সম্মানী ভাতা আত্মসাৎ ও ট্রাভেল জালিয়াতি
দোয়ারাবাজারে হাফিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী

প্রকাশিত: 2:52 AM, August 29, 2026

<span style='color:#077D05;font-size:19px;'>সম্মানী ভাতা আত্মসাৎ ও ট্রাভেল জালিয়াতি</span> <br/> দোয়ারাবাজারে হাফিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী

তৌফিকুর রহমান তাহের, বিশেষ প্রতিনিধি সুনামগঞ্জঃ

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে ভুয়া পরিচয়ে সরকারি ভাতা আত্মসাৎ, ট্রাভেল এজেন্সির নামে প্রতারণা এবং সুযোগ বুঝে রাজনৈতিক পরিচয় বদলানোর অভিযোগে হাফিজ উদ্দিন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ক্ষোভ ফুটে উঠেছে। টেংরাটিলা গ্রামের এই বাসিন্দার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে গত শুক্রবার বাদ জুমা পশ্চিম টেংরাটিলা জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় এক বিশাল মানববন্ধন করেন স্থানীয়রা।

মসজিদের নাম ভাঙিয়ে ভাতা আত্মসাৎ: হাফিজ উদ্দিন পশ্চিম টেংরাটিলা জামে মসজিদের ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত ‘মসজিদভিত্তিক সহজ কুরআন শিক্ষা’ কার্যক্রমের সরকারি সম্মানী তুলছেন। অথচ তিনি উক্ত মসজিদের ইমাম বা মুয়াজ্জিন কোনো পদেই ছিলেন না। জাল কাগজপত্র জমা দিয়ে তিনি কীভাবে এই সুযোগ পেলেন, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মসজিদ কমিটির সভাপতি আসক আলী ও সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন। তারা অবিলম্বে এই ভুয়া নিয়োগ বাতিল করে প্রকৃত ইমামকে পদে স্থলাভিষিক্ত করার দাবি জানান।
বিদেশে পাঠানোর নামে অর্থ প্রতারণা, ট্রাভেল ব্যবসার আড়ালে তিনি বিভিন্ন মানুষকে বিদেশে পাঠানোর নামে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মুকবুল হোসেন জানান, ভালো কাজের আশায় সম্বল বেচে তিনি হাফিজকে টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু বিদেশে যাওয়ার পর প্রতিশ্রুত কাজের সাথে মিল না পেয়ে এখন তিনি নিঃস্ব অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

সুযোগসন্ধানী রাজনীতি, স্বার্থ হাসিল করতে হাফিজ বারবার রাজনৈতিক রূপ বদলান বলে জানান স্থানীয়রা।

পূর্বে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সাথে সখ্য থাকলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমানে তাকে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের সাথে মেলামেশা করতে দেখা যাচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাফিজ উদ্দিন জালিয়াতির তথ্য এড়িয়ে গিয়ে বলেন, আমি পশ্চিম টেংরাটিলা মসজিদের নাম দিয়ে উত্তর টেংরাটিলায় পড়াই। আর প্রবাসীরা নানা কথা বলে, তাতে কান দিতে হয় না। এর বাইরে তিনি আর কোনো মন্তব্য করেননি।
অন্যদিকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক বিচারে তাকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট মনে হচ্ছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মসজিদের অর্থ আত্মসাৎ ও সর্বশান্ত করা প্রতারণার বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় টেংরাটিলা গ্রামবাসী।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর