আন্তর্জাতিক পরমাণু বিজ্ঞানী হিসেবে রেখেছেন অনন্য অবদান
ড. সেখ আব্দুল লতিফ ছিলেন সুবিপ্রবির গৌরব

প্রকাশিত: 7:28 PM, September 14, 2026

<span style='color:#077D05;font-size:19px;'>আন্তর্জাতিক পরমাণু বিজ্ঞানী হিসেবে রেখেছেন অনন্য অবদান</span> <br/> ড. সেখ আব্দুল লতিফ ছিলেন সুবিপ্রবির গৌরব

শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ


‎সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হিসেবে অত্যন্ত সুনাম ও দক্ষতার সাথে দুই বছর দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক ড. সেখ আব্দুল লতিফ। যার জন্ম ১৯৬৭ সালে ঢাকার রাজবাড়ী জেলা সদরের বিনোদপুর গ্রামে। তিনি জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ হতে অত্যন্ত সফলতার সাথে ১৯৮৭ সালে স্নাতক এবং নিউক্লিয়ার ফিজিক্স নিয়ে ১৯৮৯ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

‎পরবর্তীতে বিশ্বের টপ ইউনিভার্সিটি- টোকিও মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি, গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব সায়েন্স, টোকিও, জাপান থেকে “উল্কাপিণ্ডের গঠন নির্ণয়ে বিভিন্ন নিউক্লিয়ার প্রযুক্তির প্রয়োগযোগ্যতা” নিয়ে গবেষণা করে ডি.এসসি. (Doctor of Science) ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ২০০২ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত পোস্ট-ডক্টরাল ফেলো, ল্যাবরেটরি অব রেডিওআইসোটোপ রিসার্চ সেন্টার, গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব সায়েন্স, টোকিও জাপানে সম্পন্ন করেন।


১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ এটমিক এনার্জি কমিশনে যোগদান করেন এবং ২০১৮ সালে প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সমমান), বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (BAEC), ঢাকা, বাংলাদেশ থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন। এটমিক এনার্জি কমিশনের নানা স্তরে যেমন – বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, INST, AERE, ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (INST), অ্যাটমিক এনার্জি রিসার্চ এস্টাবলিশমেন্ট (AERE) সহ নানা সেক্টরে সাফল্যের ছাপ রাখেন।

এছাড়া, (২০০৯- ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রেষণে) এবং ২০২৪ সাল পর্যন্ত কিং আবদুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয় (KAU), জেদ্দা, সৌদি আরবে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ও সেন্টার ফর ট্রেনিং অ্যান্ড রেডিয়েশন প্রোটেকশন, প্রকৌশল অনুষদে শিক্ষকতা করেন।

যার পেশাগত অভিজ্ঞতায় রয়েছে – রিঅ্যাক্টরভিত্তিক ইনস্ট্রুমেন্টাল নিউট্রন অ্যাক্টিভেশন অ্যানালাইসিস, রেডিওকেমিক্যাল নিউট্রন অ্যাক্টিভেশন অ্যানালাইসিস, প্রম্পট গামা নিউট্রন অ্যাক্টিভেশন অ্যানালাইসিস এবং রেডিওকেমিক্যাল ফোটন অ্যাক্টিভেশন অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে পরিবেশগত নমুনার মৌলিক বিশ্লেষণ, দ্রুত নিউট্রন (J-25 নিউট্রন জেনারেটর) এবং তাপীয় নিউট্রনভিত্তিক গবেষণা রিঅ্যাক্টর ব্যবহার করে নিউক্লিয়ার ডেটা পরিমাপ। উচ্চ-রেজোলিউশনের হাই-পিউরিটি জার্মেনিয়াম (HPGe) ডিটেক্টর ব্যবহার করে পরিবেশগত তেজস্ক্রিয়তা নির্ণয়। গামা-রে স্পেকট্রোস্কোপি ব্যবহার করে খাদ্যদ্রব্যে তেজস্ক্রিয়তা পর্যবেক্ষণ।


উল্লেখযোগ্য ভাবে তিনি যে সকল বিষয়ে পাঠদানে পারদর্শী সেগুলো হলো নিউক্লিয়ার ফিজিক্স, নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর ফিজিক্স, মেডিকেল ও হেলথ ফিজিক্স, রেডিয়েশন প্রোটেকশন, ইলেকট্রনিক্স ও এক্সপেরিমেন্টাল টেকনিকস।


গর্বের আরেক দিক হলে তিনি সফল গবেষক হিসেবে “কৃষিজমির মাটি, সার ও কিছু কৃষিপণ্যে প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপ” শীর্ষক প্রকল্প- KSA Grant No. (04-414/430), Deanship of Scientific Research, KAU, KSA এবং মানব বিহীন চন্দ্র যানে “Unmanned Lunar Mission-এর Landing Trajectory Generation পরিচালনার জন্য HUAPO Technique নামে একটি Hybrid Approach” শীর্ষক প্রকল্প। DSR General Project, Grant No. G-127-135-1443, Deanship of Scientific Research, KAU, KSA এ কাজ করেন।


অত্যন্ত প্রখর সাংগঠনিক দক্ষ ব্যক্তি হিসেবে তিনি বাংলাদেশ এটমিক এনার্জি কমিশনের রিটায়ার্ড সাইন্টিস্ট এসোসিয়েশন এর তিন বারের সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন ( বর্তমান সময় পর্যন্ত দায়িত্ব পালনরত আছেন)। এছাড়া, তিনি বাংলাদেশ ফিজিক্যাল সোসাইটির এবং বাংলাদেশ কেমিক্যাল সোসাইটির আজীবন সদস্য।

‎আন্তর্জাতিক গবেষণা পত্র হিসেবে বিশ্বের সুনামধন্য জার্নালে ৩৯ টি গবেষণা পত্র, আন্তর্জাতিক সম্মেলনের প্রবন্ধ- ০২টি, জাতীয় জার্নালে-১৬টি, আন্তর্জাতিক কনফারেন্স/সিম্পোজিয়াম/মিটিংয়ে অ্যাবস্ট্রাক্ট- ১১টি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রকাশিত রিপোর্ট- ০২টি রয়েছে।


সর্বশেষ, ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে কাজ করে গিয়েছেন। এমন সুনামধন্য যোগ্য ব্যক্তিত্ব সবার জন্য অনেক গর্বের।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর