ঢাকা |
প্রকাশিত: 7:42 PM, September 14, 2026
মোঃ আব্দুর রকিব আনু, ওসমানীনগর (সিলেট) প্রতিনিধিঃ
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার উছমান পুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন স্থাপত্য উছমানপুর গায়েবী মসজিদ আজও কালের সাক্ষী হয়ে সগর্বে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সুপ্রাচীন এই স্থাপনাটি শুধু একটি প্রার্থনালয় নয়, বরং সিলেটের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও মোগল স্থাপত্যকলার এক অনন্য নিদর্শন।
ইতিহাস ও জনশ্রুতি
মসজিদটির সঠিক নির্মাণকাল নিয়ে দালিলিক প্রমাণের অভাব থাকলেও ইতিহাসবিদদের মধ্যে ভিন্ন মত রয়েছে:
(১)প্রথম মত (শাহজালাল রহ.-এর সফরসঙ্গীর আগমন): অনেক ইতিহাসবিদের মতে, হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর অন্যতম সফরসঙ্গী হযরত উছমান বোগদাদী (রহ.) এই অঞ্চলে আগমন করেন। তৎকালীন কোনো স্থানীয় জমিদার বা শাসক তাঁর ইবাদতের সুবিধার জন্য এই মসজিদটি নির্মাণ করে দেন। এই প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে মসজিদটির বয়স প্রায় ৭০০ থেকে ৭৫০ বছর বলে ধারণা করা হয়।
(২)দ্বিতীয় মত (মোগল আমল): অন্য একদল ইতিহাসবিদের মতে, ১৬০০ থেকে ১৭০০ খ্রিষ্টাব্দের মাঝামাঝি সময়ে এটি নির্মিত হয়েছিল। তখন প্রমত্তা বরাক নদী (যা বর্তমানে বুড়ি বরাক নদী নামে পরিচিত) এই এলাকার পাশ দিয়ে প্রবাহিত হতো। পরে এই বরাক নদী বিভক্ত হয়ে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর উৎপত্তি হয়।
স্থাপত্যশৈলী ও বৈশিষ্ট্য
মসজিদটির স্থাপত্যরীতি স্পষ্টতই মোগল আমলের শিল্পকলার পরিচয় বহন করে:
দেয়াল ও গম্বুজ: মসজিদটির দেয়াল অত্যন্ত প্রশস্ত এবং এর ওপর রয়েছে বিশালাকার গম্বুজ।
কারুকার্য: ভেতরের ও বাইরের সূক্ষ্ম নকশা এবং গঠনশৈলীতে মোগল স্থাপত্যের স্পষ্ট ছাপ দেখা যায়।
যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও সরকারি প্রত্নতাত্ত্বিক উদ্যোগ নেওয়া হলে ঊছমানপুর গায়েবী মসজিদটি এ অঞ্চলের ইতিহাস অনুরাগী ও পর্যটকদের জন্য আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host