ঢাকা |
প্রকাশিত: 5:57 PM, August 28, 2026
বিজয়ের কন্ঠ ডেস্কঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের শুরুর দিনই উত্তপ্ত হয়ে উঠল সংসদ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির সংসদ সদস্যরা। তাদের হট্টগোলে সংসদে ১০ মিনিটের মতো অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দুঃখ প্রকাশ করার জন্য আহ্বান জানান। আপত্তিকর শব্দ এক্সপাঞ্জ না করলে সংসদ বর্জনেরও হুমকি দেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। প্রশ্নোত্তরে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অভিযোগ তুলে প্রথমে এনসিপি এবং পরে জামায়াতের একজন সদস্যের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পল্টন বা শাহবাগ স্কয়ার আর সংসদ এক জিনিস নয়। ঢালাও অভিযোগের জবাব দেওয়া সম্ভব নয়, সুনির্দিষ্ট ঘটনা তুলে ধরতে হবে।
প্রথমে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রশ্ন করেন। এই প্রশ্নে তিনি বর্তমান সরকারের ছয় মাসে খুন-ধর্ষণের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ কিনা, জানতে চান।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এটা প্রশ্ন হলো না পল্টনের বক্তৃতা হলো– বুঝতে পারিনি।’
পরে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ এ-সংক্রান্ত আরেকটি প্রশ্ন করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, দিনদুপুরে অস্ত্র ব্যবহার করে ছিনতাই হচ্ছে। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ওপর হামলা হচ্ছে। এমনকি সরকারি দলের সদস্য আয়নুল হক ও এসএম জাহাঙ্গীরের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ-সংক্রান্ত মামলায় আসামিকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। বরং এর পরিপ্রেক্ষিতে যে মিথ্যা ভুয়া মামলা দেওয়া হয়েছে, সেই মামলায় বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদক্ষেপ জানতে চান।
এক পর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শাহবাগ স্কয়ারে বক্তব্য দেওয়া আর পার্লামেন্টে বক্তব্য দেওয়া এক কথা না। তাঁর এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে সংসদে হইচই শুরু হয়। বিরোধী পক্ষের একাধিক সদস্য দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। বিরূপ পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি কাউকে উদ্দেশ করে বলেননি। তিনি তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার করছেন বলে জানান। এক পর্যায়ে মন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার আমি আপনার শেল্টার চাচ্ছি।’ এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিরোধী সদস্যদের নিবৃত্ত হওয়ার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য শেষ করতে দেওয়ার জন্য আহ্বান জানাতে থাকেন। বিরোধী সদস্যরা হইচই অব্যাহত রাখলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুনরায় বক্তব্য শুরু করেন। বিরোধী দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে হইচই করেন। স্পিকার বলেন, ‘আপনারা কি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য শুনতে রাজি না?’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর বিরোধী দলের নেতাকে সুযোগ দেওয়া হবে।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘কোথায় ছিনতাই হয়েছে, আসামি গ্রেপ্তার হয়নি– সেটার সুনির্দিষ্ট বর্ণনা দরকার। ঢালাও অভিযোগ করলে জবাব দেওয়া যায় না। সেজন্য বলছি, এটা মহান জাতীয় সংসদ।’
এর পর বিরোধীদলীয় নেতাকে সুযোগ দেন স্পিকার। এ পর্যায়ে সরকারি দলের একাধিক সদস্য হইচই শুরু করেন। এর মধ্যেই বক্তব্যের শুরুতে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, ‘এটা অশুভ। আমার বক্তব্যের সময় যদি এইভাবে কমেন্টস করা হয়, তাহলে আমার এখানে দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই।’
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজকে নতুন করে এই শব্দগুলো উচ্চারণ করেননি। তিনি বলেন, আজকে একই বক্তব্যে দুবার তিনি আক্রমণ করেন। তাঁর এই আচরণ বিরোধী দলের সদস্যরা মনে করে যে, এটা কালচারাল না, এটা পার্লামেন্টারিয়ান ফ্যাসিজম। এটা হওয়া উচিত না।
সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত স্পিকার
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমি গভীর দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, ক্রমেই কিছু কিছু সদস্যের মধ্যে অসহিষ্ণুতা লক্ষ্য করছি। জাতীয় সংসদ পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। এখানে প্রত্যেকেরই কথা বলার স্বাধীনতা আছে।’
স্পিকার বলেন, তিনি বক্তব্য পরীক্ষা করে দেখবেন, অসংসদীয় কিছু থাকলে এক্সপাঞ্জ করবেন। সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি কিন্তু সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা চিন্তিত। আজকে যেইভাবে একে অন্যকে কথা বলার ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ার প্রচেষ্টা লক্ষ্য করেছি, এটি সংসদের জন্য কোনো ভালো লক্ষণ নয়।
দুষ্টুলোকে বলে– ‘টুকু আসে, টুকু যায়’
জ্বালানি সংকট, লোডশেডিং নিয়ে সংসদে সমালোচনা করে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, ‘গ্যাস ও বিদ্যুতের বিষয়ে দুষ্টুলোকে বলে, ভালো লোকে বলে না– টুকু আসে, টুকু যায়। এই আসে, এই যায়। কতক্ষণ থাকে তারা নাকি বুঝতে পারে না।’
জ্বালানি সংকট নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, যখন তেলের দাম বাড়ছে, যখন বিদ্যুতের জন্য হাহাকার, যখন গ্যাস পাওয়া যায় না; তখন এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার প্রতিশ্রুতি যে সরকার দিয়েছিল, নির্বাচনে সে সরকার ক্ষমতায় আসার ছয় মাসের মধ্যে ৬২ হাজার লোক চাকরি হারিয়েছে। ৯শর ওপরে কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।
রুমিন ফারহানা বলেন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মুশকিল হয়, আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছেন– তিনি হয় ব্যঙ্গ করেন, না হলে বাকচাতুর্য দিয়ে পুরো বিষয়টি ঢেকে দিতে চান। কিন্তু সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বললে জানা যায়, বাংলাদেশে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যেমন তিনজন মন্ত্রী আছেন, ৬৪ জেলায় ৬৪ জন আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকলে কেবল মন্দ হতো না।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host