ঢাকা ৩১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৪:২২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৭, ২০১৯
স্বপন দেব, মৌলভীবাজার: ১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মৌলভীবাজার মুক্ত হয়েছিল। ’৭১ সালের ২ ডিসেম্বর রাতে তৎকালিন মহকুমা শহর মৌলভীবাজারের পূর্ব সীমান্তে শমসেরনগর বিমানবন্দর ও চাতলাপুর বিওপিতে পাকিস্থানি হানাদার বাহিনীর অবস্থানের মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সম্মিলিত আক্রমণ শুরু হয়েছিল। সেসময় তীব্র আক্রমণের মুখে হানাদার পাক সেনারা শমশেরনগর ঘাঁটিতে টিকতে না পেরে মৌলভীবাজার শহরে ফিরে আসতে থাকে।
মৌলভীবাজারে ছিল পাক সেনাদের ব্রিগেড হেড কোয়ার্টার। মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্র বাহিনী মৌলভীবাজার দখলের উদ্দেশ্যে ৪ ডিসেম্বর বিকেল ৪টার দিকে শহর থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে কালেঙ্গা পাহাড়ে অবস্থান নেয়। সেখানে বড়টিলা নামক জায়গায় পাক বাহিনীর সঙ্গে মিত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর তুমুল যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে মিত্র বাহিনীর ১২৭ জন সেনা নিহত হয়েছিল।
৫ ডিসেম্বর থেকে পাকিস্থানি হানাদার বাহিনীর প্রতিরক্ষা ব্যুহ ভেঙে পড়তে শুরু করে। ফলে মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্র বাহিনীর যৌথ হামলা প্রতিরোধ করতে তারা ব্যর্থ হয়ে পড়ে। এ অঞ্চলের পরাজিত পাকিস্থানি সৈন্যরা তখন সিলেট অভিমুখে পালাতে শুরু করে। এসময় তাদের এলোপাতাড়ি গুলিতে অনেক সাধারণ মানুষ নিহত ও জখম হয়েছিল।
সিলেটে যাওয়ার পথে তারা শেরপুরে অবস্থান নেয়। পরে অবস্থান নিরাপদ নয় মনে করে সিলেটের দিকে চলে যায়। এ সময় ঘাতক বাহিনীর পিছু হটার ফলে ৮ ডিসেম্বর পুরো মৌলভীবাজার হানাদারমুক্ত হয় এবং আকাশে উড়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা। তখন মৌলভীবাজারে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল ১৪৭০ জন। এরমধ্যে সংগঠক ছিলেন দুইশ’র বেশি।
বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক সাংসদ, বর্তমান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান সেই ৮ ডিসেম্বরের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘মৌলভীবাজার শত্রুমুক্ত হলে তৎকালীন মহকুমা প্রশাসকের বাংলোতে আমরা স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেছিলাম ৮ ডিসেম্বর সকালে। সেদিনটি আজও স্মৃতিতে সমোজ্জ্বল হয়ে আছে।’
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host