তাহিরপুরে বালু কেলেংকারী দামাচাপা দিতে এলজিইডি প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ফেক আইডিতে অপ-প্রচার

প্রকাশিত: 7:53 PM, September 14, 2026

তাহিরপুরে বালু কেলেংকারী দামাচাপা দিতে এলজিইডি প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ফেক আইডিতে অপ-প্রচার

মোঃ আব্দুল শহীদ সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ইদানিং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক বেশ কয়েকটি ফেইক (ভুয়া) আইডি খুলে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। মানহানীকর অপপ্রচারে এমন হয়েছে যে, ভুক্তভোগীরা রীতিমতো অসহায় বোধ করছেন। যে কারনে এলজিইডি প্রকৌশলী,সরকারি কর্মকর্তা,জনপ্রতিনিধি,রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সহ অনেকটাই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন। এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন শ্রেনী পেশার লোকজনও থানায় সাধারন ডায়রী করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এসব অপ-প্রচারকারী নিকৃষ্ট ব্যক্তিদের ফেইক আইডি সনাক্তের পর সাইবার ট্রাইবুনালে মামলার প্রস্ততি চলছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, বিগত প্রায় জুলাই-আগষ্টের পর বিভিন্ন দপ্তরের প্রকৌশলী,সরকারি কর্মকর্তা,জনপ্রতিনিধি,রাজনৈতিক নেতা সহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে’
তাহিরপুরের খবর,তাহিরপুরের কন্ঠ,যাদুকাটা টিভি
সহ একাধিক ফেইসবুক ভুয়া (ফেইক) আইডিতে এলজিইডি প্রকৌশলী মো জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে “বালু কেলেঙ্কারির অভিযোগে অবশেষে ফেঁসে গেলেন তাহিরপুরের এলজিইডি প্রকৌশলী। উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে মজুদ করা বালু নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। শান্তিপুর এলাকা থেকে আনা ওই বালু অবৈধভাবে মজুদ করা হয়েছে। তবে তাহিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম দাবি করেছেন, উপজেলা পরিষদের একটি কাজের জন্য ঠিকাদার ওই বালু এনে সেখানে মজুদ করেছেন। পরে
শুক্রবার থেকে টানা দুই দিন উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বিপুল পরিমাণ বালু মজুদ করে রাখা হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ওই সময় বালুর মালিকানা বা বৈধতার বিষয়ে কেউ প্রকাশ্যে কোনো তথ্য দেননি বলে স্থানীয়রা জানান।

পরে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে গিয়ে বালু জব্দ করেন বলে জানা গেছে। ইউএনও বালুগুলোকে শান্তিপুরের বেওয়ারিশ বালু হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে পরবর্তীতে উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, উপজেলা পরিষদের একটি কাজের জন্য ঠিকাদার বালুগুলো সেখানে এনে রেখেছেন।
অসৎ উদ্দেশ্যে নানা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে প্রকৌশলী মো জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ওই সকল আইডি থেকে মিথ্যা-ভিত্তিহীন, কুরুচিপূর্ণ, অপমানজনক ও মানহানিকর তথ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। এসব অপ-প্রচারের কারনে প্রকৌশলী সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছেন। ইতিমধ্যে ফেইক আইডি’র বিরুদ্ধে সাধারন ডায়রী করারও প্রস্তুতি চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় থানা পুলিশ বলছে, এসব আইডি সনাক্ত করতে আইন-শৃংখলা বাহিনী গোয়েন্দা শাখার (সিআইডি) স্পেশাল ব্রাঞ্চের (আইটি শাখা) কাজ করছে। সময় বেশী লাগলেও এসব ফেইক আইডি সনাক্ত করা যাবে।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জানান, উপজেলা প্রশাসনের নতুন ভবনের পাইলিংয়ের কাজের জন্য সেলিম এবং জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে বালু ক্রয় করি। কিন্তু তারা বালুর বৈধ কাগজপত্র দিতে না পারায় তাদের বালু ক্রয় করিনি।

প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জানান,গত দু’দিন ধরেই কয়েকটি ভুয়া আইডি থেকে কুরুচিপূর্ণ ও মিথ্যা বানোয়াট তথ্য প্রচার করছে। একটি সিন্ডিকেট চক্র তাদের স্বার্থ হাসিল না হওয়ার কারণে আমার কাছে বিভিন্ন সময়ে চাঁদা দাবি করছে। মূলত ঐ চক্রটি আমার পেশাগত দায়িত্ব, সামাজিক ও পারিবারিক সম্মান ক্ষুণ্ন করার জন্যই এসব করছে। এসবের সাথে আমি কখনও জড়িত ছিলাম না,বর্তমানেও নেই। বর্তমানে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাই স্থানীয় প্রশাসন সহ জেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি। এই ফেইক আইডি সামাজিক অস্তুুষ সৃষ্টি করতে পারে,এটাকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। এসব অপপ্রচারকারি নিকৃষ্ট ব্যক্তিদের ফেইক আইডি সনাক্ত হলেই সাইবার ট্রাইবুনালে মামলা করবো। পরিশেষে ঐ অপ-প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাই।

তাহিরপুর উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক বললেন,আমি ফেইসবুকে দেখেছি প্রকৌশলী মো জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বালু কেলেংকারী অপ-প্রচারের বিষয়টি। তবে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি এলজিইডি প্রকৌশলীকে জানিয়ে ঠিকানার এখানে বালু স্তুপ করে রেখেছে। ঐ বালু জব্দ করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিলাম করা হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর