ঢাকা |
প্রকাশিত: 3:42 AM, September 17, 2026
তৌফিকুর রহমান তাহের, বিশেষ প্রতিনিধি সুনামগঞ্জঃ
একটু ভিন্নধর্মী ভাব আর মাথার দুধল চুল—এই নিয়েই মানুষটাকে সবাই চিনতো।
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সেই বহুল পরিচিত ‘সোনাই পাগলার টংঘর’-এর স্বত্বাধিকারী, তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটর সোনা মিয়া হঠাৎ করেই এক নির্মম মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হলেন।
পুরনো শত্রুতার জেরে রানীগঞ্জ পশ্চিম বাজারের খাতুন কমপ্লেক্সের পেছনে বাগময়না গ্রামের পার্লার ব্যবসায়ী মাখন মিয়া দিনদুপুরে তাঁকে বেধড়ক মা/রধর করেন। শুধু মা/রধরেই ক্ষান্ত হননি, মাখন নিজ হাতে কাঁচি চালিয়ে কেটে দেন সোনা মিয়ার সেই সিগনেচার লম্বা চুলগুলো।
ঘটনার পরপরই বুকভাঙা ক্ষোভ ও কান্না নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে আসেন সোনা মিয়া। তাঁর সেই অসহায় লাইভ আর চুল কাটার দৃশ্য মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে, যা দেখে সুশীল সমাজ ও নেটিজেনদের হৃদয়ে তুফান উঠেছে।
সোনা মিয়ার দাবি, চাঁ/দা না দেওয়ায় পুরনো আক্রোশ থেকেই তাঁর ওপর এই বর্বরতা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত মাখন মিয়া আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিষয়টি নির্দ্বিধায় স্বীকার করলেও যেন বিন্দুমাত্র অনুতপ্ত নন!
একটি মানুষের ব্যক্তিগত রূপ কিংবা স্বাধীনতাকে এভাবে দিনের আলোতে কেড়ে নেওয়ার ঘটনা শুধু আইনি অপরাধই নয়, চরম অমানবিকতা। এ বিষয়ে জগন্নাথপুর থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, কোনো লিখিত অভিযোগ না পেলেও পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে এবং দ্রুতই প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একজন নিবেদিতপ্রাণ লোকশিল্পীর মতো সাধারণ মানুষকে বিনোদন দেওয়া সোনা মিয়ার ওপর এই অন্যায় আক্রোশের বিচার এখন সময়ের দাবি।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host