ঢাকা |
প্রকাশিত: 7:32 PM, September 14, 2026
তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র নিলাদ্রী লেক (কোয়ারীর পাড়) সংলগ্ন সরকারি খাস জমিতে অবৈধ ঘর নির্মাণ করে অসামাজিক কার্যকলাপ ও মাদক ব্যবসার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড বরাবরে এক লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
স্থানীয় মৃত রুমিজ আলীর ছেলে লাকমা গ্রামের বাসিন্দা আনফর আলী এ লিখিত আবেদন দায়ের করেন।
আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়, ৩ নং বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়নের বিন্দারবন গ্রামের ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বদি মিয়ার ছেলে অদুদ মিয়া বড়ছড়া মৌজার ট্যাকের ঘাট নিলাদ্রী লেক কোয়ারীর পাড়ে সরকারের খাস জমির ওপর অবৈধভাবে একটি ঘর তৈরি করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই ঘরে বেনামে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে পর্যটকবাহী হাউসবোট নৌকার কাছে চড়া দামে বিদ্যুৎ বিক্রি করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, টাকার বিনিময়ে পর্যটক নারী-পুরুষ দিয়ে সেখানে নানা ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও আবেদনে জানানো হয়।
এছাড়া, স্থানীয় কিছু যুবককে ব্যবহার করে ওই স্থান থেকে প্রতিনিয়ত ভারতীয় মদ, গাঁজা ও ইয়াবা বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন আবেদনকারী। এসব অপকর্মের তথ্য সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে।
আবেদনে আরও জানানো হয়, গত কয়েকদিন আগে ১০০ পিস ইয়াবাসহ বদি মিয়ার আপন ভাতিজা আব্দুল ছাত্তার (পিতা: রশীদ মিয়া) পুলিশের কাছে ধরা পড়েন এবং তিনি বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন। অভিযোগকারীর মতে, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের লাঠিয়াল বাহিনীর ভয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ এতদিন মুখ খোলার সাহস পাননি।
আবেদনকারী জানান, উক্ত স্থান থেকে দ্রুততম সময়ে অবৈধ ঘর ও দখলদারদের উচ্ছেদ করা না হলে তাহিরপুরের যুবসমাজ এবং সেখানে আসা পর্যটকদের জন্য বড় ধরনের ক্ষতি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হবে।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমির) দৃষ্টি আকর্ষণ করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে দ্রুত আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়েছে।
স্থাপনাকারী ঘরের মালিক বদি মিয়া বলেন, আমার জায়গার মধ্যে আমি ঘর নির্মাণ করেছি। ব্যক্তি মালিকানা কিংবা সরকারি খাস খতিয়ানের ভূমি যদি আমার স্থাপনার ভেতর পড়ে তাহলে আমি ছেড়ে দেব।
তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো ফারুক মিয়া বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সহকারী কমিশনার ভূমি শাহরুখ আলম শান্তনু বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইন গত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host