সুনামগঞ্জে ক্যারাম ও মোবাইল অনলাইন জুয়া ক্যাসিনো গেইম খেলে নিস্ব হাজারো পরিবার

প্রকাশিত: 3:57 PM, September 8, 2026

সুনামগঞ্জে ক্যারাম ও মোবাইল অনলাইন জুয়া ক্যাসিনো গেইম খেলে নিস্ব হাজারো পরিবার

মোঃ আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা জুড়ে বিনোদনের আড়ালে গড়ে উঠেছে রমরমা অনলাইন মোবাইল জুয়া খেলে নিস্ব হচ্ছে হাজারো পরিবার। উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও গ্রামগঞ্জের চায়ের দোকানে এখন প্রকাশ্যে চলছে ক্যারাম খেলা। তবে এটি কেবল খেলা নয়, এর আড়ালে চলছে রমরমা জুয়ার আসর। এতে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে তরুণ প্রজন্মের বড় অংশ আসক্ত হয়ে পড়ছে। ক্যামেরায় ধরা পড়েছে সুনামগঞ্জের একটি চায়ের দোকানে ক্যারাম বোর্ড ঘিরে তরুণদের ভিড়। সকাল-সন্ধ্যা এভাবেই চলে জুয়ার আসর।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সদর উপজেলার হালুয়াঘাট,মঙ্গলকাটা,চৌমুহনী,হাছননগর,বড়পাড়া,নবীনগর,আপ্তাবনগর,ওয়েজখালী,বেতগঞ্জ বাজার,নীলপুর বাজার,জয়নগর বাজার,টুকেরবাজার সহ প্রায় ৮০ এরও বেশি চায়ের দোকানে ক্যারাম বোর্ড বসানো হয়েছে। বালাকান্দা বাজার, চৌহমুনী বাজার,নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সকাল ১০টা থেকে গভীর রাত ২টা পর্যন্ত চলে এই আসর। প্রতি গেমে ৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাজি ধরা হচ্ছে। হার-জিতের নেশায় সর্বস্ব হারাচ্ছে কিশোর ও যুবকরা।

স্থানীয়রা জানান, অনেক দোকানে ক্যারামের পাশাপাশি মোবাইলে অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো গেমও খেলা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা টিফিন ও বাসা থেকে চুরি করা টাকা এনে জুয়ায় হারাচ্ছে। স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, মাদকের পাশাপাশি এই জুয়ার আসরগুলো যুবসমাজকে পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবন থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। স্কুল ফাঁকি দিয়ে, টিউশনির টাকা মেরে অনেক ছাত্র এখন জুয়ার আসরে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সামাজিক অস্থিরতা ও চুরি-ছিনতাই আরও বাড়বে।
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের এক শিক্ষক বলেন, আমাদের অনেক মেধাবী ছাত্র এখন ক্লাসে আসে না। খোঁজ নিয়ে দেখি তারা শহরের বিভিন্ন চায়ের দোকানে ক্যারাম বোর্ডে বসে থাকে। এটা জাতির ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে।

এ বিষয়ে সদর মডেল থানার কর্মকর্তা মো রতন শেখ বলেন, ক্যারাম খেলার নামে জুয়ার আসর বসার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে দেখবো। জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। আমি স্পষ্ট করে বলছি, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে উপজেলার প্রতিটি পয়েন্টে বিশেষ অভিযান চালানো হবে। যেখানেই কেরাম বোর্ডের আড়ালে জুয়া পাওয়া যাবে সেখানেই বোর্ড জব্দ, জুয়াড়িদের গ্রেফতার করে জেল-জরিমানা করা হবে। অপরাধী যেই হোক, সে নেতা হোক আর জনপ্রতিনিধি হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, এ ধরনের কর্মকান্ড-সমাজ ও পরিবেশ নষ্ট করছে। জুয়াড়ি ও তাদের মদদদাতাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। সদর উপজেলাকে অপরাধমুক্ত রাখতে আমরা প্রশাসন বদ্ধপরিকর।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর