জেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া নৌকাবাইচ নয়, পুলিশ, আয়োজন নিয়ে অনড় আয়োজকরা
বিয়ানীবাজারে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি, আয়োজকদের প্রস্তুতি অব্যাহত

প্রকাশিত: 1:17 PM, August 29, 2026

<span style='color:#077D05;font-size:19px;'>জেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া নৌকাবাইচ নয়, পুলিশ, আয়োজন নিয়ে অনড় আয়োজকরা</span> <br/> বিয়ানীবাজারে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি, আয়োজকদের প্রস্তুতি অব্যাহত

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার সোনাই নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা বন্ধের দাবি জানিয়েছে তৌহিদী জনতা। তবে আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজন চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অনড় রয়েছেন আয়োজকরা। আগামী ২৮ আগস্ট নির্ধারিত সময়েই নৌকাবাইচ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।

এদিকে জেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কোনো নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল করিম।

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি বিট কর্মকর্তার মাধ্যমে শুনেছি। সেখানে দুটি পক্ষ রয়েছে। আমরা বলে দিয়েছি, জেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কোনো নৌকাবাইচ হবে না।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের লাউতা-বাহাদুরপুর যুব সমাজের উদ্যোগে প্রতিবছরের মতো এবারও বার্ষিক নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সোনাই নদীতে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। অতীতে আয়োজনটি নিয়ে কোনো ধরনের বাধার মুখে পড়তে হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তবে এবার ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে একটি পক্ষ নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি তুলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও এ নিয়ে বিভিন্ন পোস্ট দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বারিগ্রাম বাজার মসজিদে ‘তৌহিদী জনতা লাউতা ইউনিয়ন’ ব্যানারে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা থেকে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা বাতিলের দাবি জানানো হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে লাউতা ইউনিয়নের এক বাসিন্দা বলেন, স্থানীয় যুবকেরা দীর্ঘদিন ধরে সোনাই নদীতে নৌকাবাইচের আয়োজন করে আসছেন। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষ এই আয়োজন উপভোগ করেন। তবে কয়েক দিন ধরে স্থানীয় কয়েকজন যুবক ফেসবুকে প্রতিযোগিতার বিরুদ্ধে লেখালেখি করছেন। এতে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, প্রতিবছর শত শত মানুষ নৌকাবাইচ দেখতে নদীর পাড়ে জড়ো হন। তার দাবি, কিছু মানুষই নৌকাবাইচ বন্ধের জন্য অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

এ বিষয়ে ১১ নম্বর লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গউস উদ্দিন বলেন, পরিস্থিতি উত্তেজনাকর হয়ে ওঠায় উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা চলছে।

লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন বলেন, নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে পক্ষে-বিপক্ষে লেখালেখি হচ্ছে। আয়োজন বন্ধে বাধা দেওয়ার বিষয়টিও তিনি শুনেছেন। তবে কোনো পক্ষ এখনো তার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আসেনি। তিনি বলেন, নৌকাবাইচটি প্রায় প্রতিবছরই অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

অন্যদিকে নৌকাবাইচ আয়োজনের বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান জানিয়েছেন আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়েই নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হবে। প্রস্তুতির বিষয়ে শুক্রবার আয়োজকদের মিটিং হয়েছে এবং শনিবার সন্ধ্যায়ও আরেকটি সভা হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি বলেন, নৌকাবাইচ হচ্ছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর