মৌলভীবাজারে শিম গাছে মোজাইক রোগের আক্রমণ

প্রকাশিত: ১১:২১ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৭, ২০১৯

মৌলভীবাজারে শিম গাছে মোজাইক রোগের আক্রমণ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : গাছে হলুদ ও গাঢ় সবুজ ছোপ ছোপ করা মোজাইক করা পাতা দেখা যায়। বাড়ন্ত পর্যায়ের গাছের কাণ্ড ও পাতায় এ রোগের আক্রমণ। মৌলভীবাজারের জুড়ীতে শিমে ভাইরাসজনিত এই মোজাইক রোগের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। জুড়ী উপজেলার বাছিরপুরে ভাইরাসজনিত শিমের মোজাইক রোগের আক্রমণে অনেক চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ রোগের প্রাদুর্ভাবে শিম গাছ মারা গেছে অনেক কৃষকের।

তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের একজন ইসলাম উদ্দিন। প্রতি বছর রবিশস্য হিসেবে মাঠে শিম, বরবটি, শসা, করলা, লাউ, টমেটোসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেন। বিশেষ করে শীতকালীন সবজি শিমের চাষ বেশি করেন তিনি। ফলনও ভালো হয়। কিন্তু এ বছর মোজাইক রোগের আক্রমণে তার বেশির ভাগ শিম গাছ মারা গেছে। কয়েকটি গাছে ফুল দিলেও ফুল মারা যায়। তিনি জানান, গত বছর তার মাঠ থেকে প্রতিদিনে ১৫-২০ কেজি করে শিম গাছ থেকে সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু এ বছর শিমের পাতা হলুদ হয়ে গাছগুলো ধীরে ধীরে মারা যাচ্ছে। এবং কিছু গাছ মারাও গেছে।

এ রকম রোগে শিম নষ্ট হয়েছে হাফিজুর রহমান, আছাদ উদ্দিন ও সিরাজুল ইসলামসহ আরো অনেকের। কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, জুড়ী উপজেলার বাছিরপুর এলাকায় জরিপ করতে গিয়ে কয়েকটি রোগের লক্ষণ পেয়েছে কৃষি অফিস। তার মধ্যে শিমের পাতার হলুদ রোগ বা মোজাইক রোগ, শিম ও বরবটিতে জাবপোকা বা ছাইপোকা, পঁচা রোগ বা মড়ক, লাউ, কুমড়া ও মিষ্টি লাউয়ে মাছি পোকার আক্রমণ।

শিমের পাতার হলুদ রোগ বা মোজাইক রোগ দমনে ইমিটাফ (ইমিডাক্লোরোপ্রিড গ্রুপের) জাতীয় কীটনাশক, শিম ও বরবটিতে জাবপোকা বা ছাইপোকা দমনে টাফগর কীটনাশক, পঁচা রোগ বা মড়ক দমনে রিডোমিল গোল্ড কীটনাশক,  এবং লাউ, কুমড়া ও মিষ্টি লাউয়ে মাছি পোকা দমনে প্রতি ৫ শতাংশের জন্য সেক্স ফেরোমন ফাঁদ বা ফেরোমন ট্যাব ব্যবহার করলে এ রোগগুলো দমন সম্ভব বলে জানায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

জুড়ী উপজেলা কৃষি অফিসের উপ সহকারি কর্মকর্তা পংকজ কান্তি বিশ্বাস বলেন, আমরা বাছিরপুর এলাকায় রোগগুলোর প্রাদূর্ভাব পেয়েছি। এ নিয়ে কৃষকদের সাথে কথা বলে রোগ দমন করার জন্য পরামর্শ দিয়েছি। নিয়মিত কীটনাশক ব্যবহার করলে এ রোগ দমন করা সম্ভব। মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী লুৎফুল বারী জানান, ভাইরাসজনিত মোজাইক রোগ শিমের মারাত্মক ক্ষতি করে। এ রোগ দমনে নিয়মিত কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে। বাকি রোগগুলো দমনে পটাশ সার ব্যবহার করা যেতে পারে।

সর্বশেষ ২৪ খবর