তৎকালীন ইউএনওর নির্দেশে ছবি সরানোর অভিযোগ, পুনঃস্থাপন ও ঘটনার তদন্ত দাবি মুক্তিযোদ্ধাদের
হবিগঞ্জে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ বলে জাতীয় চার নেতার মুরাল অপসারণ, ক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধারা

প্রকাশিত: 1:45 PM, August 29, 2026

<span style='color:#077D05;font-size:19px;'>তৎকালীন ইউএনওর নির্দেশে ছবি সরানোর অভিযোগ, পুনঃস্থাপন ও ঘটনার তদন্ত দাবি মুক্তিযোদ্ধাদের</span> <br/> হবিগঞ্জে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ বলে জাতীয় চার নেতার মুরাল অপসারণ, ক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধারা

হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধসংলগ্ন জগদীশপুরের মুক্তিযোদ্ধা চত্বর থেকে জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামানের মুরাল অপসারণের ঘটনায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অনুদানে নির্মিত মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে জাতীয় চার নেতার মুরালাকৃতির ছবি স্থাপন করা ছিল। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় এক মাস আগে মাধবপুরের তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেমের নির্দেশে ছবিগুলোকে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ আখ্যা দিয়ে সরিয়ে ফেলা হয়।

ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। তৎকালীন ইউএনও বদলি হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদে নামেন মুক্তিযোদ্ধারা। একই সঙ্গে অপসারণ করা জাতীয় চার নেতার ছবি পুনরায় স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তারা। মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের নেতারাও এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস শহীদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অনুদানে নির্মিত মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে জাতীয় চার নেতার ছবি ছিল। কোনো যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া ছবিগুলো অপসারণ করা হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।

এ ঘটনায় মাধবপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. অলিদ মিয়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। আবেগঘন এক পোস্টে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘ছবিগুলো কি খুব সমস্যা করছিল এই সরকারকে?’

তিনি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় যেসব নেতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, তাদের যথাযথ সম্মান দেওয়া উচিত। ঐতিহাসিক নেতাদের ছবি মুছে ফেলার সংস্কৃতি চালু হলে ভবিষ্যতে সময়ের ব্যবধানে সবাই এই অপসংস্কৃতির শিকার হতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ বিষয়ে বর্তমান প্রশাসনের বক্তব্য জানতে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর