ঢাকা ১২ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১১:৩০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেটের দক্ষিণ সুরমার এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর ঘরে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পরিবারটি। ঘটনাটি ঘিরে আতঙ্ক বিরাজ করছে ভুক্তভোগী পরিবারে। তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার কামাল বাজার এলাকার ছনুপাড়া গ্রামে এ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
হামলার শিকার ছাত্রীর নাম আমিনা আক্তার আখি। তিনি ওই গ্রামের আখতার হোসেনের মেয়ে।
আখির স্বজনরা জানান, বিএনপির বিজয় মিছিল থেকে আখির পরিবারের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই সময় হামলাকারীরা বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। যাওয়ার সময় পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে। এ ব্যাপার দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে পরিবারটি।
তারা জানান, অভিযুক্তরা সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলমের পোষা গুন্ডা। এলাকায় বখাটেপনা, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজি সবই চলে তাদের ইশারায়। ফ্যাসিস্ট আমলে গোটা এলাকায় ছিল জাহাঙ্গীরের একক আধিপত্য। দাপট খাটিয়ে এমন কোনো অপকর্ম নাই যে তিনি করেননি। বর্তমানে তিনি খোলস পাল্টেছেন। বিএনপির হাত ধরে তার অভিষেক হয়েছে। তিনি এখন বিএনপি মনোনীত বিজয়ী এমপি এম এ মালিকের অনুসারী।
জানা যায়, ছনুপাড়া গ্রামের আখতার হোসেনের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়ে আমিনা আক্তার আখির অধ্যনকালে প্রায়ই তাকে কুপ্রস্তাব দিতেন জাহাঙ্গীর। তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়াতে তিনি ভয়ভীতি প্রদর্শন করতেন। নিজের গুন্ডাবাহিনীকে লেলিয়ে দিতেন আখির পেছনে। তারাও রীতিমত অসহ্য যন্ত্রণা দিতো আখিকে। কখনওবা তুলে নেওয়ার হুমকি, কখনও প্রকাশে ধর্ষণের হুমকি আবার কখনও প্রাণনাশের হুমকি দিতো জাহাঙ্গীরের বখাটে সন্ত্রাসীরা। এমতাবস্থায় মেয়ের জান-মালের কথা চিন্তা করে দ্রুত বিয়ের ব্যবস্থা নেয় পরিবার। একপর্যায়ে খুব দ্রুত তা বাস্তবায়নও করা হয়। বিয়ের পর থেকে স্বামীকে সাথে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করেন আমিনা আক্তার আখি। কিন্তু এসবের তোয়াক্কা করে না জাহাঙ্গীর বাহিনী। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে আখি ও তার স্বামীর উপর হামলা করে। এতে গুরুতর আহত হন দুজনই। চিকিৎসা গ্রহণ করে বাড়ি ফেরার পর জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন আখি। নিরাপত্তার স্বার্থে ও প্রতিকার পাওয়ার মামলা করলেও সেই মামলাটি দুর্বিষহ হয়ে উঠে তার জীবন। মামলার পর থেকে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে জাহাঙ্গীরের সাঙ্গপাঙ্গরা। তারা প্রতিদিনই রাস্তায় ওঁৎপেতে থাকে আখির সর্বনাশ করার জন্য।
এদিকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এলাকা থেকে গা ঢাকা দেয় জাহাঙ্গীর। ছাত্র-আন্দোলনে হামলার অভিযোগে বেশ কয়েকটি মামলাও হয় তার বিরুদ্ধে। গ্রেফতার এড়াতে পলাতক থাকা জাহাঙ্গীরের হাত থেকে কিছুটা হলেও রেহায় পায় আখি ও তার স্বামীর পরিবার। কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই আবার বিএনপির হাত ধরে মাঠে আবির্ভাব ঘটে জাহাঙ্গীরের। পলাতক থেকেও সিলেট-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এম এ মালিকের হাত ধরে বিএনপিতে অভিষেক হয় তার। এলাকায় আবারও শুরু হয় তার দাপট। চলতে থাকে পূর্বের সব অপকর্ম। আর এসবের শেল্টার দিতেন খোদ এম এ মালিক।
স্থানীয়রা জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এম এ মালিক বিজয়ী হওয়ার পর সন্ধ্যায় আনন্দ মিছিল বের করে স্থানীয় বিএনপি। ওই মিছিলে নেতৃত্বে ছিলো সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা ও ৫-৬টি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি জাহাঙ্গীরের গুন্ডাবাহিনী। জাহাঙ্গীরের হুকুমে মিছিলের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তারা হামলা চালায় আখিদের বাড়িতে। এসময় ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় জাহাঙ্গীরের সন্ত্রাসী বাহিনী। পরে গ্রামবাসীদের তোপের মুখে পিছু হাটতে বাধ্য হয় হামলাকারীরা। তারা যাওয়ার সময় আখিকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শন করে স্থান ত্যাগ করে।
হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন দক্ষিণ সুরমা থানার অফিসার ইনচার্জ। তিনি বলেন, ‘এমন আনন্দঘন মুহূর্তে একটু এদিক সেদিক হতেই পারে। বিষয়টিকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে আমি মনে করি না। এটি নিছক একটি দুর্ঘটনা।’ এ বিষয়ে এখনও কেউ অভিযোগ দায়ের করেনি, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host