সম্পাদকীয়
সড়কে জনদুর্ভোগ চলমান অচলাবস্থা সমাধানে ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি

প্রকাশিত: 7:58 PM, August 4, 2019

<span style='color:#077D05;font-size:19px;'>সম্পাদকীয়</span> <br/> সড়কে জনদুর্ভোগ চলমান অচলাবস্থা সমাধানে ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি

রাজধানীতে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর নিহতের প্রতিবাদে গত রোববার থেকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন শহর। গত কয়েকদিন রাস্তায় পর্যাপ্ত যানবাহন চলাচল না করায় মারাত্মক দুর্ভোগের শিকার হতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমাতে বৃহস্পতিবার সারা দেশের স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণার কৌশল নেওয়া হলেও, তা কাজে লাগেনি। নিরাপদ সড়কের দাবিতে এদিন রাজপথে আগের চার দিনের চেয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেশিই লক্ষ্য করা গেছে। কেবল রাজধানীতেই নয়, সারা দেশেই রাস্তায় নেমেছিল শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা সড়কে নিরাপত্তার দাবিতে নয় দফা দাবি জানিয়ে নিজেরাই সড়কের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। তারা রাস্তায় অবস্থান নিয়ে লাইন্সেবিহিনী যানবাহন আটকে দেয়। বাদ যায়নি মন্ত্রী, এমপি ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের গাড়িও। শুধু রাজধানীতে নয়, সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ায় ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন নজর কাড়ে সরকারের ঊর্ধ্বতনমহলসহ পুরো দেশবাসীর। এর প্রেক্ষিতে সরকার সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কঠোর আইনের বিধান রেখে সড়ক আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সড়ক আইনটি আগামী সোমবার মন্ত্রিসভায় উঠতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
এ সিদ্ধান্তটি দেশাবাসীর মনে আশার সঞ্চার করেছে। আমরা চাই সড়কে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা বিধানে কঠোর আইন ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ হোক। আইনের কঠোরতায় দোষিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা গেলে সড়ক নিরাপত্তা ফিরে আসবে বলে আমাদের বিশ্বাস। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বৃহস্পতিবার বাসচাপায় নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারকে ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র অনুদান হিসেবে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী সময়োপযোগী এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। এছাড়া সড়কের নিরাপত্তা এবং দোষি বাস চালক-শ্রমিকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে একাধিক মন্ত্রী আশ্বাসও দিয়েছেন।
আমরা আশা করছিÑ যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং চলমান অচলাবস্থা দূর হবে। তারপরও নানা শংকা থেকে স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে না। কেননা কোমলমতি শিশুদের আন্দোলনের মধ্যে স্বার্থান্বেষী মহল ঢুকে পড়েছে বলে সরকার ধারণা করছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকরাও বিক্ষোভ করেছে। ছাত্র-শ্রমিক সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। ছাত্র ও শ্রমিকরা মুখোমুখি হয়ে গেলে নতুন সংকট দেখা দেবে দিতে পারে বলে আশঙ্কা দানা বাঁধছে। এদিকে পূর্বঘোষণা ছাড়াই এবার সারাদেশে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে পরিবহন মালিক-শ্রকিমরা। যানবাহন না পেয়ে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।
এমন পরিস্থিতিতে সড়কে পরিবহন চলাচলে যে শৃঙ্খলার অভাব রয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ছাত্র ও শ্রমিকরা মুখোমুখি হয়ে গেলে নতুন সংকট দেখা দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই সংকট সমাধানে সরকারকে এখনই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্যোগ নিতে হবে। যাতে পরিস্থিতি বড় ধরনের সকটে না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বিশেষ করে উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে সুযোগসন্ধানীরা যেন ঘোলপানিতে পাছ শিকারের সুযোগ না পায়- সেটিও নজরদারীতে এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
আমরা আশা করব- ঢাকাসহ সারাদেশের যান চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্টরা সচেষ্ট হবেন। একই সঙ্গে সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন হলো, রাজপথে নেমে আসা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে নেওয়া। এমন কোন অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির যেন সৃষ্টি না হয় যাতে রাজপথ ও মানুষের জীবনাযাত্রায় অচলাবস্থা সষ্টি হয়। সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহল বিষয়টি নিয়ে ভাববে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর