ্টির চালান চাই। চালান দেখাতে অস্বিকৃতি জানালে আদালতের টিমকে ডাকা হলে তারাও ভিতরে আসেন। আমি আমার পরিচয় দিলে তারা চালান দেখান। চালানের সাথে মিষ্টির কোন মিল নাই। তখন তারা জানায় সবুজ কালারের সন্দেস সামনের গুলা পুরাতন, পিছনের গুলা নতুন। এসময় তারা নিঃস্বর্থ ক্ষমা চান। তখন ম্যানেজারকে ডাকার জন্য বললে দোকানের কর্মচারী ম্যানেজারকে ডাকতে গিয়ে আর আসেননি এবং নিজের মোবাইল ফোনও বন্ধ করে রাখেন। এতে তিনি অভিযুক্ত হয়। পরবর্তীতে ম্যানেজার আসলে উনাকে বললাম যে, তিনি পলায়ন করেছেন সুতরাং মামলা দায়ের ছাড়া কোন উপায় নেই। অপরাধ আমার সামনে সংগঠিত এবং উধঘাটনও হয়েছে। এসময় ম্যানেজারও ক্ষমা প্রার্থনা করলে পালিয়ে যাওয়া কর্মচারীকে সামনে আনার জন্য বলি। পরে লোক পাঠিয়ে ওই কর্মচারীকে নিয়ে আসেন। এসময় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। কর্তপক্ষ জরিমানার টাকা পরিষদ করেন। আমি যত সময় ওই প্রতিষ্ঠানে ছিলাম তত সময় একাধিকবার আমাকে আপা সম্বন্ধোন করে কথা বলেছেন কর্তপক্ষের অনেকেই। এটা তেমন কোন বিষয় না। একটা সময় আপা ডেকে হাতেপায়ে ধরে মাফ চাইতে চাইলে আমি উনাকে বলেছি আমি এখানে এক্সিউটিভ ম্যাজিস্টিট হিসাবে এখানে এসেছি। এই কথাটাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে সাংবাদিক সাহেব সংবাদ প্রকাশ করেন। বিষয়টি আমি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। বাসি মিষ্টি বিক্রির অভিযোগে ওই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে এবং মোবাইলকোর্ট পরিচালনার সময় পালিয়ে যাওয়ায় জরিমানা করা হয়েছে। কোম্পানি তার কর্মচারীর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেবে, তা মোবাইল কোর্টে বিচার্য নয়; এটি সম্পূর্ণভাবে কোম্পানির নিজস্ব বিষয়।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর