ঢাকা ৩১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১:১১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৫, ২০১৯
কুলাউড়া প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় চিরনিদ্রায় সমাহিত হলেন ভাষাসংগ্রমী রওশন আরা বাচ্চু। বুধবার ৪ডিসেম্বর সকাল ১১.২০ মিনিটে কুলাউড়া নবীন চন্দ্র সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাঁর তৃতীয় জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাযার নামাজে অংশ নেয়া বক্তারা তাঁকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মান একুশে পদকে ভূষিত করার জোর দাবি জানান। এসময় তাঁকে শেষ বারের মতো শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ প্রশাসন, কুলাউড়া উপজেলা প্রশাসন, কুলাউড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন।
জানাযায় পূর্বে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অংশ নেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরীন, পুলিশ সুপার মো. ফারুক আহমদ, সাবেক এমপি মো. আব্দুল মতিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম ফরহাদ চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) সাদেক কাওসার দস্তগীর, কুলাউড়া পৌরসভার মেয়র শফি আলম ইউনুছ, কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইয়ারদৌস হাসান, ভাষা রক্ষা স্মৃতি পরিষদের সহ-সভাপতি মুসলেহ উদ্দিন মজলিস, কুলাউড়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ফজলুল হক খাঁন সাহেদ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রেণু, সাধারণ সম্পাদক আসম কামরুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নেহার বেগম, কুলাউড়া সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. আব্দুল হান্নান, সাবেক মেয়র কামাল উদ্দিন আহমদ জুনেদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বাচ্চু, কুলাউড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মতিন, কুলাউড়া ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম শামীম প্রমুখ।
দেশের জন্য ভাষা সৈনিক রওশন আরা বাচ্চু’র অবদান ও ত্যাগ উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, তাঁকে যেন সম্মানসূচক একুশে পদক (মরণোত্তর) ভূষিত করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান বক্তারা। তাঁকে সম্মানিত করা হলে এই মহীয়সী নারীর ত্যাগ কিছুটা হলেও স্বার্থক হবে। তিনি ছিলেন একজন নারী শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবী। নিজ এলাকার ঐতিহ্যবাহী নারী শিক্ষা কেন্দ্র কুলাউড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান রয়েছে। তিনি এই বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে (১৯৫৮-১৯৬২) পর্যন্ত ৪ বছর প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন।
এসময় রওশন আরা বাচ্চ’র পরিবারের পক্ষে বক্তব্য রাখেন তাঁর ছোট মেয়ে তানভীর ফারহানা ওয়াহিদ। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমার মায়ের শেষ ইচ্ছা ছিল তাঁর ছোট ভাইয়ের পাশে যেন কবর দেয়া হয়। সেই দাবির প্রেক্ষিতে আমাদের পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। আমার মায়ের মৃত্যুর আগে শেষ ইচ্ছে ছিল বাড়ির পাশে এক একর ৮শতক জমি রয়েছে। সেখানে তাঁর নামে যেন একটি মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়। কলেজের বিষয়ে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ও সাবেক সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের সাথে কয়েকবার মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠা নিয়ে আমার মা আলোচনা করেন। এসময় মরহুমার মেয়ে তানভীর ফারহানা ওয়াহিদ জেলা প্রশাসন, কুলাউড়া প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, মায়ের শেষ ইচ্ছে যেন পূরণ করতে সবাই সহযোগিতা করেন। রওশন আরা বাচ্চু’র বোন সালেহা বেগম ও হোসনে আরাও ছিলেন ভাষা সৈনিক। সালেহা বেগম ময়মনসিংহে ও হোসনে আরা বেগম বরিশালে ভাষা আন্দোলন সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এমনটাই জানালেন রওশন আরা বাচ্চু’র বোনের ছেলে সৈয়দ শাকিল আহমদ। প্রসঙ্গত, ৩ নভেম্বর সকাল সোয়া দশটায় ঢাকা অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। জীবদ্দশায় তিনি বলতেন, ‘ভাষা বাঁচলে দেশ বাঁচবে।’ তাঁর মৃত্যুতে নিজ জন্মমাটি মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host