ঢাকা |
প্রকাশিত: 1:49 PM, August 29, 2026
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার নৈনারপার বাজার-ইসলামপুর ইউপি অফিস ভায়া কাঁঠালকান্দি বিওপি ক্যাম্প সড়কের সংস্কারকাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রায় দুই বছর ধরে তা শুরুই হয়নি। ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এখনো সড়কটির সংস্কারকাজে হাত দেয়নি। উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর থেকে তাগিদপত্র দেওয়া হলেও তাতে কার্যকর সাড়া মেলেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংস্কারকাজ শুরু না হওয়ায় সড়কটির কার্পেটিং উঠে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে কাদায় পরিণত হয়। ফলে প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, বন্যা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ রাস্তার অবকাঠামো সংস্কার প্রকল্পের আওতায় মৌলভীবাজার জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে একটি প্যাকেজে চারটি সড়কের টেন্ডার আহ্বান করা হয়। এসব কাজের জন্য প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়।
টেন্ডারভুক্ত সড়কগুলোর মধ্যে কমলগঞ্জের চৈত্রঘাট-নয়াবাজার ভায়া শহীদনগর সড়ক রয়েছে। চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের চেইনেজ ৬৭৪০-৮৫০০ মিটার। অন্যটি নৈনারপার বাজার-ইসলামপুর ইউপি অফিস ভায়া কাঁঠালকান্দি বিওপি ক্যাম্প সড়ক। এটির দৈর্ঘ্য ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার এবং চেইনেজ ৮৬৬৮-১০২০০ মিটার। দুটি সড়কের মেরামতকাজের সমন্বিত প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় ৫ কোটি টাকা।
প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কুলাউড়ার ঠিকাদার মো. মুহিবুর রহমান কোকিল ও আরএবিআরসি (প্রাইভেট) লিমিটেডকে ঠিকাদার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। ২০২৪ সালের ২ এপ্রিল কার্যাদেশ দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
ঠিকাদার মুহিবুর রহমান কোকিল চৈত্রঘাট-নয়াবাজার সড়কের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করলেও নৈনারপার বাজার-ইসলামপুর সড়কের সংস্কারকাজ এখনো শুরু করেননি।
টেন্ডার পাওয়ার পাঁচ মাস পরও কাজ শুরু না হওয়ায় ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর থেকে ঠিকাদারকে তাগিদপত্র দেওয়া হয়। এরপরও কাজ বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে দুই বছর আগে সড়কে থাকা ছোটখাটো ভাঙন বর্তমানে বড় বড় গর্তে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে পাথর ও মাটি বেরিয়ে এসেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলোতে পানি জমে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়। কোথাও কোথাও রাস্তার পাশও ভেঙে পড়েছে।
বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) কাঁঠালকান্দি বিওপি ক্যাম্পে যাতায়াতসহ সীমান্ত এলাকার হাজারো মানুষের চলাচলের জন্য সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে এর বিভিন্ন অংশে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ তৈরি হওয়ায় সিএনজি অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে।
নৈনারপার এলাকার বাসিন্দা ফয়সল আহমেদ ও বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কবির আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুই বছর আগে সংস্কারকাজ শুরু হওয়ার কথা শুনে তারা আশাবাদী হয়েছিলেন। কিন্তু ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের গাফিলতির কারণে সড়কটির অবস্থা এখন আগের চেয়েও খারাপ হয়েছে। ঠিকাদারের এমন অবহেলা মেনে নেওয়া যায় না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলজিইডির সংশ্লিষ্ট দপ্তরের এক কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, ঠিকাদার মুহিবুর রহমান কোকিল প্রভাবশালী ব্যক্তি। তার বাড়ি কুলাউড়ায়। মৌলভীবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এলজিইডি ও সড়ক বিভাগের কয়েক কোটি টাকার কাজ চলমান থাকায় এবং উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ থাকায় স্থানীয় অফিসের তাগিদকে তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার মুহিবুর রহমান কোকিল বলেন, প্রথম সড়কটির কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ করা হয়েছে। তবে নৈনারপার অংশের বিটুমিন ও কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং পারিপার্শ্বিক কিছু জটিলতার কারণে কাজ শুরু করতে কিছুটা দেরি হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেখানে সরঞ্জাম পাঠিয়ে কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী সাইফুল আজম সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু না হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, অফিস থেকে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। ঠিকাদার দ্রুত কাজ শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host