বিছনাকান্দি ইউপিতে সেবা পেতে ভোগান্তি, তদন্তের আশ্বাস

প্রকাশিত: 6:21 PM, September 9, 2026

বিছনাকান্দি ইউপিতে সেবা পেতে ভোগান্তি, তদন্তের আশ্বাস

সুলেমান সিদ্দিকী, গোয়াইনঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি:
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ১৩ নম্বর বিছনাকান্দি ইউনিয়ন পরিষদে নাগরিক সেবা নিতে এসে ভোগান্তির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নির্বাচিত চেয়ারম্যান না থাকায় প্রশাসকের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হওয়া এই ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক বদরুল ইসলাম সপ্তাহে মাত্র একদিন বুধবার কার্যালয়ে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অনেক সময় নির্ধারিত দিনেও তাকে পাওয়া যায় না। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে বিভিন্ন সরকারি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।
অন্যদিকে, ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম সপ্তাহে দুই দিন—বুধবার ও বৃহস্পতিবার—বিছনাকান্দি ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও তিনি নির্ধারিত সময়ে কার্যালয়ে উপস্থিত হন না বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি প্রায়ই দুপুর ১২টা থেকে ১টার দিকে অফিসে আসেন। এতে জন্মনিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিতে আসা মানুষ দুর্ভোগে পড়ছেন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ট্রেড লাইসেন্সের জন্য আসা স্থানীয় বাসিন্দা আজাদ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “সকাল সাড়ে ৯টার দিকে অফিসে এসেছি। বেলা সাড়ে ১১টা হয়ে গেলেও ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা আসেননি। বিষয়টি হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীর আলমকে জানালে তিনি আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন।”
আজাদ মিয়া আরও অভিযোগ করেন, ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক বদরুল ইসলাম অফিসের ফোনে জাহাঙ্গীর আলমকে নির্দেশনা দিলেও তিনি লাইসেন্সটি প্রদান করেননি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, “সপ্তাহে দুই দিন বুধবার ও বৃহস্পতিবার বিছনাকান্দি ইউনিয়নে অফিস করি। বিছনাকান্দি ইউপির নামে এখনো আইডি হয়নি। তাই রুস্তমপুর ইউপির আইডি ব্যবহার করে বিছনাকান্দির জন্মনিবন্ধনসহ অন্যান্য নাগরিক সেবা দিতে হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “বুধবার সকালে রুস্তমপুর অফিসে বিছনাকান্দির জমে থাকা কাজ এবং একটি এনজিও সংস্থার মিটিং থাকায় সেখানে যেতে দেরি হয়েছে।”
বিছনাকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক বদরুল ইসলাম বলেন, “আগে সপ্তাহে একদিন ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বিছনাকান্দিতে অফিস করতেন। নাগরিক সেবার চাপ থাকায় এখন বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুদিন অফিস করার কথা বলা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা অফিসে দেরিতে আসা এবং হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরের বিরুদ্ধে সেবা গ্রহীতার সঙ্গে অসদাচরণের বিষয়টি শুনেছি। বিষয়টি দেখার জন্য বর্তমানে কোম্পানীগঞ্জে অফিসের কাজে রয়েছি।”
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী বলেন, “সরকারি চাকরি করে সময়মতো অফিসে না আসার কোনো সুযোগ নেই। ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা কেন সময়মতো অফিসে আসেননি এবং হিসাব সহকারী কেন সেবা গ্রহীতার সঙ্গে খারাপ আচরণ করবেন—এ বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদে নির্ধারিত সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিকদের সঙ্গে জনবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি ও দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর