ঢাকা |
প্রকাশিত: 9:55 PM, September 24, 2026
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনার মধ্যে নতুন প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
মাজারের দান ও আয় নিয়ে সরকার, মাজারের খাদেম-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং সিলেটের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সংলাপের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এমন প্রস্তাব দেন শফিকুর রহমান।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাজারের আয় কীভাবে সমাজ ও ধর্মীয় কাজে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়ে সবার গ্রহণযোগ্য একটি টেকসই সমাধান হওয়া প্রয়োজন। কোনো পক্ষের ওপর চাপ প্রয়োগ করে নয়, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো উচিত।
শাহজালাল মাজারের দানের টাকা ব্যবহারের বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, কয়েক শ বছর ধরে এ বিষয়ে একটি প্রচলিত ব্যবস্থা চলে আসছে। এখন ৩৫ শতাংশ জেলা প্রশাসনের হিসাব এবং ৬৫ শতাংশ মাজার কর্তৃপক্ষের মধ্যে বণ্টনের যে ব্যবস্থা হয়েছে, সেটি নিয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, বিষয়টি ধর্মীয় হওয়ায় মাজারের আয় সমাজ ও ধর্মীয় কাজে ব্যবহার করা গেলে সেটি একটি ভালো দৃষ্টান্ত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে যারা মাজারের খেদমতের সঙ্গে যুক্ত ও সুবিধা গ্রহণ করেন, তারা একটি পক্ষ হতে পারেন। সরকার আর সিলেটের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তিদের নিয়ে ত্রিপক্ষীয় সংলাপ হতে পারে।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, সংলাপের মাধ্যমে সুন্দর কিছু বেরিয়ে আসতে পারে। তবে কোনো কিছু চাপ দিয়ে করার চেষ্টা করা হলে সমাধানটা সুন্দর নাও হতে পারে। আমরা চাই টেকসই সমাধান। এমন সমাধান, যেটা সবাই মন থেকে গ্রহণ করবে এবং সমাজের কল্যাণে কাজে লাগবে।’
শাহজালাল (রহ.)-এর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, তার কারণে সিলেটের এই মাটি গর্বিত। মাজার থেকে পাওয়া অর্থ সমাজ ও দ্বীনের কল্যাণে ব্যবহার করা হলে সেটি আরও বেশি মানুষের উপকারে আসতে পারে।
এ প্রসঙ্গে তিনি কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের দানের অর্থ ব্যবহারের উদাহরণও তুলে ধরেন। তার মতে, মাজারের আয় সমাজকল্যাণে ব্যবহারের একটি গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা করা গেলে মানুষের আস্থাও বাড়বে এবং দানের পরিমাণও বাড়তে পারে।
শফিকুর রহমান বলেন, মাজারের অর্থের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনা করে এমন একটি ব্যবস্থা করা প্রয়োজন, যাতে ধর্মীয় মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকে এবং সেই অর্থ সমাজের প্রয়োজনেও কাজে আসে।
প্রসঙ্গত সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের টাকা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি।
মঙ্গলবার ও ওই কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়, মাজারের দানবাক্সের টাকা প্রতিদিন গণনা করা হবে। দানের টাকার ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়কাজে জন্য ব্যাংকের একাউন্টে জমা রাখা হবে আর বাকী ৬৫ শতাংশ দিয়ে টাকা মাজারের দৈনন্দিন ব্যয় ও কর্মচারীদের বেতন নির্বাহ করা হবে।
মঙ্গলবার রাতে সিলেট সার্কিট হাউসে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির সভা শেষে এসব তথ্য জানান এই কমিটির সদস্য সচিব ও সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন।
জেলা প্রশাসক জানান, এখন থেকে শাহজালাল মাজারের দানের টাকা প্রতিদিন গণনা করা হবে। দানের টাকা থেকে ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়কাজে জন্য সোনালী ব্যাংকের একাউন্টে জমা রাখা হবে। এই একাউন্ট সিলেটের জেলা প্রশাসক ও মাজারের মতোয়াল্লির যৌথ সাক্ষরে পরিচালিত হবে। বাকী ৬৫ শতাংশ টাকা মাজারের দৈনদিন ব্যয় ও কর্মচারীদের বেতন নির্বাহ করা হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, টাকা গণনা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে মাজার কমিটির পক্ষে একজন ম্যানেজার নিয়োগ দেওয়া হবে। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন বা অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা হবেন। এছাড়া একজন হিসাব রক্ষক ও একজন অফিস সহকারী নিয়োগ দেওয়া হবে।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host