ঢাকার দুই সিটিতে এনসিপির মেয়র প্রার্থী আসিফ ও পাটওয়ারী

প্রকাশিত: 11:17 PM, September 8, 2026

ঢাকার দুই সিটিতে এনসিপির মেয়র প্রার্থী আসিফ ও পাটওয়ারী

বিজয়ের কন্ঠ ডেস্কঃ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ না নিয়ে এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এরই অংশ হিসেবে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণসহ পাঁচ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে দলটি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) এনসিপির প্রার্থী হচ্ছেন দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) প্রার্থী হচ্ছেন দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তবে তাঁদের প্রার্থিতা আনুষ্ঠানিকভাবে পরে ঘোষণা করবে দল।

এনসিপির সূত্র জানায়, সম্প্রতি ১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের প্রস্তুতি সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটগতভাবে না গিয়ে শরিক দলগুলো আলাদাভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়। এরপর এনসিপির রাজনৈতিক পরিষদের বৈঠকে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর আগে গত ৩০ মার্চ ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ পাঁচ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছিল এনসিপি। তখন ঢাকা দক্ষিণে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং ঢাকা উত্তরে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবকে প্রার্থী করা হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকা উত্তরে আদীবের পরিবর্তে আসিফ মাহমুদ এবং ঢাকা দক্ষিণে আসিফ মাহমুদের পরিবর্তে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

দলীয় সূত্রের দাবি, প্রার্থী পরিবর্তনের আগে ঢাকার দুই সিটি এলাকায় বিভিন্ন ধরনের সমীক্ষা চালানো হয়। এতে ঢাকা উত্তরে আসিফ মাহমুদ এবং দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রার্থী করা হলে ভালো ফলের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া যায়। মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি যাচাইয়ের পর আসিফ মাহমুদও ঢাকা উত্তরে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দেন।

মেয়র পদে নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দুজনই ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন। আসিফ মাহমুদ ঢাকা দক্ষিণের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন আফতাবনগর এলাকার ভোটার হয়েছেন। অন্যদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা উত্তর থেকে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে ঢাকা দক্ষিণের আওতাধীন ঢাকা-৮ সংসদীয় এলাকার ভোটার হয়েছেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হওয়া প্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক ও সমর্থকদেরও সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হতে হয়। এনসিপির নেতারা বলছেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই আসিফ মাহমুদ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন।

গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৮ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ওই নির্বাচনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের কাছে অল্প ব্যবধানে পরাজিত হন তিনি। অন্যদিকে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ওই নির্বাচনে অংশ নেননি।

এনসিপির দলীয় সূত্র বলছে, ঢাকা-৮ আসনে গত নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওই এলাকায় একটি রাজনৈতিক ভিত্তি তৈরি হয়েছে। দলীয় সমীক্ষাতেও এর প্রতিফলন পাওয়া যায়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাঁকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আসিফ মাহমুদ বলেন, তাঁর ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ভোটার এলাকা পরিবর্তন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতির অংশ। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে দলের সর্বোচ্চ ফোরামে আলোচনা করে তাঁকে ঢাকা উত্তরে এবং নাসীরুদ্দীনকে ঢাকা দক্ষিণে মেয়র পদে নির্বাচন করানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে প্রার্থিতা আনুষ্ঠানিকভাবে পরে ঘোষণা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সিটি করপোরেশনসহ সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনেই এনসিপি এককভাবে অংশ নেবে। সে লক্ষ্যেই দলীয় প্রস্তুতি চলছে।

জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির সূত্রগুলো বলছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নেওয়ার বিষয়ে জামায়াতের আগ্রহ কম। এনসিপিসহ অন্য শরিকদেরও ধারণা, স্থানীয় নির্বাচনে কার্যকরভাবে জোটগতভাবে প্রার্থী দেওয়া কঠিন। এ কারণে ১১-দলীয় ঐক্যের নেতারা স্থানীয় নির্বাচনে আলাদাভাবে অংশ নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তবে নির্বাচনে আলাদাভাবে অংশ নিলেও রাজনৈতিকভাবে ১১-দলীয় ঐক্য অটুট থাকবে বলে দলগুলোর নেতারা জানিয়েছেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটসহ বিভিন্ন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে তারা যৌথ কর্মসূচি পালন করবে। এর মধ্যে আরও কয়েকটি লংমার্চ এবং ঢাকায় মহাসমাবেশের কর্মসূচিও রয়েছে।

স্থানীয় নির্বাচনে শরিক দলগুলো আলাদাভাবে প্রার্থী দিলেও পরস্পরের সঙ্গে সংঘাত এড়াতে সমন্বয় রাখার কথাও জানিয়েছে দলগুলোর সূত্র। নির্বাচন কমিশন বা সরকারের পক্ষ থেকে অসহযোগিতা কিংবা কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হলে ১১-দলীয় ঐক্য সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ করবে বলেও জানা গেছে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, রাজনৈতিকভাবে ১১ দল ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাবে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রত্যেক দল আলাদাভাবে অংশ নেবে। তাঁদের নির্বাচনী প্রচারের মূল লক্ষ্য কোনো ব্যক্তি নয়; বরং বিদ্যমান ব্যবস্থার পরিবর্তন। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তাঁরা সোচ্চার থাকবেন।

জামায়াতে ইসলামী ছাড়া ১১-দলীয় ঐক্যের উল্লেখযোগ্য শরিকদের মধ্যে রয়েছে এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর