ঢাকা |
প্রকাশিত: 2:15 AM, October 20, 2026
মো আব্দুল শহীদ সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের ‘সাফেলা বড় বিল ও কুড়ি’ বিলে ইজারাদারকে দখল বুঝিয়ে দেওয়া ও বিলের ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সরকারি খাসজমি বন্দোবস্তপ্রাপ্ত কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ইজারাদার। এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তাঁরা।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সরেজমিন তদন্তে যান পৈন্দা ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের তহশিলদার মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি সরকারি কাজে বাধা দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ইজারাদারদের দাবি, ১৪৩৩ থেকে ১৪৩৮ বাংলা সন পর্যন্ত ছয় বছরের জন্য ১৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা রাজস্ব জমা দিয়ে উন্নয়ন স্কিমের আওতায় গত ১৯ আগস্ট বিলটি ইজারা পান তাঁরা। পরে ১১ অক্টোবর সরকারি প্রক্রিয়ায় দখলনামা বুঝে নেন। ‘পুবের বিল’ নামেও পরিচিত জলমহালটি আহমদপুর মৌজায় অবস্থিত। সরকারি খতিয়ানের ৫০১, ২১০ ও ৫৬০ নম্বর দাগ এবং ৬ নম্বর রেজিস্ট্রারের তথ্য অনুযায়ী তাঁরা ইজারা পেয়েছেন বলে জানান।
ইজারাদারদের ভাষ্য, প্রায় ১৬ একর আয়তনের ‘সাফেলা বড় বিল ও কুড়ি’ বিলের ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করবে উজান-সাফেলা, ভাটি-সাফেলা, সেনপাড়া ও ঢুলপশী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড। কিন্তু সেনপাড়া গ্রামের কয়েকটি পরিবার সরকারি খাসজমি বন্দোবস্ত নেওয়ার দাবি করে বিলের পাড় ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে বাধা দিচ্ছে। এ কারণে তাঁরা আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
বিলের ইজারাদার ময়না মিয়া বলেন, সরকারকে ১৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা রাজস্ব দিয়ে ছয় বছরের জন্য বিলটি ইজারা নিয়েছি। কিন্তু তহশিলদার সরেজমিন তদন্তে গেলে স্থানীয় কয়েকজন তাঁকে বাধা দেন। এতে বিলের ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সেনপাড়া গ্রামের মানিক মিয়া ও মইনুল হকসহ কয়েকজন এ বাধার সঙ্গে জড়িত। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন সরকারি খাসজমি বন্দোবস্ত নিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। একই পরিবারের চারজন খাসজমি বন্দোবস্ত পেয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পৈন্দা ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের তহশিলদার মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “আমি তদন্তে গেলে সেনপাড়া গ্রামের এক ব্যক্তি আমাকে বাধা দেন। তিনি দাবি করেন, বিলের পাড় তাঁদের বন্দোবস্ত নেওয়া জায়গা। এ সময় আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আদিত্য পাল বলেন, আমি তহশিলদারকে সরেজমিন পরিদর্শনের জন্য পাঠিয়েছিলাম। সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনা সত্য হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তাপস শীল বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host