ঢাকা |
প্রকাশিত: 12:14 AM, June 23, 2021
নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেটে সাইবার ট্রাইব্যুনাল’র র্কাযক্রম চালু হয়েছে। ফলে সোস্যাল মিডিয়া ফেইসবুক’র কথিত লাইভ সাংবাদিক, বুম সাংবাদিক, অনলাইন পোর্টাল সাংবাদিকদের মধ্যে মামলা ও গ্রেপ্তার আতঙ্ক বিরাজ করছে। যে কোন সময় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের জামিন অযোগ্য মামলায় তারা গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যেতে পারেন, এ আশঙ্কায় ভোগছেন তারা। ফলে সিলেটের অনলাইন পোর্টাল ও সোস্যাল মিডিয়াগুলোর সংবাদ প্রকাশে ও বুম সাংবাদিকদের লাইভ প্রচারে অনেকটা ভাটা পড়তে শুরু করেছে।
সিলেটে অনলাইন পোর্টাল, ফে-বু লাইভ ও বুম সাংবাদিকের কোন হিসেব বা পরিসংখ্যান নেই। যার হতে মোবাইল ও বুম সেই সাংবাদিক। সংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি, তদবীরবাজি-সহ রকমফের অবৈধ ফায়দা হাসিল করে চলছে তারা। প্রশাসন ওদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে বস্তুত তাদের সমীহ করে চলছে। ফলে কথিত বুম সাংবাদি, লাইভ সাংবাদিক এবং কথিত অনলাইন সাংবাদিকরা একেবারে বেপরোয়া হয়ে যত্রতত্র ভিড় করতে শুরু করেছেন। কোন একটি রাজনৈতিক কিংবা সামাজিক প্রোগ্রাম করলে আয়োজকদেরকে অর্ধশত লাইভ সাংবাদিদের দিতে হচ্ছে সার্ভিস ফি নামে চাঁদা। অন্যথায় তারা এর বিরুদ্ধে অপপ্রচার করতেও দ্বিধাবোধ করে না।বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে লাইভ ও বুম দেখিয়ে চাদাবাজি, টাকার বিািনময়ে মিথ্যা তথ্য প্রচারের মাধ্যমে চাদা আদায়, মানহানীকর পোস্ট ও নিউজ প্রকাশ করে টাকার বিনময়ে আবার “পোস্ট হাইড” ব্যবসা প্রভৃতি নানা প্রকার ডিজিটাল অপরাধে লিপ্ত ফে-বু, লাইভ, বুম ও অনলাইন সংশ্লিষ্ট কথিত সাংবাদিকরা। তাদের এহেন আষ্ফালনে সিলেটে আপামর জনতা অতিষ্ঠ হয়ে পড়লেও প্রশাসনিকভাকে তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।
অন্যদিকে এসব অপরনাধে পেনাল কোডে মামলা হয় না। আবার উপর মহলের নির্দেশনা ছাড়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে থানায় কোন মামলা রেকর্ড হয় না। একটিমাত্র সাইবার ট্রাইব্যুনাল ঢাকায় থাকায় ভোক্তভোগীদের পক্ষে নালিশা মামলা করারও সুযোগ ছিল না। ফলে কথিত বুম সাংবাদিক, ফে-বু সাংবাদিক ও অনলাইন পোস্টালিষ্টদের কাছে সিলেটের মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েন। এদের উৎপাতে অনেকের পরিবার ধ্বংস হয়েছে, অনেকের মান সম্মান ভূলুন্ঠিত হলেও তাদের পক্ষে করার কিছুই ছিল না।
সম্প্রতি সিলেটে সাইবার ট্রাইব্যুনাল চালু হওয়ায় ভোক্তভোগীদের মধ্যে কিছুটা আশার সঞ্চার হয়েছে। অন্তত পক্ষে আইনত প্রতিবাদ করার সুযোগটা তাদের হাতের নাগালে এসে পৌঁছেছে। আর এতে করে সাংবাদিক নামের সাইবার ক্রিমিনালদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা ও গ্রেপ্তার আতংক।
গত ১৭ জুন সিলেটের সাইবার ট্রাইব্যুনালে সিলেট শহর ও শহরতলীর ৬ জন বুম সাংবাদিক, লাইভ সাংবাদিক ও পোর্টাল সাংবাদিকের নামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের জামিন অযোগ্য বিভিন্ন ধারায় একটি নালিশা মামলা হয়েছে। মামলাটি করেছেন সিলেট জেলা জজ আদালতের আইনজীবী সহকারী আতিউর রহমান। মামলায় তিনি তার পরিবার এবং জেলা জজ কোর্টের প্রখ্যাত আইনজীবি এডভোকেট খোরশেদ আলম সম্পর্কে আপত্তিকর, মিথ্যা, ভিত্তিহীন অপবাদমূলক ও চরম মানহানিকর বক্তব্য উপস্থাপন ও প্রবচার করে তাদেরকে সামসাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও পেশার ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্থ করার গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫(১)(ক), ২৬(১), ২৯)১), ৩৫(১) ধারায় দায়ের করা এ মামলায় যাদের আসামী করা হয়েছে-তারা হচ্ছেন-অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘সিলেট নিউজ প্রতিদিন’-এর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং হযরত শাহজালাল ২৪ অনলাইন টিভি’র সম্পাদক নিয়াজ মোহাম্মদ, অনলাইন নিউজ পোর্টাল নগরনিউজ২৪ এর সম্পাদক ও সাইফুল ইসলাম, সোস্যাল মিডিয়া ফেইসবুক’র বুম সাংবাদিক মামুনুর রশিদ শামীম, রুবেল আহমদ ও মিজানুর রহমান।
আসামীদের মধ্যে আব্দুল্লাহ আল মামুন- এসএমপি’র দক্ষিণ সুরমা মোগলাবাজার থানাধীন জাপান স্কুল রোডের বাসিন্দা। আসামী সাইফুল ইসলাম এসএমপি’র এয়ারপোর্ট থানাধীন দেবাইবহর গ্রামের আবদুল খালিকের পুত্র, বুম সাংবাদিক আসামী মামুনুর রশিদ শামীম এয়ারপোর্ট থানার ফতেগড় বাজারতলা গ্রামের বেলাল আহমদের পুত্র, আসামী রুবেল আহমদ একই এলাকার জামাল আহমদের পুত্র, আসামী মিজানুর রহমান ওই এলাকার আলাউদ্দিনের পুত্র। শাহজালাল ২৪ অনলাইন টিভির সম্পাদক নিয়াজ মোহাম্মদ-এর ঠিকানা তাৎক্ষণিক পাওয়া যায়নি। মামলা দায়ের পর সাইবার ট্রাইব্যুনাল সিলেট-এর বিচারক আবুল কাশেম মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সিলেট মেট্রোডিবি’র উপ-কমিশনারকে নির্দেশ প্রদান করেছেন।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host